ঢাকা মেডিকেল কলেজ
রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশীবাজারের কোলজুড়ে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে দেশের অন্যতম প্রাচীন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, যার দেয়াল, করিডোর আর শয্যার প্রতিটি চাদরে লেখা আছে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংগ্রাম ও মানবিকতার উপাখ্যান। ঢামেক হাসপাতাল কেবল একটি হাসপাতাল নয়, বরং জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতিচ্ছবি এবং লাখো মানুষকে সুস্থ জীবনে ফেরানোর এক অদম্য প্রচেষ্টার নাম।
১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রক্তাক্ত পটভূমি পার করে যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পথচলা শুরু, তখন কেউ ভাবতে পারেনি এই প্রতিষ্ঠান একদিন হয়ে উঠবে জাতির সবচেয়ে বড় চিকিৎসার দুর্গ। জন্ম ইতিহাসেই জড়িয়ে রয়েছে এর স্বকীয়তা। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় নির্মিত সচিবালয় ভবন, যা ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসে, সেই ভবনেই গড়ে ওঠে দেশের প্রথম আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মার্কিন সেনাবাহিনীর হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত এই ভবনে যুদ্ধপরবর্তী সময়ে শান্তির বার্তা নিয়ে শুরু হয় চিকিৎসাসেবা।
প্রথম অধ্যক্ষ মেজর উইলিয়াম জন ভারজিনের হাত ধরে চারটি বিভাগ—মেডিসিন, সার্জারি, গাইনোকোলজি ও ইএনটি নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে রয়েছে ৪২টিরও বেশি বিভাগ ও প্রায় ২ হাজার ৬০০ শয্যা, যেখানে দৈনিক সেবা পায় অন্তবিভাগে পাঁচ হাজারের অধিক রোগী। বহির্বিভাগে পাঁচ হাজার ও জরুরি বিভাগে রয়েছে দেড় হাজারের বেশি রোগী।
মহীরুহের মতো বিস্তৃত চিকিৎসা কাঠামোটি রোগী ও পরিবারের সদস্যদের শেষ আশ্রয়স্থল ও স্বস্তির কেন্দ্রবিন্দু। বিপুল সেবাযজ্ঞ ও নিরবচ্ছিন্ন দক্ষ চিকিৎসার জন্য এরই মধ্যে দেশ ও দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে ঢামেক হাসপাতালের সুনাম।
বছরে গড়ে ৮৫ হাজারের অধিক অস্ত্রোপচার
এখানে প্রতিবছর গড়ে ৫০ হাজারের অধিক বড় অস্ত্রোপচার এবং ৩৫ হাজারের বেশি ছোট অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ২০২৩ সালে এককভাবে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন আট লাখের বেশি রোগী। জরুরি বিভাগে সেবা নিয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ রোগী এবং ভর্তি হয়েছেন প্রায় দেড় লাখের মতো রোগী।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এমন এক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে যেখানে আলাদা হয় না সকাল-বিকাল, শীত-গ্রীষ্মে থামে না সেবা। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবেও দিন-রাত অব্যাহত থাকে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। এই প্রতিষ্ঠানে সহস্রাধিক চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্স স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন, যারা জীবনের প্রয়োজন তুচ্ছ করে রোগীর সেবাকে মুখ্যজ্ঞান করে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিদিন এখানে আসেন দরিদ্র থেকে বিত্তবান, শহরের প্রান্তিক থেকে গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত হাজারো রোগী।
বিশেষায়িত বিভাগসমূহ
ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসাসেবার পরিধি এখন আর শুধু সাধারণ ওয়ার্ড বা বহির্বিভাগে (আউটডোর) সীমাবদ্ধ নয়। এখানে রয়েছে আধুনিক ও বিশেষায়িত বিভাগসমূহ—নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ), শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (পিআইসিইউ), করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ), হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিট, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট, কেমোথেরাপি ও অনকোলজি বিভাগ, নিউরোলজি ও নিউরোসার্জারি ইউনিট, নেফ্রোলজি ও ডায়ালাইসিস কেন্দ্র, গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজি, এন্ডোক্রিনোলজি, প্যাথলজি, হেমাটোলজি, রিউমাটোলজি এবং ট্রমা কেয়ার ইউনিট ও ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার।
২০১৩ সালে চালু হয় দশতলাবিশিষ্ট নতুন ভবন ডিএমসিএইচ-২, যেখানে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিট। ২০১৪ সালে প্রথম সফল অটোলোগাস ট্রান্সপ্লান্ট এবং ২০১৯ সালে অ্যালোজেনিক ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়। এটি ছিল দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। প্রযুক্তি ব্যবহারে অগ্রগামী এই হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে রয়েছে আধুনিক এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ডিজিটাল এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ম্যামোগ্রাফি, সি-আর্ম ইমেজিং সুবিধা প্রভৃতি। ডায়াগনোস্টিক ল্যাবগুলোয় প্রতিদিন হাজারো রক্ত, প্রস্রাব, হরমোন, বায়োকেমিক্যাল ও মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
শক্তিশালী চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র
চিকিৎসার পাশাপাশি এটি একটি শক্তিশালী চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা এখানেই হাতেকলমে শিক্ষা নেন। ফেলোশিপ ও উচ্চতর ডিগ্রির জন্য এটি অন্যতম প্রধান পরীক্ষাকেন্দ্র। গবেষণা, সেমিনার ও রিসার্চে এটি একটি প্রাণবন্ত প্ল্যাটফর্ম। ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রতি বছর এমবিবিএসে প্রায় ২২০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, যার মধ্যে ১০ শতাংশ বিদেশি কোটা রয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ৮২তম ব্যাচ ক্যাম্পাসটিতে ঢোকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাঁচ বছরের দীর্ঘ কোর্স শেষে শিক্ষার্থীরা এক বছরের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল থেকে নিবন্ধন লাভ করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে উচ্চতর শিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অধীনে এমডি, এমএস, এমফিল, ডিপ্লোমা ও এফসিপিএস কোর্স পরিচালিত হয়। বর্তমানে কলেজে ৫০টিরও বেশি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি কোর্স চালু রয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ঢামেক হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ক্লিনিক্যাল ক্লার্কশিপ, বেডসাইড টিচিং ও রোগী পরিচালনার কাজ করে থাকেন। ইন্টার্নশিপ হচ্ছে শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে ছাত্ররা বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দক্ষতা অর্জন করে।
গবেষণায় সমৃদ্ধ অনন্য প্রতিষ্ঠান
ঢাকা মেডিকেল কলেজে গবেষণার জন্য নির্দিষ্ট বিভাগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের রিসার্চ মেথডোলজি ও থিসিস লেখার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রেগুলার সেমিনার, ক্লিনিক্যাল ক্লাব, জার্নাল ক্লাব, ওয়ার্কশপ ও কেস প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।
ইনস্টিটিউশনাল সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে—চারটি বড় লেকচার থিয়েটার ও দুটি কনফারেন্স রুম, লাইব্রেরি ও ই-লাইব্রেরি, ডিজিটাল প্রজেক্টর, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও হোস্টেল সুবিধা। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পাঁচ হাজার শয্যার আধুনিক ডিজিটাল সুপার স্পেশাল হাসপাতাল নির্মাণ, রোবোটিক সার্জারি চালু, হাসপাতাল ম্যানেজমেন্টে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন (ইএমআর) এবং একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রিসার্চ ইউনিট গঠন। এতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক মেডিকেল সেন্টারে রূপান্তরিত হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রতিবছর দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) ও অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হন। এ ছাড়া কলেজটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেডিকেল সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক চুক্তিতে আবদ্ধ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাস করে অজুত সহস্র চিকিৎসক সারা বিশ্বে মেডিকেল অঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতিরোধ ও বিপ্লবের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস
এই হাসপাতালের ইতিহাস শুধু সেবার নয়, বরং এর বাইরেও আছে প্রতিরোধ ও বিপ্লবের ইতিহাস। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত সময়কাল বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের ছিল অগ্রণী ভূমিকা। ব্যারাক হোস্টেল নামে পরিচিত ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসটি ছিল প্রতিবাদের কেন্দ্রস্থল। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো শহীদদের স্মরণে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের চত্বরে। এটি ছিল প্রতিবাদের প্রতীক এবং ভাষার তরে আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ওঠে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের সেবার প্রধান আশ্রয়স্থল। চিকিৎসক, ছাত্র ও নার্সেরা যুদ্ধক্ষেত্রে ও হাসপাতালের ওয়ার্ডে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়েছেন। অনেক চিকিৎসক, যেমন—অধ্যাপক ডা. ফজলে রাব্বি ও অধ্যাপক ডা. আলিম চৌধুরী পাক হানাদারদের হাতে শহীদ হন।
১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত সময়কাল ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার যুগ। সামরিক শাসন, হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন ও ছয় দফা আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। চিকিৎসা শিক্ষার পাশাপাশি তাদের মননে মিশে যায় রাজনৈতিক সচেতনতা, যা ভবিষ্যৎ আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় শহীদ হন ঢামেকের চিকিৎসক শামসুল আলম খান মিলন। তিনি ছিলেন ঢাকা মেডিকেলের শিক্ষক ও চিকিৎসক সমাজের সক্রিয় সংগঠক। তার আত্মত্যাগ গোটা জাতিকে নাড়িয়ে দেয়। তার স্মরণে নির্মিত ‘মিলন চত্বর’ আজও প্রতিবাদ ও সাহসের প্রতীক হয়ে আছে। ১৯২০ সালের শুরুতে কোভিড মহামারিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও দিশাহারা হয়ে যায়। ওই সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হাজারো সীমাবদ্ধতা সামনে রেখে সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের নিয়ে বীরদর্পে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক অজানা শত্রুর বিরুদ্ধে।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে মানবতার দুর্গ ঢামেক
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আবারও মানবতার দুর্গ হিসেবে সামনে আসে। আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ ও মারাত্মক আহতদের দিন-রাতের পার্থক্য ভুলে ক্লান্তিহীন চিকিৎসা দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক, নার্স ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে রাজপথেও চিকিৎসকদের ছিল সরব ও সাহসী অবস্থান। সেই অস্থির সময়ের গল্প আজও হৃদয়কে কাঁপিয়ে তোলে। গুলিবিদ্ধ শিশু, রক্তাক্ত যুবক ও মেঝেজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাশের পাশে দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে কাজ করেছেন এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা। সারি সারি লাশ পাড়ি দিয়ে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) ছুটে গেছেন দরদি সার্জন। অনেকের জীবন বাঁচাতে ব্যবহার করা হয়েছে শত শত ব্যাগ রক্ত, অপারেশন থিয়েটারগুলো টানা চালু ছিল দিনের পর দিন। রক্তের তীব্র হাহাকার মেটাতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অস্থায়ীভাবে বসানো হয়েছিল ব্লাড ব্যাংক। হাজারো স্বেচ্ছাসেবী ক্লান্ত ঘর্মাক্ত দেহ নিয়েই শুয়ে গেছেন রক্তদাতার টেবিলে। অস্থির সেসব রাতে মেডিকেল চত্বরে তৈরি হয়েছিল ইতিহাসের আরেক স্মরণীয় অধ্যায়।
সবশেষে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তাই কেবল একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি রোগীসহ আপামর জনতার এক অনুপ্রেরণা, এক ভালোবাসা ও এক আস্থার স্থান। ভাষা, স্বাধীনতা, সত্য-ন্যায় ও অধিকার আদায়ের প্রশ্নে বাংলাদেশ যতবার লড়েছে, ততবারই পাশে ছিল ঢাকা মেডিকেল। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ও সময়ের আবেদনে ভবিষ্যতেও জেগে থাকবে। এ পথ ধরে হয়তো একদিন স্বাধীনতা পদক আর একুশের পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় স্বমহিমায় জ্বলজ্বল করে জ্বলবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের নাম।