নেপাল থেকে দেশে ফিরেছেন জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করে তিথি বলেন, ‘অনেকেই অভিযোগ করছেন ‘আলভী তার স্ত্রীকে শেষ দেখা দেখতে আসেননি, তার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে নেপালে ঘুমিয়ে আছে’-এটা ভুল কথা। আমি পুরো টিমের সঙ্গে গতকাল দেশে এসেছি। যেদিন ইকরা আত্মহত্যা করে ওই দিনও টিকিটের জন্য অনেক জায়গায় চেষ্টা করা হয়েছে। প্রথম দিন টিকিট না পেয়ে, পরের দিনের টিকিট ব্যবস্থা করে টিমের সবাই দেশে ফিরেছি।’
ইকরার মৃত্যুর পর তার ঘনিষ্ঠ এক বান্ধবী দাবি করেন, আলভী ও তিথির পরকীয়ার কারণেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ইকরা, যা তাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে।
আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় জাহের আলভী, তার মা ও তিথির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ মামলায় প্রধান আসামি অভিনেতা জাহের আলভী।
আলভীর সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে তিথি বলেন, ‘তার (আলভী) সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। কোনো অফিসে যখন আপনার কলিগ থাকে, আপনি যখন তার সঙ্গে চার-পাঁচ বছর অফিস করবেন, তখন আপনার সঙ্গে তার ভালো বন্ধুত্ব হতেই পারে। আমি আগেও বলছি যে, ইন্ডাস্ট্রিতে আলভী আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আগেও অনেক সাক্ষাৎকারে এই কথাটা বলছি।’
উল্লেখ্য, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, দুপুর পৌনে ১২টায় গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা ইকরাকে উদ্ধার করেন। এরপর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন (১ মার্চ) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত হয়। দুপুর ২টার দিকে শেষবারের মতো ঢাকা ছাড়েন ইকরা। বিকেল ৫টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়।
২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন আলভী-ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে।