ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী স্থগিত
কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তি ও প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাময়িকভাবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটির প্রদর্শনী সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। শনিবার বেলা ৩টার দিকে জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ছবির প্রদর্শনীর হওয়ার কথা ছিল।
এমন একটি আয়োজন শেষপর্যন্ত স্থগিত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিত্বরা। এবার এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন ‘মহানগর’খ্যাত নির্মাতা আশফাক নিপুন।
তার মতে, প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ টিমের বিশেষ কোনো আর্থিক ক্ষতি নেই, তবে মোটাদাগে এই ক্ষতি মূলত বর্তমান সরকার ও মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চায় বিশ্বাসী মানুষদের।
গতকাল শনিবার, ৩০ মে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে নিপুন লিখেছেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস চলচ্চিত্রের প্রদর্শন জেলার কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদ নামের কতিপয় ফ্রিঞ্জ এলিমেন্টের (উগ্রবাদী মহল) কারণে বন্ধ হওয়ায় “বনলতা এক্সপ্রেস” টিমের বিশেষ কোনো অর্থনৈতিক ক্ষতি নাই। এই ছবি দেশ-বিদেশে যত মানুষ দেখছে, ভালোবাসছে, ব্যবসা করছে- তাতে কোনো এক জেলায় না দেখালেও মোটাদাগে কোনো লস নাই তাদের।’
‘ক্ষতিটা কাদের? অবশ্যই যারা মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চায় বিশ্বাস করেন, তাদের এবং অতি অবশ্যই বর্তমান সরকারের।’- যোগ করে লিখেছেন এই নির্মাতা।
সরকার প্রধানের উদ্দেশ্যে নিপুন বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত যে সরকার তাদের প্রধানমন্ত্রীর কন্যাসমেত ঢাকায় সিনেপ্লেক্সে ছবি দেখতে যাওয়াকে ব্যাপকভাবে সেলিব্রেট (উদযাপন) করেন, সেই সরকারের প্রথম ১২০ দিনের মধ্যেই দেশ-বিদেশে দারুণভাবে সমাদৃত ১০০ ভাগ খাঁটি দেশীয় ছবির স্থানীয় প্রদর্শনী বন্ধ হওয়া পুরাপুরি বিপরীতমুখী বার্তা দেয়। ইংরেজিতে যাকে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড (দ্বৈত নীতি) বলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলায় প্রবাদ আছে- “বিড়াল বাসর রাতেই মারতে হয়।” সরকারকে যদি নাগরিকদের কাছে প্রমাণ করতে হয় তারা সংস্কৃতিবান্ধব, তাহলে কথায়-কথায় যা মন চায় তা-ই বন্ধ করার সংস্কৃতিকে আইনগতভাবেই দমন করতে হবে। এবং সেটা শুধু এই এক ছবিকে প্রদর্শিত হতে দিয়ে না, বরং ভবিষ্যতে কোনো ছবি যদি বনলতা এক্সপ্রেস-এর মতো জনপ্রিয় না-ও হয়, সেটাও যেন প্রদর্শিত হতে পারে, যে-কোনো মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চা যেন বিকশিত হতে পারে- সেটা নিশ্চিত করার মাধ্যমে।’
সবশেষে একটি প্রশ্ন রেখে এই নির্মাতা বলেন, ‘কথিত আছে, বিএনপি সরকার সাংস্কৃতিকভাবে বরাবরই দুর্বল। এই দুর্নাম ঘোচানোর সুবর্ণ সুযোগ কি হেলায় হারাতে চাইবে এই সরকার?’
এদিকে, সিনেমাটির প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (ঢাবি সংসদ), নয়াগণতান্ত্রিক গণ মোর্চাসহ আরও বেশকিছু সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।