জিনিয়া রহমান মেয়েটির নাম কী রাখবেন কিছুতেই মেলাতে পারছেন না। একটার পর একটা নামের চিন্তা মাথায় এলেও ঠিক পছন্দের নামটা এখনো আসছে না। কল্পনার রঙ মিশিয়ে পছন্দের নাম খুঁজছেন তিনি। এক দিন এই ছোট্ট শিশুটি সবার মন জয় করবে। সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে তার নাম। তাই নামটি যদি ব্যক্তিত্বের চেয়ে হালকা হয়ে যায়, মোটেই বিষয়টি ভালো দেখাবে না । রাজা নামের সবাই যদি রাজা হয়ে যায়, তাহলে রাজা-রানিতে ভরে যেত সারাটা দুনিয়া। তবুও ভাবেন, যদি সন্তান কখনো প্রশ্ন তোলে, মা, তুমি তো চাইলে মেয়ের সুন্দর একটা নাম দিতে পারতে? জিনিয়া রহমান কিছুতেই যেন স্থির হতে পারলেন না। হয়তো মেয়ে কখনোই এই প্রশ্ন তুলবে না। পিতৃকুল ও শ্বশুরকুলে শিশুরা এক মনোরম পরিবেশে বেড়ে ওঠে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। পরবর্তী প্রজন্মও এটিকে ধারণ করে চলছে। উপলব্ধি করতে পারছে নিজস্ব স্বাতন্ত্র্যবোধ। সেই শিক্ষা দিয়েই শিশুদের গড়ে তোলেন তারা। যাতে সামাজিক সুন্দর মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
জিনিয়া রহমান ভাবেন, শিশুটিকে যদি সুন্দর একটা নাম দিতে পারি এটাইবা কম কীসে। তাহলে ব্যাপারটা বেশ আনন্দেরই হয়। হয়তো সন্তান এক দিন খুশি হয়ে বলবে, মা আমার সুন্দর একটা নাম দিয়েছে। কী চমৎকার অর্থে ভরা আমার নামটি!
বসে আছেন জিনিয়া রহমান। নানা জল্পনা ও কল্পনা মনের কোণে উঁকি দিচ্ছে। ঠিক এমন সময় ওয়ানিয়া মায়ের কাছে ছুটে এলো। মায়ের ললাটে এঁটে দিলো ভালোবাসার চুমু। পরম মমতায় মা সন্তানকে বুকে তুলে নিলেন। নিজের গালটা মুছতে লাগলেন।
দুধালো সেই মায়াবী চুমুর গন্ধ এখনো তার গালজুড়ে ছড়িয়ে আছে। কচি হাতের পরশে সে মায়ের কাছে আদুরে বায়নায় জানিয়ে দিল, মা, হাতটি মাথায় বুলিয়ে দাও না।
জিনিয়া রহমান মায়াভরা চোখে ওরদিকে তাকালেন। আর ভাবতে লাগলেন, মেয়েটি কত মমতা দিয়ে কথা বলছে! কত নম্রভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে শিখেছে।
জিনিয়া রহমান মেয়ের চিন্তা ও মননে এক অন্যরকম মানুষ দেখতে পান। খুঁজে পান এক দরদি ও মানবতাবাদী মানুষের ছায়া। গরিব-দুঃখী মানুষের প্রতি যার রয়েছে পরম মমত্ববোধ।