বাংলা গানের যুবরাজ আসিফ আকবরের কণ্ঠে ‘ট্রাজেডি পিলখানায়’ শিরোনামে একটি গান প্রকাশিত হয়েছিল আজ থেকে দেড় দশকেরও বেশি সময় আগে। সেই সময় আসিফ আকবরের সঙ্গে এই গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন ‘ক্ষুদে গানরাজ’খ্যাত শিল্পী পড়শী। পড়শী তখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়তেন।
বহু বছর পর আবারো নতুন সঙ্গীতায়োজনে ‘ট্রাজেডি পিলখানায়’ গানটি করা হয়েছে। তবে এবার আসিফ আকবরের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন ২০২৫ সালের ‘নতুন কুঁড়ি’র আধুনিক গানে চ্যাম্পিয়ন হওয়া রোদসী। কাকতালীয়ভাবে রোদসীও বর্তমানে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ছে। আজ ৯ অক্টোবর রোদসীর জন্মদিনে ‘আসিফ আকবর’ ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশ পাবে।
গানটি লিখেছেন রাজীব আহমেদ এবং সুর করেছেন দেশবরেণ্য তবলা শিল্পী, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক পল্লব স্যানাল। নতুন করে সঙ্গীতায়োজন করেছেন রাজিব হোসেন। গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন ইয়ামিন ইলান।
রোদসীকে এই গানে যুক্ত করার কারণ প্রসঙ্গে আসিফ আকবর বলেন, ‘এটি একটি মাইলস্টোন গান। ২০০৯ সালে রাজধানীর পিলখানায় যে ট্র্যাজেডি ঘটে যায়, সেখানে আমাদের ৫৭ জন অফিসার শহীদ হন। সেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে গানটি করেছিলাম। সেই সময় একটি বাচ্চা কণ্ঠের প্রয়োজন ছিল, তাই আমরা পড়শীকে নিয়েছিলাম। ১৭ বছর আগে গানটি যখন করি তখন একটি বৈরী সময় ছিল। এত বছর পর এসে মনে হলো গানটা নতুন করে করা প্রয়োজন। তখন আমি ইথুন বাবু ভাইকে ফোন করে রোদশীর সন্ধান পাই। বাবু ভাই বলার পর যখন রোদশীর কণ্ঠে গানটি শুনলাম, আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। রোদসী খুব ভালো গেয়েছে। আমার বিশ্বাস, সে অনেক দূর যাবে।’
শিল্পী রোদসী নূর সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার আসলে আনন্দের চেয়ে নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। ইথুন বাবু স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা আমার নামটি প্রস্তাব করার জন্য এবং আসিফ আকবর স্যারের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা আমাকে এই গানের সাথে যুক্ত করার জন্য। এটা সত্যিই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
রোদসী প্রসঙ্গে সুরকার পল্লব স্যানাল বলেন, ‘রোদসী আমার স্টুডেন্ট। সে ভীষণ ভালো গায় এবং তার কণ্ঠটা খুব আশাব্যঞ্জক। এই ধরনের কণ্ঠ সচরাচর পাওয়া যায় না। রোদসী যদি গানের ভুবনে সঠিক চর্চায় থাকে, তবে আমাদের দেশের আরেকজন পরিশীলিত ও মার্জিত সঙ্গীতশিল্পী শাকিলা জাফর হতে পারবে।’
রোদসী সম্প্রতি শিশু একাডেমির জুনিয়র কোর্স সম্পন্ন করেছেন এবং ছায়ানটেও গান শিখছেন। বর্তমানে তিনি হলিক্রস গার্লস হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। তার বাবা ড. মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী এবং মা ড. রেজিনা আহমেদ—দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সাথে যুক্ত।