হোম > ফিচার > স্বাস্থ্য

মানসম্মত স্পিচ থেরাপিতে দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: আমার দেশ

মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা স্পিচ বা কথা বলা। আর কথা বলার ক্ষমতা না থাকলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ ও অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের রোগীদের প্রতি আরও সংবেদনশীল হতে হবে। আধুনিক ও সমন্বিত বা সামগ্রিক পদ্ধতিতে রোগীর সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত সর্বশেষ প্রযুক্তি ও পদ্ধতি শিখে তা কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি চিকিৎকদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যবহারের দক্ষতা আরো বৃদ্ধি করা জরুরি। কারণ এ চিকিৎসা সেবার ফলে অটিজম, অপ্রাক্সিয়া, অস্পষ্ট কথা বলা, তোতলামি এবং বিভিন্ন ধরনের বাক ও যোগাযোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য দেশে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদানের সুযোগ আরো বিস্তৃত হবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে সিআরসি সম্মেলন কক্ষে সোসাইটি অব স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টস (এসএসএলটি) আয়োজিত ছয় দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডস থেকে আসা দুই আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেন। এতে দেশের ৫৮ জন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের (বিআরসি) রেজিস্ট্রার ও যুগ্মসচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ। তিনি পুনর্বাসনসেবার মান উন্নয়নে বিশ্বমানের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে দেশের পেশাজীবীদের যুক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কাউন্সিলে নিবন্ধন ও লাইসেন্স ছাড়া কাউকে পুনর্বাসন স্পিচ থেরাপি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

হারুন অর রশিদ বলেন, পুনর্বাসন পেশাজীবীদের দক্ষতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে লাইসেন্সের আগে সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। পরীক্ষা ও লাইসেন্স ছাড়া কাউকে পুনর্বাসন ও

স্পিচ থেরাপি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, শেখার কোনো শেষ নেই। অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস কিংবা বাংলাদেশ সব দেশের মানুষ একই বিশ্বের অংশ। তাই জ্ঞান, প্রযুক্তি, মতামত ও প্রশিক্ষণ বিনিময় চলমান রাখতে হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বিদেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞদেরও বাংলাদেশে এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার বলেন, ২০১৭ সালে এসএসএলটি প্রতিষ্ঠার পর গত প্রায় নয় বছরে সংগঠনটির পেশাজীবীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। সংসদে প্রণীত আইনের অধীনে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলের আওতায় ১২টি পেশাগত শ্রেণি ও ২০ ধরনের পুনর্বাসন পেশাজীবী রয়েছেন। তাঁদের দক্ষতা ও সেবার মান বিশ্বমানের পর্যায়ে নেওয়া কাউন্সিলের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে তা আরও কার্যকর হবে। সেখানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি রোগীরা থাকবেন এবং প্রশিক্ষণার্থীরা সরাসরি রোগীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ভাষা ও কথা বলার থেরাপি বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক অ্যান-ক্যাথরিন ডেমেরেভিচ বলেন, মোটর স্পিচ ডিজঅর্ডারের কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবারের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক এবং রোগীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা প্রয়োজন। কর্মশালায় অংশ নেওয়া পেশাজীবীদের ক্লিনিক্যাল যুক্তিবোধ ও শেখার আগ্রহ প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এসে এসএসএলটির পেশাদারিত্ব ও পেশাটির উন্নয়নে সংগঠনটির প্রতিশ্রুতি তাঁকে মুগ্ধ করেছে। নৈতিক ও প্রমাণভিত্তিক চর্চা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনা ও স্পষ্ট পেশাগত মানদণ্ড প্রয়োজন। বিআরসির পূর্ণ সমর্থন নিয়ে এসএসএলটি পেশাটিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

নেদারল্যান্ডস থেকে আসা প্রশিক্ষক ক্যারেন বারবারা ব্রিঙ্কম্যান বলেন, বাংলাদেশের স্পিচ ও ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টদের একাডেমিক ভিত্তি শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক প্রম্পট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের বিদ্যমান জ্ঞানের সঙ্গে নতুন ধারণা ও কৌশলের সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পেশাগত উন্নয়নের জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের ভিত্তি হতে হবে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা ও কার্যকর জ্ঞান। বিআরসি ও এসএসএলটি একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশে নৈতিক পেশাগত চর্চা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার ফলাফলও উন্নত করা সম্ভব।

এসএসএলটির সভাপতি ফিদা আল শামস বলেন, প্রত্যেক পেশার একটি মানদণ্ড থাকা উচিত। কিন্তু রোগীদেরদের অনেকের অভিযোগ, তারা প্রকৃত থেরাপিস্টদের কাছ থেকে মানসম্মত সেবা পাননা এবং এবিষয়ে অনেকের প্রশিক্ষণ নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি, অথচ নিবন্ধন পাইনি। তিনি দ্রুত সরকারের কাছে নিবন্ধনের দেওয়ার দাবি জানান।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া কনসালট্যান্ট স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট নার্গিস জাহান বলেন, মোটর-সেন্সরি ও ট্যাকটাইল ইনপুটের মাধ্যমে স্পিচকে বোঝা ও সহায়তা করার ক্ষেত্রে প্রম্পট একটি কার্যকর পদ্ধতি। দেশে এমন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের আয়োজন পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শত বছরের অপেক্ষার পর ক্যানসার টিকায় মিলল সাফল্যের খবর

হাসনাতের দুঃখ প্রকাশের পর সরে গেলেন কওমি ছাত্ররা

হবিগঞ্জে বিএনপির সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

গুম মৃত্যুর চেয়ে ভয়াবহ: বিচারপতি

কোরআনের বিধান কায়েমে আলেমদের এগিয়ে আসতে হবে

‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে সাংবাদিকদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে’

এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি ছয় মাসেও বাস্তবায়ন হয়নি: চরমোনাই পীর

বিএনপির নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি করলে আমরা চাঁদাবাজ বলব: সারজিস আলম

ডেঙ্গুতে আরো দুইজনের মৃত্যু

নলছিটিতে ফেরিঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ