হোম > বিনোদন > তারকা সংবাদ

সদ্যপ্রয়াত স্ত্রীর বিরুদ্ধে আলভীর গুরুতর অভিযোগ

বিনোদন রিপোর্টার

স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকেই নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনার মুখে অভিনেতা জাহের আলভী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় মারা যান আলভীর স্ত্রী। তারপর থেকেই আত্মগোপনে আছেন আলভী।

প্রথমে শোক আর আবেগের কথা বললেও অল্প সময়ের মধ্যেই বদলে গেছে তার বক্তব্যের সুর। এবার আত্মগোপনে থেকে সদ্যপ্রয়াত স্ত্রীর বিরুদ্ধে বেশকিছু বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরলেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাতে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং স্ত্রীর অতীত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তিনি এটিকে নিজের ‘শেষ পোস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পোস্টে আলভী বলেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ পোস্ট। একটু সময় নিয়ে পড়বেন। আইনের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, সুষ্ঠু বিচারে আইন আমার বিরুদ্ধে যে ‍পদক্ষেপ নিবে, আমি মাথা পেতে নিব। কিন্তু আমার এই পোস্টে আমি কিছু ইনফরমেশন রেখে যেতে চাই, যেন আমার কিছু হলে অথবা আমাকে অন‍্যায়ভাবে ফাঁসানো হলে সাধারণ জনগণ ও সাংবাদিক ভাই-বোনেরা এই বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক থাকেন এবং আইনের কাছে খতিয়ে দেখার দাবি রাখতে পারে।’

সিসিটিভি ফুটেজ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের বিষয়ে অভিনেতার ভাষ্য, ‘আমার বাসায় ড্রয়িং কাম ডাইনিংয়ে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, যার অ্যাক্সেস (প্রবেশাধিকার) কখনোই আমার কাছে ছিল না, ইকরার ফোনে ছিল। ইকরার ফোন পুলিশি হেফাজতে আছে এবং এই মুহূর্তে তা ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। অনেকেই বলবেন, আমার বাসার সিসিটিভি’র অ্যাক্সেস আমার কাছে ছিল না- এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়; তাদেরকে বলব, সিসিটিভি’র সাথে লিংকড ডিভাইস লিস্ট চেক করলে সেটি অনায়াসে বেরিয়ে আসবে। আমি সারাদিন শুটিংয়ে থাকার কারণে কখনো এর অ্যাক্সেস ইকরার কাছেও চাইনি। ইকরা এই ক্যামেরা দিয়ে বাসার কাজের লোক ও বাসায় থাকা আমার সহকারীর গতিবিধি লক্ষ্য করতো প্রয়োজন মতো। এই সিসিটিভি ফুটেজ দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় আলামত। শুধু দুর্ঘটনার সময় না, আমি নেপাল আসার দিন থেকে রয়েছে এই ক‍্যামেরায় গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ। আবারও বলছি, ইকরার মোবাইল (যার পাসওয়ার্ড আমি জানি না) ও সিসিটিভি ক্যামেরার মেমোরি কার্ড দুটোই পুলিশের হেফাজতে।’

শুটিংয়ের কাজে নেপালে যাওয়ার দিনটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেন সিসিটিভির ফুটেজ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ? আমি নেপালের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হই ২৫ তারিখ দুপুরে। ২৫, ২৬ ও সর্বশেষ ২৭ তারিখ- এই ৩ দিনই সন্ধ্যার পর আমার বাসায় ইকরার বান্ধবী ও বন্ধুর আগমন ছিল, যার গতিবিধি সিসিটিভি-তে আছে। ২৫/২৬ শুধু বান্ধবী এবং ২৭ তারিখ ২ জন বান্ধবী ও ১ জন ছেলে বন্ধু বাসায় এসেছে, মধ্যরাত পর্যন্ত ছিল। এ সময়ে ৩ দিনই তারা সিগারেট/গাঁজা ও মদ্যপান করেছে। দুর্ঘটনার আগের দিন ২৭ তারিখ ইকরা আমার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ‍ওষুধও আনিয়েছে, ওই সময়ে যা সিসিটিভি’র নিচেই ইকরাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সমগ্র ভাষ্য আমার সহকারীর এবং তা ইতোমধ্যেই পুলিশের কাছে স্টেটমেন্ট আকারে পেশ আছে। সাংবাদিক ভাই ও সাধারণ সবাইকে জানিয়ে রাখলাম বিষয়টি যেন সিসিটিভি থেকে এই ৩ দিনের ফুটেজ কোনোভাবেই সরানো না হয়, আর সরানো হলেও যেন এর সুষ্ঠু জবাবদিহি বা তদন্ত করা হয়। এই ৩ দিন ও দুর্ঘটনার মুহূর্তে ইকরার কথাবার্তা কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের মতো ছিল না। ইকরা এর আগেও ১৫ বছরে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও কখনও সিরিয়াসলি কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। কিন্তু এইবার ইকরা একদমই নরমাল ছিল না।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইকরার মোবাইল পুলিশের থ্রুতে (বরাতে) ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট চলে আসবে কে ইকরার অ্যাকাউন্ট ডিসেবল করেছে। এবং এটিও জানার প্রয়োজন আছে কেন করেছে? আমার সাথে ইকরার কনভার্সেশনের (আলাপচারিতা) একটি দাঁড়িকমাও পরিবর্তিত হয়নি, সেটি আমার ফোন ফরেনসিকে নিলে প্রমাণ মিলবে। যেটা আমি স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে দিব। সবাইকে এই দিকটাও লক্ষ্য রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে যেন ইকরার ফোন থেকেও কোনো কনভার্সেশন ডিলিট না হয়। যেমন: মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য অ্যাপ যেগুলো আছে। এমনকি ফোনের ইনকামিং ও আউটগোয়িং কল লিস্ট এবং ২৫/২৬/২৭ তারিখ রাতে ওর বন্ধুদের সাথে বাসায় আসা এবং চিল করা নিয়ে কনভার্সেশন।’

শেষদিকে স্ত্রী ইকরার বিরুদ্ধে মদ‍্যপান, মাদক সেবন, দ্বিতীয় বিয়ে ও পরকীয়ার অভিযোগ তুলে আলভী বলেন, ‘এবার আসেন, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে কিছু কথা বলি। আগের রাতে মদ্যপান ও ড্রাগস (মাদক) সেবন করা হলে অবশ্যই সেটি পোস্টমর্টেম রিপোর্টে সেটি আসবে। সুতরাং কোনোভাবেই এই রিপোর্ট যেন পরিবর্তন না হয়, সেদিকেও একটু নজর রাখার জন‍্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কারণ পোস্টমর্টেম করার আগে এতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। না চাইতেও নিম্নে কিছু সংবেদনশীল হিন্টস (ইঙ্গিত) রেখে যাচ্ছি, যেগুলো আপনাদের সামনে এই মানুষটিকে নিয়ে বিস্তারিত বলতে আমার জন্য কষ্টদায়ক। শত হলেও ইকরা আমার স্ত্রী।’

পোস্টে অভিনেতা আরও উল্লেখ করেছেন, ‘আপনাদের মতে আমার না হয় তিথির সাথে পরকীয়া, তাহলে ইকরার ব‍্যাচমেট জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির ফিলোসফি ডিপার্টমেন্টের ৪১তম ব‍্যাচের নাবিদের সাথে ইকরার কী! ২০১০-এ পালিয়ে বিয়ে করে দুই পরিবারের কাছে ধরা খাওয়ার পর, ইকরা আমার বিবাহিত স্ত্রী থাকার পরেও ইকরার পরিবার ইকরাকে তার সম্মতিতে আরেক জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেয়। হ‍্যাঁ, আমার স্ত্রী থাকা অবস্থায় ইকরা আরেকটি বিয়ে করে, বাসর করে। আমাকে ডিভোর্স না দিয়ে তার পরিবারের সম্মতিতে। তবে ভুল বুঝতে পেরে যখন ইকরা আমার কাছে ফিরে আসতে সিদ্ধান্ত নেয়, আমি তাকে মাফ করে বুকে পাথর রেখে মেনে নিই। একজন স্বামী হয়ে এই সিচুয়েশন (পরিস্থিতি) বয়ে বেড়ানো খুব একটা সুখের না অবশ‍্যই।

উপরের কোনো কিছুই এটা প্রমাণ করে না যে, ইকরা আমাকে ভালোবাসতো না! ইকরা আমাকে ভয়ঙ্কর ভালোবাসতো। আমিও বাসতাম। ত‍্যাগ ওর যেমন ছিল, আমারও ছিল। যুদ্ধ দু’জনেরই করতে হয়েছে। ভুল-ত্রুটি, ঝগড়া-কলহ আর সব সংসারের স্বামী-স্ত্রীর মতো আমাদেরও ছিল। কিন্তু সময়ের কালক্রমে ভালোবাসাটা মায়ায় রূপ নেয়। মায়া, অভ‍্যস্ততা ও সন্তানের সেতুবন্ধন- সবকিছুকে ছাপিয়ে ভালোবাসার জায়গাটায় আসন গেড়ে বসেছিল। উপরের মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণতা ও আমার স্ব-কর্মসংস্থানের মানুষদের বেইমানি হয়তো আমাকে দমিয়ে দিবে, হয়তো বাঁচতে দিবে না। একজন মানুষও যদি বিবেচনার দুয়ার খুলে লেখাগুলো পড়ে থাকে, প্লিজ তথ‍্য-প্রমাণ মিলিয়ে নিয়েন। মুছে যেতে দিয়েন না। আমার সন্তানের জন‍্য হলেও, কারণ আমার জায়গা আমার সন্তানের জীবনে কেউ পূরণ করতে পারবে না। এটা বাস্তব। আমাদের দু’জনের দু’জনকে দরকার। আপনারা পারলে আমাকে মাফ করে দিয়েন।’

বশির আহমেদকে নিয়ে কনকচাঁপার আবেগঘন বার্তা

একান্ত সংগ্রামের গল্প বললেন সুনেরাহ

দর্শকদের পুরস্কার উৎসর্গ করলেন হানিফ সংকেত

অস্ত্রোপচারের পর যেমন আছেন তানিয়া বৃষ্টি

স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন হানিফ সংকেত ও বশির আহমেদ (মরণোত্তর)

দুই অভিনেত্রীর ‘থাপ্পড়’ কাণ্ড, অভিনয়শিল্পী সংঘের কড়াবার্তা

আলভী-তিথিকে বয়কটের ডাক

দেশে ফিরে আলভীর সঙ্গে ‘সম্পর্ক’ নিয়ে যা বললেন তিথি

ইকরার মৃত্যু ঘটনায় ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

স্ত্রী আত্মহত্যার ঘটনায় জাহের আলভী-তিথির নামে মামলা