ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লব স্মরণে জাতীয় গল্প ও উপন্যাস প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর পুরস্কার বিজয়ী ২৯টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থ এবং নির্বাচিত ৯টি উপন্যাসের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ডাকসুর সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দীন খান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ সম্পাদিত গল্প সংকলনটির নাম ‘মহাকালের মর্সিয়া’। অন্যদিকে নির্বাচিত ৯টি উপন্যাস হলো—‘রক্তে লেখা জুলাই’, ‘জনতার অভ্যুত্থান’, ‘শ্রাবণের কান্না’, ‘ধূসর কৃষ্ণচূড়া’, ‘ব্যারিকেডের ওপারে’, ‘রক্তাক্ত কোটায় কৃষ্ণচূড়া’, ‘রক্তে ভেজা জুলাই’, ‘লস্করহাট’, ‘লাল জুলাইয়ের দিনগুলো’ ও ‘ইলিশ ফাইল’।
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, জাতীয় ‘জুলাই গল্প ও উপন্যাস’ প্রতিযোগিতায় প্রায় এক হাজার গল্প ও উপন্যাস জমা পড়েছিল। সেখান থেকে বাছাই করা ২৯টি গল্প নিয়ে একটি সংকলন এবং ৯টি উপন্যাস পৃথকভাবে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে ডাকসু। ইতোমধ্যে আমাদের আটটি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন হয়েছে এবং আজকের প্রকাশনাগুলোও খুব শিগগিরই শিক্ষার্থী ও পাঠকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাইকে ঘিরে রচিত এসব গল্প ও উপন্যাস ভবিষ্যতে জুলাইয়ের ইতিহাস ও সমাজ-বাস্তবতা গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। নতুন প্রজন্মের লেখকদের লেখালেখি অব্যাহত রাখার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে ঢাকাকেন্দ্রিক ও বাংলাদেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার নিজস্ব সাহিত্যধারা আরও শক্তিশালী হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা ও লক্ষ্য।
‘জুলাইয়ের মানবিক ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’
ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দীন খান বলেন, জুলাইকে শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য বোঝা যাবে না। এটি ছিল সাধারণ মানুষের আবেগ, স্বপ্ন ও অধিকার আদায়ের আকাঙ্ক্ষা থেকে গড়ে ওঠা এক অভ্যুত্থান।
তিনি বলেন, সেই আবেগ ও মানুষের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাগুলোকে সাহিত্য, গল্প ও উপন্যাসের মাধ্যমে ডকুমেন্টেড করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই ডাকসুর এই উদ্যোগ। মাঠে থাকা লেখকদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা এসব লেখা জুলাইয়ের মানবিক ও আবেগের ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডাকসুর এজিএস আরও বলেন, জুলাইয়ের অন্যতম অর্জন হিসেবে পাওয়া ডাকসুর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডাকসুর ধারাবাহিকতা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং শিক্ষার্থীরাও নিজেদের অধিকার ও কণ্ঠস্বর রক্ষায় সোচ্চার থাকুন।
‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি জুলাইকে স্মরণ ও সংরক্ষণের শক্তিশালী মাধ্যম’
ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, জুলাইকে স্মরণ ও সংরক্ষণের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম সাহিত্য ও সংস্কৃতি। সহস্রাধিক গল্প-উপন্যাস থেকে বাছাই করা ২৯টি গল্প ও ৯টি উপন্যাসের মাধ্যমে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আবেগ, ত্যাগ, শহীদদের আত্মদান ও মানুষের অভিজ্ঞতাগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, এসব লেখা শুধু বই নয়, আগামী দিনের গবেষণা, সিনেমা ও নাটকেরও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠবে। জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখার এই উদ্যোগে ডাকসু তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
এস. এম. ফরহাদ আরও বলেন, গত এক বছরে নানা বাধা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ডাকসু অসংখ্য কাজ বাস্তবায়ন করেছে এবং ক্যাম্পাসকে দলীয় দখলদারিত্বমুক্ত ও নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত হওয়া জরুরি। তাই দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের সুযোগ দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই।
রিয়াদুল ইসলাম যুবার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাবির সিনেট সদস্য ও ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য আনাছ ইবনে মনির, আয়োজন সহযোগী রিজওয়ান মানসুরী, সাইমুম ফেরদৌস, আশফাক উল্লাহ আসিফ, সুহাইল মাহদীন, গার্ডিয়ান পাবলিকেশনের সিও মাহমুদুল হাসান সিএসএসসহ হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।