হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

সাহিত্য-সংস্কৃতির নতুন ভাবনা নিয়ে ডাকসুর ‘প্রকাশ’

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা, বর্ষ: ২০২৫, সংখ্যা: ০২ ‌‘প্রকাশ’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ডাকসুর সভাকক্ষে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- সাহিত্য পত্রিকাটির সম্পাদক এবং ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, সমাজের সংস্কৃতি মূলত সাহিত্যের মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকে। একটি সমাজ কীভাবে চলত, সেই সময়ে সমাজে কী কী উপাদান ছিল, মানুষের জীবনযাপন কেমন ছিল, সমাজ কীভাবে বিকশিত হচ্ছিল, এসব জানতে হলে আমাদের সেই সময়ের গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও স্মৃতিচারণ পড়তে হয়। এসব সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়েই আমরা একটি সমাজকে পাঠ করতে পারি। আজ থেকে এক হাজার বছর আগে কোনো একটি দেশের সমাজ কেমন ছিল, এটি জানতে গেলেও আমাদের সেই সময়ের গল্প, উপন্যাস ও সাহিত্য খুঁজতে হয়। সেটি ফার্সি ভাষায় হোক, ইংরেজিতে হোক, ল্যাটিনে হোক কিংবা হিব্রু ভাষায়—যে ভাষাতেই লেখা হোক না কেন, কোনো একটি সময়, দেশ বা সমাজকে বুঝতে হলে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাহিত্যের কাছেই ফিরে যেতে হয়।

তিনি বলেন, আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, ডাকসুর উদ্যোগে অন্তত ২০টি ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হবে। এরই মধ্যে আজকেরটি আমাদের পঞ্চম প্রকাশনা অনুষ্ঠান। এর আগে আমরা বিভিন্ন সাময়িকী ও নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছি, যেখানে আপনারা উপস্থিত থেকেছেন। এর পাশাপাশি নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এমন বৈচিত্র্যময় লেখাগুলোকে আমরা আমাদের নিয়মিত ম্যাগাজিনে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছি। আমাদের প্রথম নিয়মিত ম্যাগাজিনের নাম ছিল ‘আভাস’। আপনারা সেই ম্যাগাজিনের প্রকাশনা অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। আর এবারের ম্যাগাজিনের নাম ‘প্রকাশ’। এটি আমাদের নিয়মিত ম্যাগাজিনের দ্বিতীয় সংখ্যা। এই সংখ্যায় আপনারা স্মৃতিলেখা, গল্প, কবিতা, বুক রিভিউসহ বিভিন্ন ধরনের লেখা পাবেন। এক কথায়, যে যে মাধ্যমে একটি সমাজকে পাঠ করা যায়, সমাজের বিকাশের সূচক বোঝা যায়, সংস্কৃতিকে উপলব্ধি করা যায় এবং বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষের চিন্তা ও আচরণকে অনুধাবন করা যায়—সেসব সাহিত্যিক মাধ্যমকে আমরা এখানে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ডাকসু সাহিত্য পত্রিকা 'প্রকাশ' এর সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী আমরা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সবার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করব এবং সবাইকে ধারণ করব। আপনারা জানেন, সাহিত্য অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের খরা রয়েছে। অনেক সময় সাহিত্য সবাইকে ধারণ করতে পারে না। আজকে বাংলাদেশের যে সামগ্রিক সংকট, তার মূলেও রয়েছে সমগ্র মানুষকে ধারণ করতে না পারার বিষয়টি। আপনারা যদি আজকের বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির দিকে তাকান, তাহলে দেখতে পাবেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী একটি দেশের শহরকেন্দ্রিক একটি প্রভাববলয় এখানে বিদ্যমান। অথচ ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, আলাওল থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে যে সমস্ত কাব্য রচিত হয়েছে, আমাদের ঐতিহাসিক ও প্রাচীন সাহিত্যগুলোর একটি বড় অংশই পূর্ববঙ্গে রচিত হয়েছে। আলাওল, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য কিংবা প্রায় হাজার বছরের পুরোনো অন্যান্য সাহিত্যকর্মের দিকে তাকালেও আমরা এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ঐতিহ্যের পরিচয় পাই। আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ, যিনি পুঁথি সংগ্রাহক হিসেবে সবচেয়ে বেশি খ্যাতি অর্জন করেছেন, তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের মানুষ। তার হাতে বিপুলসংখ্যক প্রাচীন পুঁথি ও পাণ্ডুলিপি জমা হয়েছিল। এটিই প্রমাণ করে যে, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে এই অঞ্চলের অবদান কতটা সমৃদ্ধ ছিল এবং প্রাচীন বাংলাদেশের সাহিত্য কতটা ঐশ্বর্যশালী ছিল।

তিনি আরও বলেন, সাহিত্য বিকশিত হয় প্রণোদনার ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে। আলাওল যে ‘ইউসুফ-জুলেখা’ কাব্য রচনা করেছিলেন, তিনি তা লিখতে পারতেন না, যদি আরাকান রাজসভায় তিনি পৃষ্ঠপোষকতা না পেতেন। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের ক্ষেত্রেও বিষয়টি সত্য। সাহিত্যের ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ শাসকের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছেন, কেউ পেয়েছেন পাঠকের পৃষ্ঠপোষকতা। আমরা যদি মনে করি সাহিত্য হবে মানুষের, সাহিত্য হবে মানুষের কণ্ঠস্বর, সাহিত্য হবে সমাজের দর্পণ—সাহিত্যের মধ্যে সমাজের সব ভুল-ত্রুটি, সংকট ও বাস্তবতাকে তুলে ধরতে হলে এবং সমাজের সমস্যাগুলোর সমাধানের একটি মাধ্যম হিসেবে সাহিত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতাকে ক্ষমতা কাঠামোর হাত থেকে সরিয়ে পাঠকের হাতে নিয়ে আসতে হবে।

আর সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে প্রকাশনার নিকট থেকে যাতে লেখক তাঁর প্রাপ্য রয়্যালিটি যথাযথভাবে বুঝে পান। তাহলেই নতুন নতুন নজরুল তৈরি হবে, ফররুখ তৈরি হবে, রবীন্দ্রনাথ তৈরি হবে। এই প্রত্যাশা রেখে এবং আজকের যে পত্রিকাটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, পাশাপাশি সামনে যে পত্রিকাগুলো প্রকাশিত হবে, সেগুলোর সার্বিক সফলতা কামনা করছি।

সাহিত্য পত্রিকাটির সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন সাবিকুন্নাহার তামান্না, আফসানা আক্তার, খন্দকার নুর হোসাইন, রিয়াদুল ইসলাম যুবা, রিজওয়ান য্যুবরান মানসুরী, সায়মুম ফেরদৌস, আসফাকউল্লাহ আসিফ ও সুহাইল মাহদিন প্রমুখ।

রিয়াদুল ইসলাম যুবার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন (খান জসিম), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হায়দার, কমনরুম রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমা সহ ডাকসু, হল সংসদ ও ঢাবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দিয়ে খাতা মূল্যায়ন: নরসিংদীর সেই মাদরাসা শিক্ষক আজীবন বহিষ্কার

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দ্রুত বিল আনা হবে, ওয়াদা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালের রেজিস্ট্রেশন শুরু

পার্শ্ববর্তী দেশের পানি বৈষম্যের কারণে তিস্তা এখন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন সংশোধনে বিল

অসলো চুক্তির ৩৩ বছর: ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি থেকে দখলদারত্বের বাস্তবতা

লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের আহ্বান

গ্যাসের অভাবে শিল্পোৎপাদন ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কমেছে: জামায়াত এমপি

মিরপুরে অস্ত্র-গুলিসহ সন্ত্রাসী ‘শুটার জাকির’ গ্রেপ্তার

জেনেভায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ উদ্যোগের প্রশংসা