ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, সুশাসন নিশ্চিত করা, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রবাসীবান্ধব ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে আট দফা দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদ।
সোমবার লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব দাবি তুলে ধরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদের আহ্বায়ক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গোলাম মোর্তুজা সিআইপি এবং সদস্য সচিব ব্যবসায়ী ও লেখক মাহমুদুর রহমান সুমন। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম নজরুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদের উপদেষ্টা ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংবাদিক বদরুজ্জামান বাবুল, পরিষদের সদস্য ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান, সদস্য অ্যাকাউন্ট্যান্ট আব্দুস সাত্তারসহ অন্যরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রেরণ, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের সঙ্গে প্রবাসীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বার্থ সরাসরি সম্পর্কিত।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এস আলম গোষ্ঠীর মাধ্যমে ব্যাংকটির পরিচালনা, মালিকানা পরিবর্তন, ঋণ বিতরণ এবং আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচার নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে প্রবাসী গ্রাহক পরিষদ।
আট দফা দাবি
ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্বাধীন, দক্ষ ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন; ব্যাংকের মালিকানা ও শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ পর্যালোচনা; আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং দ্রুত বিচারের জন্য আইনানুগ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং সব গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্ত ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা গ্রহণ এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় উদ্ধারকৃত অর্থ ও বাজেয়াপ্ত সম্পদ ব্যাংকের ক্ষতি পূরণে ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।
প্রবাসী গ্রাহকদের জন্য রেমিট্যান্স, অনলাইন লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবসহ ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি বিদেশি মোবাইল নম্বরে OTP-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই ও হিসাব ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানেরও দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে ব্যাংকের পরিচালনা, ঋণ অনুমোদন, নিয়োগ ও নীতিনির্ধারণে রাজনৈতিক বা অনুচিত করপোরেট প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রযোজ্য আইন ও নিয়ন্ত্রক যোগ্যতার শর্ত মেনে পরিচালনা পর্ষদে যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রবাসী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
হাইকমিশনের কাছে অনুরোধ
স্মারকলিপিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে, দাবিগুলো বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রবাসী গ্রাহক পরিষদকে অবহিত করা।
ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদ জানিয়েছে, তাদের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা, ব্যাংকে সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি গ্রাহকদের আস্থা সুদৃঢ় করা।
সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দাবিগুলোর বাস্তবসম্মত ও আইনসম্মত সমাধান প্রত্যাশা করেছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে বাংলাদেশের গ্রাহকদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও আইনানুগ কর্মসূচি গ্রহণের কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।