হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

হলগ্রুপের অ্যাডমিনকে মারধর করল ছাত্রদল নেতা পারভেজ

চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত পোস্ট ডিলিট না করায়

স্টাফ রিপোর্টার

ফাইল ছবি

হলে সিট দখলের ইস্যুতে প্রতিবাদ করায় ছাত্রশক্তির দুই নেতাকে মারধরের একদিন না পেরোতেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলামকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। রোববার (২৮ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা কলেজ দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাসের গেটের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

একদিনের ব্যবধানে আরও একজনকে মারধরে জড়িত ওই ছাত্রদল নেতার নাম পারভেজ মোশাররফ। তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

মারধরের শিকার বৈমম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম বলেন, রাতের বেলা খেতে গেছি। খাওয়া শেষে আমি দোকানে চা খাইতে গেছিলাম। এ সময় পারভেজ ভাইসহ দুইজন হুট করে আমারে দেখে বলতেছে মইনুল তুমি হল গ্রুপের এডমিন। এই পোস্টটা কে করছে? রিফাত নামে একটা ছেলে একটা পোস্ট করছে তাকে আমি চিনি না।

তিনি জানান, এরপর তাকে ছাত্রদল নেতা পারভেজ মোশাররফ বলে, দলের বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই পোস্টটা এপ্রুভ করছে কেন? পোস্টটা ডিলিট করো। তখন বলেছি এটা তো আমার রেসপন্সিবিলিটির মধ্যে পড়ে না। ওই পোস্টটা আমি পড়িও নাই। এটা তো আমি ডিলিট করতে পারি না। আমি যেটা করতে পারি, যে পোস্ট করছে তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারি কেন পোস্ট করেছে। এরপর ছাত্রদলের পারভেজ ভাই আমাকে বলে তুই এক্ষুনি পোস্ট ডিলিট করবি নাইলে তোর খবর আছে। বিশ্রি ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করে।

তিনি আরও জানান, তখন আমি বলি, এটা কোন রাইটস নাই। পোস্ট ডিলিট করতে পারবো না। এরপরে পারভেজ ভাই আমার গলা ধাক্কা দিয়ে দোকান থেকে হলের অন্য সাইডে নিয়ে গেছে। ওখানে প্রায় ৬০/৭০ জনের মত জড় হয়ে গেছে। গত কালকে কি হয়েছে সেগুলো আমি জানি না। আমি রুমে ছিলাম কিন্তু হলে অবৈধ সিট দখল না কি হয়েছে সেটা জানতাম না।

মঈনুল আরও বলেন, ছাত্রদলের পারভেজ ভাই আমাকে বলেছে আমি হলের গ্রুপে কেন এডমিন। হলে কেউ গ্রুপ চালাতে পারবে না, কোন গ্রুপ চলবে না। তোর বন্ধু সজীব বেশি বাড়া বেড়ে গেছে। এসময় আমাকে হেনস্থার করার সময় তাকে থামানোর চেষ্টা করে কয়েকজন। আমাকে গলা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। পরে আমাকে ওখান থেকে হলে নিয়ে আসছে।

‘ঢাকা কলেজ হলপাড়া’ গ্রুপের ওই পোস্টে মোহাম্মদ রিফাত নামের একজন লেখেন, ‘নিউ মার্কেটে চাঁদাবাজি বলেন বা হলে সিট দখল সবখানে জড়িত ছাত্রদলের পারভেজ ও দ্বীন মোহাম্মদ সহ মিল্লাদ গ্যাং এর সদস্যরা।

হলের সিট দখলসহ নিউ মার্কেটে চাঁদাবাজি ও ঢাকা কলেজের সামনে ফুটপাতে দোকান বসানো এই সকল কিছুর সাথে জড়িত মহারথীরা হলো— সাগর, মাসুদুর রহমান জীবন, মিল্টর,সীমান্ত,ওহিদ ফরাজি, সিহাব, রিফাত হোসাইন, ফিরোজসহ আরো অনেকে। ঢাকা কলেজে সকল অপকর্মের পিছনে ইন্ধনদাতা হলো মিল্লাদ ও তার গ্যাং'।

যদিও বৈষম্যবিরোধী সাবেক নেতা মঈনুলকে মারধরের কিছুক্ষণ পর রাত ৮ টার দিকে দেওয়া ওই পোস্টটি ডিলিট করা হয়। এর আগে ওই পোস্টের কমেন্টে ছাত্রদল কর্মী ওহীদ ফরাজি ও নাবিল মাহবুব শান্ত প্রকাশ্যে পোস্টকারীকে পেটানোর হুমকি দেন। এছাড়াও গ্রুপের অ্যাডমিন প্যানেলের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা কলেজ দক্ষিণায়ন হলের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী হওয়ার পরও নীতিমালা লঙ্ঘন করে হলে অবস্থান ও আধিপত্য বিস্তার করছে ছাত্রদল নেতা পারভেজ মোশাররফ। এছাড়াও মাদারীপুর জেলার শিক্ষার্থীদের অবৈধভাবে হলে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ছাত্রদল নেতা পারভেজ এই বিষয়ে আমার দেশকে বলেন, মারধরের কোন ঘটনা ঘটে নাই। মারধর করলে তো আঘাতের চিহ্ন থাকবে? যেহেতু পোস্টটা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে, তাই আমি পোস্ট ডিলিট করে দিতে বলেছি। মইনুল পোস্ট ডিলিট করতে অস্বীকার করে। তখন আমি বলি যে, যেহেতু তুমি এই গ্রুপের এডমিন তাহলে ডিলিট করবা না কেন? এছাড়া মারধরের কোন ঘটনা ঘটে নাই।

এমবি

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গণমাধ্যম ও যুবসমাজের ভূমিকা জরুরি

ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা ছাত্রীর পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা তারিক

রাবির হলে থাকছেন ছাত্রদলের তিন কর্মী, নেই বৈধ আবাসিক কার্ড

গেজেটভুক্ত ৮৫৬ জুলাই শহীদের নামে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষ বিতরণ

পদ্মার তীরে ঘুরতে গিয়ে হামলার শিকার রুয়েটের তিন শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক আধিপত্য নয়, চাই প্রতিভার বিকাশ: শিশির মনির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বাজেট বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত

উপকূল বিষয়ক গবেষণায় পারভেজ চৌধুরীর পিএইচডি অর্জন

যবিপ্রবির নতুন উপ-উপাচার্য খুবি অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান

স্লোগান মিছিল মিটিংয়ের মাধ্যমে একটা জাতি গড়ে উঠতে পারে না