বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখার উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী নববর্ষ প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন আয়োজন ও কার্যক্রম ঘিরে উৎসবটি শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও সাড়া ফেলেছে।
শনিবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আয়োজকরা জানান, ১৮ ও ১৯ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী এই উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উৎসবে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় কর্নার রাখা হয়। এর মধ্যে ছিল ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং সেবা, যেখানে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। পাশাপাশি কফি কর্নারে দর্শনার্থীদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয় এবং সমর্থক বুথের মাধ্যমে সংগঠনের সমর্থক নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এছাড়া সাহিত্য কর্নারে ইসলামী সাহিত্য ও বিভিন্ন বইয়ের প্রদর্শনী ও পর্যালোচনা করা হয়। প্রকাশনা কর্নারে সংগঠনের বিভিন্ন প্রকাশনা উপস্থাপন করা হয়। কর্মী, সাথী, সদস্য ও স্কুল পর্যায়ের জন্য পৃথক সিলেবাস কর্নার স্থাপন করে শিক্ষামূলক উপকরণ বিতরণ করা হয়।
উৎসবের অংশ হিসেবে জুলাইয়ের শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণ করে একটি ফটোগ্রাফি কর্নারও স্থাপন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক ও প্রতিবাদী লেখা প্রদর্শিত হয়।
এই প্রোগ্রাম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মতামত জানতে চাইলে শিক্ষার্থী কাওসার আলী বলেন, “এই প্রোগ্রামটি আসলে অনেক ভালো হয়েছে। এখানে শিক্ষণীয় অনেক কিছু ছিল। ছাত্র অবস্থায় আমরা অনেক সময় হতাশায় ভুগি; এখানে এসে দেখলাম অনুপ্রেরণামূলক অনেক বই রয়েছে, যা পড়লে শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত হতে পারবে। সব মিলিয়ে এটি একটি সুন্দর আয়োজন।”
অন্য এক শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, “শিবির এর আগেও ক্যাম্পাসে ইফতার মাহফিল আয়োজন করেছে, যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। তাই এখানে আসার মধ্যে আমি কোনো সমস্যা দেখি না। যদি সমস্যা থাকত, তাহলে ইফতার মাহফিলেই বাধা দেওয়া উচিত ছিল। এ নিয়ে তেমন সমালোচনার কারণ দেখি না।”
আয়োজক কমিটির সদস্য শিবলী সাদিক বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য, যেখানে তারা বই, সেবা ও মূল্যবোধ একসঙ্গে পাবে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের বেরোবি শাখা সভাপতি মো. সুমন সরকার জানান, নববর্ষকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা, নৈতিকতা ও জ্ঞানচর্চা ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে উৎসবটি ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করেছে।