পপসংগীতের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী নামগুলোর একটি মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ অবশেষে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল। দীর্ঘ সময়ের নির্মাণযাত্রা, একাধিকবার মুক্তি পেছানো এবং ব্যাপক আলোচনার পর ছবিটি একই দিনে আন্তর্জাতিকভাবে প্রেক্ষাগৃহে আসছে।
চলচ্চিত্রটি মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিস্তৃত সময়কাল তুলে ধরবে—শৈশবে সংগীত পরিবারের ভেতর বেড়ে ওঠা, জ্যাকসন ফাইভের মাধ্যমে তার প্রথম সাফল্য এবং পরবর্তীতে একক ক্যারিয়ারে বিশ্বসংগীতকে নতুন রূপ দেওয়ার গল্প। পাশাপাশি খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছানোর পর ব্যক্তিজীবনের চাপ, মিডিয়ার নজরদারি এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব—সবই উঠে আসবে সিনেমায়।
এই ছবিতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার ভাতিজা জাফার জ্যাকসন। বাস্তবজীবনে পারিবারিক সম্পর্কের কারণে চরিত্রটি নিয়ে শুরু থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রিচালনায় আছেন অঁতোয়ান ফুকুয়া এবং প্রযোজনায় রয়েছেন গ্রাহাম কিং। বিশেষ করে গ্রাহাম কিংয়ের পূর্ববর্তী সাফল্য ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ এই বায়োপিক ঘিরে প্রত্যাশা আরও বাড়িয়েছে।
বিশ্বজুড়ে মাইকেল জ্যাকসনের অসংখ্য ভক্তের কারণে ছবিটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সংগীত, নাচ, ফ্যাশন ও পপ সংস্কৃতিতে তার বিপ্লবী প্রভাবকে বড় পর্দায় কীভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। বাংলাদেশেও ছবিটি মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঢাকার মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সের ফেসবুক পেজে ইতোমধ্যে চলচ্চিত্রটির প্রচারণা দেখা গেছে।
এ বিষয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা চাইছি চলচ্চিত্রটি দেশের পর্দায় মুক্তি দিতে। তবে সেনসর বোর্ডের অনুমতি পাওয়ার পরই কেবল আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারব।’ সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আসতে যাওয়া ‘মাইকেল’ শুধু একটি বায়োপিক নয়, বরং পপ সংস্কৃতির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী শিল্পীর জীবনকে নতুন করে দেখার সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।