হোম > ফিচার > এক্কাদোক্কা

লবণাক্ত পানির হ্রদ, জিবুতির আসাল লেক

রেজাউল করিম খোকন

প্রিয় বন্ধুরা, আজ তোমাদের অন্যতম একটি বিস্ময়কর জায়গার কথা জানাব। পৃথিবীতে এমন অনেক অবাক হওয়ার মতো বিষয় রয়েছে, যা সৃষ্টিকর্তার অসামান্য ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কী অপার বিস্ময় আমাদের সামনে রেখে দিয়েছেন তিনি! পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল জলরাশির অসংখ্য হ্রদ রয়েছে। সাধারণত হ্রদের পানি সুপেয় হয়ে থাকে। অনেক হ্রদের পানি সুপেয় না হলেও সেখানে নানা উদ্ভিদ, জলজ প্রাণী ও মাছের বসবাস থাকে। এই বিস্ময়কর হ্রদের নাম ‘আসাল লেক’, যেটি আফ্রিকা মহাদেশের জিবুতি প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত।

দেশটির অবস্থান বাব এল মান্দেব প্রণালির তীরে, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে। দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তম শহরের নামও জিবুতি। জিবুতি একসময় ফ্রান্সের উপনিবেশ হিসেবে গণ্য ছিল। ১৯৭৭ সালের ২৭ জুন এটি নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ‘আসাল হ্রদ’ জিবুতিতে অবস্থিত একটি লবণাক্ত পানির হ্রদ। এটি সমুদ্রসমতলের ১৫৫ মিটার নিচে অবস্থিত এবং আফ্রিকার নিম্নতম বিন্দুতে এর অবস্থান। জিবুতির রাজধানী জিবুতি শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে আফ্রিকার সবচেয়ে শুষ্ক ও উষ্ণ অঞ্চলে ‘আসাল হ্রদ’ অবস্থিত।

পৃথিবীপৃষ্ঠের আগ্নেয় কর্মকাণ্ডের ফলে ভূপৃষ্ঠের উত্থান-পতনের কারণে প্রায় ১০ থেকে ৪০ লাখ বছর আগে হ্রদটি বর্তমান রূপ পায়। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, আরো আগের একটি ভৌগোলিক যুগে হ্রদটি সমুদ্রসমতলে অবস্থিত ছিল। হ্রদের আশেপাশের এলাকায় এখনো ভূমির চ্যুতি ও আগ্নেয় কর্মকাণ্ড বিরাজমান। সর্বশেষ ১৯৭৮ সালে এ রকম ঘটনা ঘটেছিল। লবণাক্ত পানির হ্রদ বলে আসাল হ্রদের আশেপাশে কোনো বড় লোকালয় বা অর্থনৈতিক কাজকর্ম গড়ে ওঠেনি।

অবশ্য সাম্প্রতিক দশকগুলোয় জিবুতিতে বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহের উদ্দেশ্যে হ্রদের আশপাশে কিছু ভূ-উত্তাপ সংগ্রহকারী কূপ খনন করা হয়েছে। লেক আসাল মধ্যপশ্চিম জিবুতিতে অবস্থিত একটি বিস্ময়কর লবণাক্ত হ্রদ। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫৫ মিটার (৫০৯ ফুট) নিচে অবস্থিত, যা আফ্রিকার সর্বনিম্ন স্থলভূমি। এর পানির লবণাক্ততা সমুদ্রের পানির চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি।

এই বিস্ময়কর হ্রদের অবস্থান

জিবুতি শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫৫ মিটার নিচে এখানকার প্রতি লিটার পানিতে প্রায় ৩৫০ গ্রামের বেশি লবণের উপস্থিতি রয়েছে।

হ্রদটি আগ্নেয়গিরি ও কালো লাভা ক্ষেত্র দিয়ে পরিবেষ্টিত। হ্রদের চারপাশের উজ্জ্বল সাদা লবণের আস্তরণ বালিয়াড়ির মতো দেখায়। পানি ও লবণের স্ফটিকের রঙ নীল, সাদা ও সবুজ আলোয় পরিবর্তিত হয়। এটি বিশ্বের অন্যতম বড় লবণভান্ডার হিসেবে পরিচিত।

এখানকার পানির উচ্চ তাপমাত্রার সেই তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে আরো বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই।

এখানকার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। আসাল লেকের উষ্ণ প্রস্রবণের পানির তাপমাত্রা ৩৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই হ্রদের গভীরতা খাড়াভাবে ২ হাজার ৫০০ মিটার। এখানকার তাপমাত্রা এত বেশি যে সেই তাপে পানি শুকিয়ে লবণ উৎপাদন করা হয়। সেই লবণ জিবুতির চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছর ছয় মিলিয়ন টন বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এখানে বেশ কয়েকটি কূপ খননের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই পানি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। উৎপন্ন বিদ্যুৎ জিবুতির জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে সেখানকার বিদ্যুৎ চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করছে। ফলে কলকারখানাসহ আবাসিক এলাকায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করেছে।

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় সুন্দরবনে কমেছে মানুষের চাপ

বরিশালে হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু

ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের বৈঠক

দক্ষিণ এশিয়ায় যে কৌশলে প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন

পুলিশ নিরাপত্তায় ঈশ্বরদীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড়

কান্তজীউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

হামের উপসর্গে আরো ৬ শিশুর প্রাণহানি, নতুন আক্রান্ত ১২৩১

মার্কিন শিক্ষার্থীদের কাছে ইসরাইল গণহত্যায় যুক্ত নেতিবাচক ব্র্যান্ড

জমি যার, টাকা তার—অধিগ্রহণের টাকা পেতে মানববন্ধন