হোম > ফিচার > ক্যাম্পাস

জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া দুই ভিপি প্রার্থী সবার নজরে

জমির উদ্দিন চট্টগ্রাম ও আতিকুর রহমান চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে লড়ছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া দুই প্রার্থী। তাদের একজন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি। অন্যজন ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়। তারা এবারের নির্বাচনি প্রচারে শিক্ষার্থীদের নজর কেড়েছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার কারণে নির্বাচনি মাঠে এগিয়ে আছেন তারা। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, তারা নির্বাচিত হলে দাবিদাওয়া সঠিকভাবে বাস্তবায়নে কাজ করতে পারবেন।

ছাত্রশিবিরের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি আন্দোলনের সময় সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই রনিকে স্বাগত জানিয়ে শিবির ও শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন, যেখানে জুলাই আন্দোলনের ছবি, ভিডিও ও মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসে শেয়ার করা হচ্ছে।

শিবিরের কর্মীরা বলছেন, রনির নেতৃত্বে আন্দোলনটি সংগঠিত ছিল। শিক্ষার্থীরা তার সততা, নেতৃত্বগুণ এবং আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে সমর্থন করছেন। ভোটেও তার প্রতিফলন হবে বলে তারা আশা করছেন।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ও জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ছাত্রদলের প্রার্থী শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া পূরণে সক্রিয় ছিলেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রেখেছেন।

ছাত্রদলের কর্মীদের মন্তব্য, যে আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের পাশে শিক্ষার্থীদের সমস্যা আরো ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন। তাই তারা এমন প্রার্থীকে সমর্থন দিতে চান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, ভিপি পদে এমন নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারবেন। এছাড়া প্রার্থীদের সততা, দায়িত্বশীলতা এবং আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ তাদের ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় করেছে।

এ নির্বাচনে শিবিরের ভিপি পদে রনি ছাড়াও জিএস পদে শাখা সাহিত্য সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব এবং এজিএস পদে শাহজালাল হল শাখার সভাপতি সাজ্জাদ হোসাইন মুন্নাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ছাত্রদলের জিএস পদে মো. শাফায়াত হোসেন এবং এজিএস পদে আইয়ুবুর রহমান তৌফিককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

চাকসুর ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, আমি এ দায়িত্ব গ্রহণ করছি শুধু রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও সুশাসনের নিশ্চয়তা দিতে চাই। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে কাজ করা আমার মূল লক্ষ্য ছিল। সে অভিজ্ঞতা আমাকে শিক্ষা দিয়েছেÑনেতৃত্ব শুধু পদে থাকা নয়; বরং দায়িত্ব পালন করাও।

রনি বলেন, আমার প্রতিশ্রুতি হলো ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের সমস্যা, তাদের নিরাপত্তা, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং শিক্ষামূলক পরিবেশ উন্নয়নের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করব। শিক্ষার্থীদের কোনো দাবি অবহেলিত থাকুক এটি আমরা চাই না । আমার কাজ হবে আন্দোলনের চেতনাকে কার্যকর বাস্তবে রূপান্তর করা।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সুশৃঙ্খল, সুরক্ষিত এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা। আমি আশা করি শিক্ষার্থীরা আমাকে এ বিশ্বাস ও দায়িত্ব দিয়ে ভোটে সমর্থন করবেন, যাতে আমরা একসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে পারি।

ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, আমি চাই ছাত্ররাজনীতি শুধুই আন্দোলন বা ভোটের খেলা নয়; বরং এটি হোক শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানের প্ল্যাটফর্ম। আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য, মেধা বিকাশ, ক্লাসের মান, বর্ধিত লাইব্রেরি সুবিধা এবং মনোবল বৃদ্ধির জন্য কাজ করব। আমার নির্বাচনি প্রচার হবেÑ‘পরিচালনা এবং সহায়তার নেতৃত্ব’। আমি ভোট চাই শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস এবং দায়িত্ব নিয়ে, শুধু ভোটের সংখ্যার জন্য নয়।

সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, নির্বাচিত হলে আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরব এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করব। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন জায়গা বানাতে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদবোধ করবের, ক্লাসরুম ও ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং সব শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পাবেন। আন্দোলনের স্মৃতি বা পোস্টার নয়, বাস্তবিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীর জীবনে পরিবর্তন আনবে।

তিনি বলেন, আমি ছাত্রদলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হওয়া সত্ত্বেও ছাত্রদের জন্য কাজ করেছি। শিক্ষার্থীদের সব সংকটে পাশে থাকার পাশাপাশি অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম। এ কারণে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাকে অর্ধমৃত করে ফেরত পাঠিয়েছিল।

অনার্স শেষেও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পিডিএফ-এর ১৫ সদস্য পাচ্ছেন শিক্ষা বৃত্তি

কুবিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১৬ হাজার পজিশনেও সাবজেক্ট

ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সাংবাদিক ও ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, ডাকসুর নিন্দা

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী–সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ডাকসুর নিন্দা

চবিতে দুইদিনে ১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন

জাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আমার দেশের তাওহীদ, সম্পাদক ওসমান