কার্ডিওজেনিক শক হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে হৃদযন্ত্রের পাম্পিং ক্ষমতা হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণে শরীরে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ বজায় রাখা সম্ভব হয় না। সাধারণত ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে সিস্টোলিক রক্তচাপ ৯০ মিমি পারদের নিচে থাকলে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত সরবরাহের ঘাটতির লক্ষণ দেখা দিলে এই অবস্থাকে কার্ডিওজেনিক শক বলা হয়।
প্রধান কারণগুলো : কার্ডিওজেনিক শকের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো তীব্র হার্ট অ্যাটাক (Acute Myocardial Infarction)। এছাড়া—
* বাম নিলয়ের (Left Ventricle) গুরুতর ব্যর্থতা
* ডান নিলয়ের ইনফার্কশন
* হার্টের ভালভ ছিঁড়ে যাওয়া বা মারাত্মক ত্রুটি
* ভেন্ট্রিকুলার সেপটাল রাপচার
* মায়োকার্ডাইটিস
* শেষ পর্যায়ের কার্ডিওমায়োপ্যাথি
* ম্যাসিভ পালমোনারি এম্বোলিজম
* কার্ডিয়াক ট্যাম্পোনেড
* এওর্টিক ডিসেকশন
ইত্যাদি কারণেও কার্ডিওজেনিক শক হতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ কারা : নিম্নোক্ত রোগীদের মধ্যে কার্ডিওজেনিক শকের ঝুঁকি বেশি—
* ৭০ বছরের বেশি বয়স
* বড় আকারের হার্ট অ্যাটাক
* ডায়াবেটিস
* উচ্চ রক্তচাপ
* আগে হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস
* আগে থেকে হার্ট ফেইলিউর
* বহু রক্তনালিতে ব্লক থাকা
লক্ষণ ও উপসর্গ : কার্ডিওজেনিক শকে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে দেখা যেতে পারে—
* তীব্র বুকে ব্যথা
* অতিরিক্ত ঘাম
* শ্বাসকষ্ট
* অস্থিরতা বা বিভ্রান্তি
* ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে ত্বক
* হাত-পা নীলচে হয়ে যাওয়া
* দ্রুত বা ধীর হৃৎস্পন্দন
* প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
* রক্তচাপ অত্যন্ত কমে যাওয়া
রোগ নির্ণয় : রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত—
* ইসিজি (ECG)
* ইকোকার্ডিওগ্রাফি
* বুকের এক্স-রে
* রক্তে ট্রোপোনিন ও সিকে-এমবি পরীক্ষা
* কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা
* আর্টেরিয়াল ব্লাড গ্যাস (ABG)
ইত্যাদি পরীক্ষা করে থাকেন। বিশেষ করে, ইকোকার্ডিওগ্রাফি হৃদযন্ত্রের গঠনগত জটিলতা, ভালভের ত্রুটি, ডান বা বাম নিলয়ের কার্যকারিতা এবং অন্যান্য কারণ নির্ণয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চিকিৎসা : কার্ডিওজেনিক শকের চিকিৎসায় সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে—
* অক্সিজেন বা ভেন্টিলেটর সাপোর্ট
* রক্তচাপ বজায় রাখতে ভাসোপ্রেসর ও ইনোট্রপিক ওষুধ
* হার্টের ছন্দজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণ
* অ্যাসিডোসিস ও অক্সিজেন স্বল্পতা সংশোধন
* পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ নিশ্চিত করা
রিভাসকুলারাইজেশন : যদি কার্ডিওজেনিক শকের কারণ হার্ট অ্যাটাক হয়, তাহলে দ্রুত রক্তনালি খুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এজন্য—
* Primary PCI (Angioplasty)
* Coronary Artery Bypass Grafting (CABG)
সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যত দ্রুত রিভাসকুলারাইজেশন করা যায়, রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তত বেশি বৃদ্ধি পায়।
লেখক : অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, কার্ডিওলজি, শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, গুলশান