নজরুলবর্ষ উদযাপনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘নজরুল নৃত্য উৎসব ২০২৬’। শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতা, মানবতাবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নৃত্যশিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার লক্ষ্যে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, ‘নজরুল সবসময় অসহায় নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আমাদের সমগ্র সমাজকে পুনরুজ্জীবীত করেছেন। শিল্পের নানা মাধ্যমে আমরা তাঁকে এভাবেই স্মরণ করতে চাই।’
স্বাগত বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘শাস্ত্রীয় সংগীতের ধারায় নজরুলের বড় অবদান রয়েছে। আমাদের জীবন, প্রেম ও বিরহ নৃত্যের তালে ফুটে ওঠে। নৃত্য আমাদের কল্পনার জগতকে প্রসারিত করে এবং এই উৎসবে আমরা তা উপভোগ করতে চাই।’
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও নৃত্য গবেষক আমানুল হক বলেন, ‘নজরুলের মানবতা ও দ্রোহের জায়গাগুলোকে নাচের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’ এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাঃ হারুন-অর-রশীদ।
আলোচনা পর্ব শেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় ‘শঙ্কা শূন্য লক্ষ কণ্ঠে’ নৃত্যটির মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। এরপর নাঈম খান ডান্স কোম্পানী ‘আমার কৈফিয়ত’ এবং নৃত্যযতন-ময়মনসিংহ ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি’ পরিবেশন করে। উৎসবে স্পন্দন, ভাবনা, নাচের দল সাধনা, বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস, স্পন্দনসহ ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রায় দুই ডজনেরও বেশি নৃত্যদল অংশ নেয়।
আয়োজকরা জানান, আগামীকাল ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬:৩০ টায় উৎসবের সমাপনী দিন অনুষ্ঠিত হবে। সেদিনও সমবেত নৃত্যের মধ্য দিয়ে নজরুলের গান ও কবিতার বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও সৌন্দর্যের বহুমাত্রিক রূপ ফুটিয়ে তোলা হবে। দু দিনব্যাপী এই আয়োজন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।