হোম > ফিচার > স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে করণীয়

ডা. মঈনুদ্দিন আহমেদ

স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন ও চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অনেকেই মনে করছেন, দেশে যথেষ্ট মেডিকেল কলেজ হয়ে গেছে, অনেক ডাক্তার হয়ে গেছে, আর প্রয়োজন নেই। ডাক্তার যারা আছে তারাই তো চাকরি পাচ্ছে না, যারা পাচ্ছে তাদের বেতনও খুব কম। সুতরাং আমাদের আর ডাক্তার দরকার নেই। এত টাকাও দিতে পারব না, আর ডাক্তারও এত লাগবে না।

কিন্তু চিন্তা করা দরকার—এত এত ম্যাটস কেন তৈরি হচ্ছে, ছাত্ররা কেন ভর্তি হচ্ছে, বাবা-মা কেন ভর্তি করছে, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টরা চলছে কীভাবে, পল্লি চিকিৎসকরা চলছে কীভাবে? তারা আসলে কাদের স্পেস দখল করে আছে। তাদের জায়গাগুলো আসলে চিকিৎসকদের পূরণ করার কথা ছিল না? স্বাস্থ্য মানুষের একান্ত মৌলিক অধিকার ও চাহিদা। এটা মানবজাতিকে পূরণ করতেই হবে। যেভাবেই হোক না কেন মানুষ অর্থনৈতিক যোগ্যতা, প্রাপ্যতা ও জ্ঞান অনুযায়ী তার মৌলিক অধিকার পূরণ করার চেষ্টা করবেই।

গ্রামের মানুষ গ্রামে ও উপজেলায় সার্বক্ষণিকভাবে যাদের পায়, তাদের মধ্যে পল্লি চিকিৎসক, ওঝা, ফকির, বা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট—যাকে কাছে পায়, তাকে দিয়েই নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে। গ্রামের মানুষের কাছে কি আমরা ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবাটুকু পৌঁছাতে পেরেছি? তাদের কি এই অধিকার নেই যে, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

জাতিসংঘের মতামত অনুযায়ী, যেকোনো দেশে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা দিতে হলে প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য যেক্ষেত্রে একজন করে চিকিৎসক দরকার, সেক্ষেত্রে আমাদের দেশে প্রতি হাজার মানুষের জন্য শূন্য দশমিক সাতজন ডাক্তার রয়েছেন। পাশাপাশি কিছু উন্নত দেশের চিত্র যদি সামনে রাখা হয়, তাহলে দেখা যায়, প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য কিউবায় ৯৪ দশমিক চারজন, মোনাকোয় ৮৮ জন, সুইডেনে ৭১ দশমিক ৫ জন, বেলজিয়ামে ৬৪ জন এবং গ্রিসে ৬৪ জন চিকিৎসক রয়েছে। তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, উন্নত দেশ বা যেসব দেশে ভালো চিকিৎসাসেবা রয়েছে, তাদের তুলনায় আমাদের দেশের চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় ১০ ভাগের এক ভাগ। আবার যেসব চিকিৎসক রয়েছে, তাদের অধিকাংশই অবস্থান করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য বড় বড় শহরে।

জেলা শহরগুলোয় চিকিৎসকের সংখ্যা অনেক কম। যেসব সরকারি চিকিৎসককে পদায়ন করা হয় বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে শুধু তারাই যান উপজেলাগুলোয়। তাদের অধিকাংশই আবার সেখানে অবস্থান করেন না, আসা-যাওয়া করেন। সেক্ষেত্রে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে চিকিৎসকের সংখ্যা ও অবস্থান নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। গ্রামে বা ইউনিয়ন পর্যায়ে যত দিন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করা যাবে না, দেশের অধিকাংশ মানুষ ততদিন আধুনিক চিকিৎসা থেকে বহু দূরে থাকবে। আর সেই স্থান দখল করে থাকবে গ্রাম্য চিকিৎসক, কোয়াক, ওঝা, ফকির ও বেদেনিরা। তাই এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসা দরকার। প্রথমে সমস্যাগুলো নির্ণয় করা দরকার, এরপর সমাধান খোঁজা দরকার। সমাধানের পথও হওয়া উচিত সাময়িক ও দীর্ঘমেয়াদি। কিছু সমস্যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা দরকার, কিছু সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাধান প্রয়োজন।

গ্রাম, ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকরা থাকতে চান না, এটা একটা বহুল প্রচলিত অভিযোগ। কিন্তু কেন থাকতে চান না, সে বিষয়টা নিয়ে আমরা কতটুকু চিন্তা করছি। একজন চিকিৎসক তার যোগ্যতা অনুযায়ী যতটুকু সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য, তা যদি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে অনেকেই গ্রামে থাকা পছন্দ করবেন।

গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার মানে অনেক উন্নয়ন ঘটবে। গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাব সেন্টার ও কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এগুলোর সংখ্যা যথেষ্ট কি না, তা নিরূপণ করতে হবে। প্রতিটি গ্রামে অন্তত দুটি করে জিপি সেন্টার চালু করা দরকার। একই সঙ্গে সাব সেন্টার ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকেও ডাক্তারদের জিপি সেন্টার হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে।

ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ের জিপি সেন্টারগুলো ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো রেফারেল সেন্টার হিসেবে কাজ করতে পারে। এখান থেকে রেফারেল না নিয়ে জেলা হাসপাতালে কোনো কনসালট্যান্টের পরামর্শ সরাসরি নেওয়া যাবে না, সেই নিয়ম চালু করতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য প্রতি দুবছর পরপর উপজেলা ও সাব সেন্টার লেভেলে নতুন চিকিৎসক নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

লেখক : মেডিসিন ও লিভার বিশেষজ্ঞ

কনসালট্যান্ট, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

গর্ভবতী নারীরা নিরাপদে রোজা রাখবেন যেভাবে

ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করতে যা করবেন

‘মানুষকে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, ডাক্তার মানুষের পেছনে ঘুরবে’

খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা কেন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

রোজায় নাক-কান গলার চিকিৎসা

খাদ্য ওষুধের কাজ করে?

বসন্তে ছড়িয়ে পড়া রোগ

বিষণ্ণতায় ওষুধের চেয়েও কার্যকর হতে পারে নাচ

আয়ুর্বেদিকের কোন ওষুধ ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়

জেনে নিন পিঠের ব্যথা এড়ানোর সঠিক উপায়