রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে রাজপথে চলা এ বিক্ষোভ শনিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, আবাসিক হলের আসন বাতিলের হুমকি এবং অডিটোরিয়ামের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবির অভিযোগে এ বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নিজ কার্যালয়ে অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ রেখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ‘দফা এক দাবি এক, প্রিন্সিপালের পদত্যাগ’ এবং ‘প্রিন্সিপালের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের পাশাপাশি সম্প্রতি দুই আবাসিক শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যুৎ বিলের নামে জরিমানা দাবির ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটরিয়ামে তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি প্রথমে রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত করা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৪টা থেকে ৫টা বেজে যায়।
নির্ধারিত সময়ের পরও অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছা। পরে ওই শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক রাতের অডিটোরিয়ামের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাবাসসুম বলেছেন, ‘দুইটা স্টুডেন্টের সিট অযৌক্তিকভাবে বাতিল করার কারণেই এই আন্দোলনটা। আমরা ম্যাডামের কাছে হাত-পা জোড় করে ক্ষমা চাইলে ম্যাডাম বলেন, আমাদের স্যরি অ্যাকসেপ্ট করেছেন এবং শাস্তিস্বরূপ এক রাতের অডিটরিয়ামের বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা চাঁদা দিতে হবে। আমাদের স্টুডেন্টদের পক্ষে এই টাকা দেওয়া সম্ভব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা মওকুফ করা যায় কি না বলতে গেলে আমাদের একজন স্টুডেন্ট ম্যাডামের পা ধরেছে। কিন্তু ম্যাডাম ওই স্টুডেন্টকে পা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে চলে গিয়েছেন। বলতে গেলে একেবারে লাথি মারা ও ধাক্কা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে এসব বিষয় নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাদের বক্তব্য না শুনে ধমক দেন। এর পরপরই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দিয়ে অবস্থান নেন ছাত্রীরা।