বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এবং দেশের প্রথম চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক ও প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্রের পরিচালক ফজলুল হকের স্মরণে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও প্রদান করা হচ্ছে ‘ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার’। ২০০৪ সাল থেকে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন কর্তৃক প্রবর্তিত এই পুরস্কারে এ বছর ভূষিত হয়েছেন চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় মাহমুদা চৌধুরী এবং চলচ্চিত্র পরিচালনায় নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন।
আগামী ২৬ অক্টোবর ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চ্যানেল আই স্টুডিওতে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে তাঁদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। পুরস্কার হিসেবে তাঁদের প্রত্যেককে দেওয়া হবে অর্থমূল্য, সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট।
প্রখ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’ দিয়ে বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। এ বছর তাঁর নির্মিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘রইদ’ বিশ্বখ্যাত রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে লড়ে এবং দেশে-বিদেশে দর্শক-সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা পায়। সিনেমাটি ইতোমধ্যে আগামী ৯৯তম অস্কারে ‘আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে বাংলাদেশের অফিসিয়াল প্রতিনিধিত্ব হিসেবে মনোনীত হয়েছে।
অন্যদিকে, জ্যেষ্ঠ চলচ্চিত্র সাংবাদিক মাহমুদা চৌধুরী ১৯৭৮ সালে ‘সাপ্তাহিক বেগম’ পত্রিকার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরবর্তীকালে অধুনালুপ্ত ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রায় দেড় দশক কাজ করার পর তিনি যোগ দেন ‘দৈনিক দিনকাল’-এ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি গবেষণা ও লেখালিখিতেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ থেকে প্রকাশিত ‘জহির রায়হানের চলচ্চিত্র : সমাজ ভাবনা’ এবং ‘নারী : অর্ধেক পৃথিবী’ নামে তাঁর দুটি জনপ্রিয় বই রয়েছে।