হোম > বিনোদন > চলচ্চিত্র

ডনের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে, তবু ‘হত্যা’ বলছে না তদন্ত সংস্থা

স্টাফ রিপোর্টার

চিত্রনায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন, নাকি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিলÑতিন দশক ধরে ঘুরপাক খাওয়া সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নতুন ধোঁয়াশার সামনে দাঁড়িয়েছে মামলার তদন্ত।

একদিকে আদালতে জমা দেওয়া সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় ডনের সরাসরি সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর সংকেত ও আলামত মিলছে; অন্যদিকে সিআইডির মুখপাত্র ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। এই লুকোচুরি আর অস্পষ্টতার মাঝে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী অভিযোগ তুলেছেনÑগোটা রিমান্ড প্রক্রিয়াটি ছিল স্রেফ ‘আইওয়াশ’ বা লোক দেখানো।

পাঁচ দিনের রিমান্ডের চার দিন শেষ হওয়ার পর গত বুধবার ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে সিআইডি। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার (ডনের) জড়িত থাকার বিষয়ে বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে মূল ধোঁয়াশা। গতকাল বৃহস্পতিবার সিআইডির মুখপাত্র ছুফি উল্লাহর কাছে আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়—ডনের সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ যদি পাওয়া যায়, তাহলে কি সিআইডি এখন সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে দেখছে বা পিবিআইয়ের পুরোনো ‘আত্মহত্যা’র তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হওয়াÑএসব প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে তিনি তদন্ত চলমান থাকার কথা বলে এড়িয়ে যান। মামলাটি সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ ইউনিট তদন্ত করছে। ওই ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার গোলাম বেনজীরকেও একই প্রশ্ন করা হলে তিনি সিআইডির মিডিয়া বিভাগের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

ডনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বেশকিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সূত্রের বরাতে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলেও এ দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জবাব এড়িয়ে গেছেন। অর্থাৎ, ডনের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা বলা হলেও সেই সম্পৃক্ততার প্রকৃতি—তিনি ঠিক কী করেছেন, কার সঙ্গে করেছেন কিংবা সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে তার ভূমিকা কী—এখনো প্রকাশ্যে স্পষ্ট করেনি তদন্ত সংস্থা।

আসামি ডনের তড়িঘড়ি রিমান্ড-সমাপ্তি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। যুক্তরাজ্য থেকে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ডন তো কোনো সাধারণ আসামি নয়, সে ৩০ বছর আগের এক আলোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও অভিযুক্ত। রিমান্ডফেরত আসামি কীভাবে এমন হাসিমুখে হেঁটে বের হয়? রিমান্ড শুরুর সাত দিনের আবেদন কমিয়ে পাঁচ দিন করা হলো, আবার চার দিনের মাথায় ‘অসুস্থ’ বলে তাকে আদালতে চালান দেওয়া হলো—এ যেন এক ফানি নাটক। মূল তথ্য না বের করেই তাকে ছেড়ে দেওয়া প্রমাণ করে আমাদের প্রশাসন হয় দুর্বল, না হয় অন্য কোথাও ধাবিত হচ্ছে।”

নীলা চৌধুরী দাবি করেন, তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না। ডনের কাছ থেকে রহস্যের মূল সূত্র উদ্ধার করতে প্রয়োজন হলে তার ভাই আলমগীর কুমকুম ও নীলা চৌধুরীকে ভার্চুয়ালি ডনের মুখোমুখি বসিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জোর দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে ১১ এজাহারনামীয় আসামির মধ্যে কেবল ডনকে গ্রেপ্তার করা এবং বাকিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

আদালতের আদেশে ৬ সেপ্টেম্বর ডনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। ৯ সেপ্টেম্বর চার দিনের মাথায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। সিআইডি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করে।

ডনকে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিদেশ যাওয়ার চেষ্টার সময় তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ১২ আগস্ট তার জামিন আবেদনও নাকচ হয়। পরে সিআইডি তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। শুনানি শেষে ২৭ আগস্ট আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

রিমান্ড আবেদনে সিআইডি ডনকে অত্যন্ত কৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির উল্লেখ করে বলেছিল, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার প্রকৃত রহস্য এবং অন্য আসামিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিদেশ যাওয়ার চেষ্টার কারণ এবং এর পেছনে কারো ইন্ধন ছিল কি নাÑসেটিও জানতে চাওয়া হবে বলে আদালতকে জানিয়েছিল তদন্ত সংস্থা। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

আদালতে দেওয়া সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডন ও সালমান শাহ একাধিক চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করেছেন। মামলার এজাহারে থাকা পলাতক আসামিদের কয়েকজনকেও ডন চেনেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। কিন্তু মামলার মূল ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তার বক্তব্যে অসংগতি ও তথ্য এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তার দাবি। শুধু তার জবানবন্দির ওপর নির্ভর করছে না সিআইডি। সালমান শাহর মৃত্যুর আগে, ঘটনার সময় এবং পরে ডনের আচরণ ও গতিবিধিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এসব তথ্য থেকে পাওয়া সূত্র অন্যান্য আলামত ও বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত সংস্থার ভাষ্য, যাচাই শেষে প্রয়োজন হলে ডনকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময়ে একাধিক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলে। বিভিন্ন তদন্তে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে মত দেওয়া হলেও তার পরিবার শুরু থেকেই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। চারটি তদন্তের ফল আত্মহত্যার দিকে গেলেও পরিবার হত্যার অভিযোগে আইনি লড়াই চালিয়ে যায়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর আদালত সালমান শাহর মায়ের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরদিন তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এবং পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে।

৪১ দেশে চালু হচ্ছে প্রবাসীদের এনআইডি সেবা

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যা বলছেন ট্রাম্প: মার্কিন সিনেটর

মূলধনী যন্ত্র আমদানি কমেছে ৩৩ শতাংশ

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, ১৪ জেলে জীবিত উদ্ধার

রেকর্ড উৎপাদনের পথে চা, ন্যায্য দাম নিয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ

হরমুজে মার্কিন নজরদারি নৌযানে ইরানের হামলা, ২ জাহাজে আঘাত

২০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত মোহনগঞ্জবাসী

রাজধানীতে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

মেধার অবমূল্যায়ন ও দলীয়করণের শঙ্কা

সিএনজি অটোরিকশা থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ