জাপানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দ্রুত সময়ের মধ্যে জাপান যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন নেতারা। তারা বলেন, সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে জাপান যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে নতুন কমিটি না থাকায় সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
রোববার জাপানের টোকিওর ওজি হকুতোপিয়া কমিউনিটি হলে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে উদযাপন করেন নেতাকর্মীরা।
যুবদল নেতা মাসুদ পারভেজ প্লাবনের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জাপান যুবদলের সংগঠক কাজী সাদেকুল হায়দার বাবলু। প্রধান অতিথি ছিলেন জাপান বিএনপির সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপান বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলমগীর হোসেন মিঠু, দপ্তর সম্পাদক আবুল খায়ের, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম তারেক, বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক ইমরান আল ইমু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ফরহার প্রিন্স চৌধুরী, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শেখ ফয়সালসহ বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর রেজাউল করিম রেজা বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জাপান যুবদলের ভূমিকা অতুলনীয়। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় সংগঠনটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, অতি শিগগিরই কেন্দ্রীয় যুবদলের সঙ্গে সমন্বয় করে জাপান যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে কাজী সাদেকুল হায়দার বাবলু ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জাপান যুবদলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দ্রুত জাপান যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণার জন্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ, সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পটভূমি এবং ৪৮ বছরের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পথচলার কথা তুলে ধরেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে যুবদলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।
বক্তারা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার, সুশাসন ও জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁরা বলেন, যুবসমাজের ঐক্য, রাজনৈতিক সচেতনতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং দারিদ্র্য বিমোচন ও মাদক নির্মূলে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ও উঠে আসে। বক্তারা জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক অপতৎপরতার অভিযোগ তুলে এসব মোকাবিলায় সাংগঠনিক ঐক্য ও সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানান বক্তারা। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত পন্থায় সক্রিয় থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা বলেন, প্রবাসে অবস্থান করলেও বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ও জাতীয় উন্নয়নের প্রশ্নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
আলোচনা সভা শেষে কেক কেটে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠান সফল করায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ, নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ জানান আয়োজকেরা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
এআরবি