স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের পানিবন্দি মানুষদের সহায়তায় জরুরি গণতহবিল সংগ্রহ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১০৫তম ব্যাচের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১২ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও কলাভবনে দুটি বুথের মাধ্যমে এই গণত্রাণ কর্মসূচি শুরু হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন আবাসিক হল, শ্রেণিকক্ষ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভাসমানভাবে ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। নগদ অর্থের পাশাপাশি বুথগুলোতে ত্রাণসামগ্রীও গ্রহণ করা হবে।
জানা যায়, ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম ব্যাচের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নাঞ্চলের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজন অনুযায়ী সেসব এলাকায় সরাসরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ঢাবির ১০৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জানান, সংগৃহীত অর্থ দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন, পলিথিন এবং জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী কেনা হবে। এরপর চট্টগ্রামের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরাসরি দুর্গত এলাকায় পানিবন্দি মানুষদের হাতে এই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।
কর্মসূচির সমন্বয়কারী ইফতেখার ইসলাম তানভীর বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি ও কলাভবনের সামনে দুটি বুথের মাধ্যমে ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আমরা প্রাথমিক অবস্থায় নগদ অনুদানের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী সাদরে গ্রহণ করব।”
তিনি আরও বলেন, “কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করতে আমাদের টিমকে বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগভিত্তিক ভাগ করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। পাশাপাশি হলভিত্তিক প্রচারণা ও ক্রাউডফান্ডিং কার্যক্রমও পরিচালিত হবে, যাতে আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।”
এই সমন্বয়কারী আরও বলেন, “এটি শুধু একটি ত্রাণ কর্মসূচি নয়, এটি মানবতার পাশে দাঁড়ানোর একটি সম্মিলিত উদ্যোগ। তাই এই মানবিক যাত্রায় সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্তভাবে কামনা করি। একই সঙ্গে সকলের নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট বা বড় যে কোনো সহযোগিতা কামনা করছি।”