দেশে হাম সংক্রমণ বাড়ার খবরের মধ্যে অনেকের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন এটি কি কেবল শিশুদের রোগ, নাকি বড়রাও আক্রান্ত হতে পারে? চিকিৎসকদের মতে, হামকে শুধু শিশুদের রোগ ভাবা ভুল; এটি যে কোনও বয়সের মানুষকেই আক্রান্ত করতে পারে।
হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং খুব দ্রুত অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে।
হাম সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম এবং অনেক সময় টিকা অসম্পূর্ণ থাকে। তবে বড়দের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি কম নয়। বিশেষ করে যারা শৈশবে টিকা নেননি বা পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করেননি, তারা আক্রান্ত হতে পারেন।
বড়দের মধ্যে কেন বাড়ছে ঝুঁকি
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বড়দের মধ্যে হাম বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। শৈশবে টিকা না নেওয়া বা এক ডোজে সীমাবদ্ধ থাকা; সময়ের সঙ্গে টিকার সুরক্ষা কমে যাওয়া (কিছু ক্ষেত্রে); সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা।
শিশু ও বড় দু’ক্ষেত্রেই লক্ষণ প্রায় একই জ্বর; সর্দি-কাশি; চোখ লাল হওয়া; শরীরে লালচে ফুসকুড়ি।
তবে বড়দের ক্ষেত্রে অনেক সময় উপসর্গ বেশি তীব্র হতে পারে।
হামকে হালকা রোগ মনে করা হলেও এটি মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে নিউমোনিয়া; কানের সংক্রমণ; ডায়রিয়া; বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে সংক্রমণ।
বড়দের মধ্যে জটিলতা তুলনামূলক বেশি গুরুতর হতে পারে, বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল।
প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হাম সংক্রমণের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে:
শৈশবে হাম-রুবেলা টিকা না নেওয়া বড়দের আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ। যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা দ্রুত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা বা এমন এলাকায় বসবাস করা যেখানে হাম ছড়িয়ে পড়েছে।
লক্ষণ ও উপসর্গ
বড়দের ক্ষেত্রে হামের উপসর্গগুলো শিশুদের মতোই, তবে অনেক সময় এর তীব্রতা বেশি হতে পারে।
উচ্চ জ্বর ও শরীর ব্যথা
তীব্র কাশি ও সর্দি
চোখ লাল হয়ে যাওয়া
সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি
প্রচণ্ড দুর্বলতা
জটিলতা ও ঝুঁকি
বড়দের হাম হলে কিছু ক্ষেত্রে জীবনঘাতী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে
ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া
কানের গুরুতর সংক্রমণ
দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া
বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে সংক্রমণ বা এনসেফালাইটিস
সুরক্ষার উপায়
হাম সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো টিকা নেওয়া। যারা নিশ্চিত নন যে শৈশবে তারা টিকা নিয়েছেন কি না, তাদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত টিকার ডোজ সম্পন্ন করা।