ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খানের সিনেমা মানেই সুপার হিট। কিন্তু প্রিয়তমা’, `বরবাদ' বা ‘তুফান’-এর মত সেভাবে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি এবারের ঈদে নায়কের মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘প্রিন্স’ ।
কারণ সাউন্ড, কালারসহ বেশকিছু টেকনিক্যাল জটিলাতার মুখে পড়ে সিনেমাটি। অবশেষে মুক্তির ১০ দিন পর সবকিছুর জন্য সময় ও পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন শাকিব খান।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর উত্তরা সেন্টার পয়েন্টে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্সে বিশেষ প্রদর্শনী শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিনেমাটি নিয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ, প্রযোজক শিরিন সুলতানা, অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, অভিনেতা ডা. এজাজ, ইন্তেখাব দিনারসহ অনেকে।
শাকিব খান বলেন, ‘আমি যখন প্রিন্স সিনেমার গল্প শুনেছি তখন মনে হয়েছিল এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সিনেমা হতে যাচ্ছে। হয়তো সময় স্বল্পতার কারণে আমরা সেটা করতে পারিনি। এজন্য নির্মাতাসহ সবার পক্ষ থেকে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা কিছু চেষ্টা করেছি। আমি আমার পরবর্তী সিনেমাতে ত্রুটিগুলো খেয়াল করব।’
শাকিব খান আরও বলেন, ‘আমি ৩০টির বেশি গল্প শুনে একটি গল্প পছন্দ করি। বলতে গেলে, সারা বছরই গল্প শুনি। এরপর একটি গল্প পছন্দ করি। কিন্তু এবার যেটা হয়েছে সেটা ভিন্ন। আমরা তিন মাস ভারতে কাজের অনুমতি পাইনি। এরপর যা হয়েছে সেটা আরও ভয়াবহ। যেখানে আমাদের সিনেমার সেট ফেলা হয়েছিল সেটা ভেঙে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এখানেও অনেক সময় চলে গেছে। ফলে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের কাজ করতে হয়েছে। যার কারণে সময়ের অভাবে অনেক ত্রুটি থেকে গেছে। হায়াত মাহমুদ অনেক ভালো ও মেধাবী একজন নির্মাতা। আমরা যদি উপযুক্ত সময় পেতাম তাহলে ভালো কিছু হতো।’
শাকিব বলেন, ‘আমার জীবনের এটা কোনো সিনেমা যেটার শুটিং ঈদের আগের দিন পর্যন্ত করেছি। তাসনিয়া ফারিণের সঙ্গে আইটেম গানের শুটিং ঈদের আগেই করেছি। এছাড়া পরী গানের শুটিং একদিনে শেষ করেছি। এগুলো হয়েছে শুধু সময়ের কারণে।’
প্রযুক্তিগত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি জানান, মুক্তির পর প্রথম পাঁচ দিন মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমাটি চলেনি, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে। নায়কের ভাষ্য, ‘ঈদের পর পাঁচদিন আমরা মাল্টিপ্লেক্সে ঢুকতে পারিনি। এটা কষ্টের। কিন্তু এই পাঁচদিন সবচেয়ে ভালো কোন সিনেমা ছিল। বলতে গেলে প্রায় কোনোটাই ছিল না। তার মানে, আমাদের বড় সিনেমা দরকার।’
নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘দেশের নতুন সরকার এসেছে। তাদের বলতে চাই- বিগত সরকারের কথা ভুলে যান। আপনাদের কাছে আমাদের আশা-প্রত্যাশা অনেক। আপনারা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে শুধু নাচে-গানে ভরপুর একটা জায়গা ভাববেন না। একটি সিনেমা সমাজ ও সংস্কৃতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন যথাযথ সহযোগিতা।’
এ সময় তাসনিয়া ফারিণ বলেন, ‘এই সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পর আমার প্রত্যাশার জায়গাটা অনেক বেশি ছিল। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে সময় বা সবকিছু মিলে প্রত্যাশাটা সেরকমভাবে পূরণ হয়নি। তবে আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি। আশা করি ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে ভালো করে করে দেখাতে পারব।’
নির্মাতা হায়াত মাহমুদ বলেন, ‘প্রিন্স যথা সময়ে এসেছে। নানা জটিলতায় হয়তো পাঁচদিন সিনেপ্লেক্সে চলেনি। কিন্তু যেদিন থেকে সিনেপ্লেক্সে প্রিন্স এসেছে সেদিন থেকেই সর্বোচ্চ শো নিয়ে চলছে। সিনেমাটি দেখার পর থেকেই দর্শক বলেছে ‘প্রিন্স ২’ চাই। সময় হলে আমরা এটির ঘোষণা দেব।’