হাঙরের দাঁতের মতো অদ্ভুত দাঁত অন্য কোনো প্রাণীর নেই বললেই চলে। মারণাস্ত্র হিসেবে হাঙরের দাঁত ভয়ংকর। এগুলো যেন জীবন্ত বিষবৃক্ষ! অন্যান্য প্রাণীর দাঁত চোয়ালের সঙ্গে আটকানো থাকে। সেসব দাঁত ক্ষয় হয়ে গেলে বা পড়ে গেলে আর কোনো নতুন দাঁত গজায় না, তাই সে জায়গাটা ফাঁকাই পড়ে থাকে। কিন্তু হাঙরের ব্যতিক্রম। হাঙরের দাঁত চোয়ালের সঙ্গে যুক্ত থাকে না, দাঁতগুলো চার অথবা ছয় সারিতে মাড়ির মধ্যে সরাসরি বসানো থাকে। কোনো কোনো প্রজাতির হাঙরের দাঁত ২০ সারি পর্যন্ত থাকে। প্রচণ্ড ধারালো তীক্ষ্ণ দাঁত যত বেগে ওঠে, ততই সামনের দিকে এগিয়ে যায়। ক্ষয় হয়ে গেলে সেখানেই আবার নতুন দাঁত গজায়।
গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে, একটা টাইগার হাঙর (Tiger Shark) ১০ বছরের মধ্যে ২৪ হাজার দাঁত ব্যবহার করে এবং পাল্টে নেয়। একটা হাঙর যত দিন বেঁচে থাকে, দাঁত গজানোর এই ধারাবাহিকতা তত দিন চলতেই থাকে।
হাঙরের দাঁত মাড়ির ওপর সারি সারি সাজানো থাকে আর আগে-পিছে সাজানো থাকে বলে সবগুলো দাঁতের দৈর্ঘ্য এক মাপের হয় না। যখন হাঙর কোনো খাবার খায় না, সে সময় শুধু প্রথম সারির দাঁতগুলো খাড়া থাকে, অন্যগুলো একটি পর্দার (membrane) নিচে হেলানো অবস্থায় লুকানো থাকে, আক্রমণের অবস্থায় সবগুলো খাড়া হয়ে ওঠে। কোনো দাঁত ভেঙে গেলে বা ক্ষয় হয়ে পড়লে সে স্থানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন দাঁত গজিয়ে ওঠে। দেহের সঙ্গে সমতা রেখে নতুন দাঁত আগেরটির চেয়ে আকারে বড় হয়। এদের সবগুলো দাঁতই অস্ত্র হিসেবে ভয়ংকর।
এবার জাতিভেদে হাঙরের দাঁতের বর্ণনা দেওয়া হলো
Tiger Shark—এই প্রজাতির হাঙরকে বলা হয় ‘বাঘা হাঙর’। এই হাঙরের দাঁত করাতের মতো খাঁজকাটা ও ধারালো হয়।
Thresher Shark—থ্রেসার হাঙরের দাঁত হয় বাঘের নখের মতো বাঁকানো ও তীক্ষ্ণৎ।
Sand Shark—স্যান্ড হাঙরের দাঁত কুকুরের দাঁতের মতো ধারালো ও তীক্ষ্ণ ।
Hammerhead Shark—‘হ্যামার সার্ক’ হলো হাতুড়ির মতো চ্যাপ্টা মাথাওয়ালা হাঙর। এদের দাঁত শিমুল কাঁটার মতো।
Dogfish—‘ডগফিস’ এক প্রজাতির হাঙরের নাম। এরা ছোট জাতের হাঙর। এদের দাঁত ছোট আঁকশির মতো।
সবচেয়ে অদ্ভুত ধরনের দাঁত রয়েছে গ্রেট হোয়াইট হাঙরের; একেকটা দাঁত খাঁজকাটা ত্রিভুজের মতো।