হোম > শিক্ষা > উচ্চশিক্ষা

জবির প্রশাসনিক ভবনে তালা, ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ উপাচার্য-কোষাধ্যক্ষ

প্রতিনিধি, জবি

বিশেষ বৃত্তির প্রথম কিস্তিতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০তম ব্যাচের (২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা ধরে তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি রাত গড়িয়ে গেলেও দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান করছে শিক্ষার্থীরা।

সকাল ১০টায় উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দুপুরের দিকে তীব্র আকার ধারণ করে। দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ভিসি ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। দিনভর ‘২০ ব্যাচ বঞ্চিত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘একশন টু একশন, ডাইরেক্ট একশন’ স্লোগানে মুখরিত ছিল ক্যাম্পাস।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস মেলেনি। বরং আন্দোলনের একপর্যায়ে পেছনের গেট দিয়ে কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ভবন ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা।

প্রশাসনের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানিয়েছিলাম, কিন্তু ভিসি স্যার আমাদের প্রতি সুদৃষ্টি দেননি। বাধ্য হয়ে আমরা গেটে তালা দিয়েছি। অথচ প্রশাসন পেছনের গেট দিয়ে ন্যাক্কারজনকভাবে পালিয়ে গিয়েছে, যা লজ্জাজনক। আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”

জকসুর এজিএস মাসুদ রানা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করে বলেন, “তোমাদের দাবি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে সবসময় তোমাদের সাথে আছি। আমরা ভিসি স্যারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।”

এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌসিন বলেন, “আমাদের একটি প্রতিনিধি দল কোষাধ্যক্ষ ম্যাডামের সঙ্গে আলোচনা করছে। লিখিত সিদ্ধান্ত ছাড়া আমরা এখান থেকে সরে যাব না।”

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আল্টিমেটাম দিয়ে জানিয়েছে, আবাসন বৃত্তির তালিকা সংশোধন করে চলতি মাসের (জানুয়ারি ২০২৬) মধ্যেই ২০তম ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীকে প্রথম কিস্তির টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ জানুয়ারি প্রকাশিত আবাসন বৃত্তির তালিকায় ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ৬ মাসের বৃত্তি দ্বিতীয় কিস্তিতে প্রদানের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এছাড়া নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের আবাসিক সুবিধা ভোগ করা সত্ত্বেও অনেকের নাম তালিকায় আসা এবং আবেদন না করা শিক্ষার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ ওঠে। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই শনিবার যৌথ বিবৃতিতে রোববার থেকে ভিসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা।

‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ অনুমোদন

শাকসু নির্বাচনের দাবিতে ফের শাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ

শাকসু নির্বাচনের নিশ্চয়তা না পেলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

রিটকারী ভিপিপ্রার্থী মমিনুরকে শাবিতে অবাঞ্চিত ঘোষণা

জবিতে মাস্টার্স প্রফেশনাল প্রোগ্রাম নীতিমালা সংশোধন ঘিরে বিতর্ক