হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

৪৫তম বিসিএস গেজেটে বাদ পড়াদের ‘আত্মাহুতি’র হুঁশিয়ারি

প্রতিনিধি, ঢাবি

৪৫তম বিসিএসে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া ৫৪ জন প্রার্থীকে পুনরায় গেজেটভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা।

আগামী শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে তাদের বিষয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত না এলে রাজধানীর শাহবাগে ‘আত্মাহুতি’র কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘৪৫তম বিসিএসে বৈষম্যের শিকার গেজেটবঞ্চিতরা’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিসিএসের সব ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও ৫৪ জন প্রার্থীকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট ও ন্যায়সংগত কারণ ছাড়াই এভাবে বাদ দেওয়ায় তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। তারা সরকারের কাছে বাদ পড়ার কারণ ব্যাখ্যা এবং যোগ্য প্রার্থীদের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

প্রার্থীরা বলেন, তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তাদের কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই বলে দাবি করেন তারা। রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কাউকে চাকরিতে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হলে তা বৈষম্যমূলক হবে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।

গেজেটবঞ্চিত প্রার্থী নূরে আলম নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, তিনি ৪৪তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারে সুপারিশ পেয়ে বর্তমানে সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশ পেলেও তাকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ৪৪তম বিসিএসে চাকরিতে যোগদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেলেও ৪৫তম বিসিএসে তাকে কী কারণে বাদ দেওয়া হলো, সে বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চান তিনি। তার দাবি, বিসিএসের সব ধাপ অতিক্রম করে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না করার যৌক্তিক কারণ জানাতে হবে।

আরেক গেজেটবঞ্চিত প্রার্থী একরাম গাজী হৃদয় বলেন, তিনি প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েও গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। তার ভাষ্য, মানববন্ধনে উপস্থিত প্রার্থীদের কারও বিরুদ্ধে মামলা বা অপরাধের রেকর্ড নেই। রাজনৈতিক কারণে কাউকে বঞ্চিত করা হবে না—সরকারের এমন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রার্থী বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। তারা প্রশ্নফাঁস বা অনিয়মের মাধ্যমে ক্যাডার পদে সুপারিশ পাননি; বরং নিজ যোগ্যতায় বিসিএসের সব ধাপ অতিক্রম করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ওই প্রার্থী বলেন, যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযোগ না থাকা যোগ্য প্রার্থীদের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

৪৫তম বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়ার তথ্য তুলে ধরে আরেক প্রার্থী বলেন, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর এ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ১ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করে পিএসসি। গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে তাদের মধ্যে ১ হাজার ৭০২ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ১০৫ জন গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হননি।

তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, বাদ পড়া ১০৫ জনের মধ্যে ৪৮ জন মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নেননি। অন্যদিকে, সব ধাপ অতিক্রম করার পরও ৫৪ জন প্রার্থী গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। তাদের ক্ষেত্রে কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান তাঁরা।

বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা। বিসিএসের সব ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করার পরও কোনো প্রার্থীকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হলে তার পেছনে সুনির্দিষ্ট ও ন্যায়সংগত কারণ থাকতে হবে। তারা সরকারের কাছে নিজেদের বাদ পড়ার কারণ জানতে চান।

নিজের রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এক প্রার্থী বলেন, কলেজজীবন থেকে শুরু করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন, ২০১৩-১৪ সালের বিভিন্ন কর্মসূচি, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডের পরও তাকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার কারণ কী, তা জানতে চান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে তারা শোষণ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সংরক্ষণের কথা বলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া গেজেট থেকে বাদ পড়ার ঘটনা তাদের হতাশ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওই প্রার্থী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না—এমন আশ্বাসের পরও তাদের বাদ পড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। তারা সরকারের কাছে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।

মানববন্ধন থেকে প্রার্থীরা জানান, আগামী শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যৌক্তিক সমাধান না এলে ওই দিন শাহবাগে ‘আত্মাহুতি’র কর্মসূচি পালন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। একই সঙ্গে ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ৫৪ জন প্রার্থীকে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জবি ক্যাম্পাসে গরু নিয়ে আনন্দ মিছিল

জগন্নাথ হলে নিহতদের স্মরণে ঢাবি শিবিরের সমবেদনা

জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির ৪১ বছর

চবি ছাত্রদল সেক্রেটারির বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজির অভিযোগ, তদন্তের দাবি চাকসু ভিপির

চুরি হওয়া ফোন ডাকসুর উদ্যোগে ফিরে পেলেন ঢাবির তিন শিক্ষার্থী

পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে জকসুর বিক্ষোভ, প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

রাকসুর মেডিক্যাল ক্যাম্পে ৫ হাজার ৪৩৭ শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্যসেবা

শিক্ষক রাবি ছাত্রদল নেতা, ক্লাস নেন তার মামা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন ছাত্রীদের সংবর্ধনা দিল ছাত্রীসংস্থা

তিন দিনে শাবিপ্রবির তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ক্যাম্পাসে শোক