হোম > ফিচার > তথ্য-প্রযুক্তি

পাবলিক ইন্টারনেটে কী কী ঝুঁকি

তোফায়েল আরিফ

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট যেন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পড়াশোনা, অফিসের কাজ, ব্যবসা, ব্যাংকিং কিংবা বিনোদন সবকিছুই এখন ইন্টারনেটনির্ভর। এই সুবিধাকে আরো সহজ করতে শহরের নানা জায়গায় চালু হয়েছে ফ্রি বা পাবলিক ওয়াইফাই। হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মল, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড, এমনকি পার্কেও এখন ইন্টারনেট পাওয়া যায়। এই বিনামূল্যের ইন্টারনেট কি আসলেই নিরাপদ? নাকি অজান্তেই আমরা নিজের ব্যক্তিগত তথ্য তুলে দিচ্ছি অপরিচিত কারো হাতে?

পাবলিক ইন্টারনেট কী

পাবলিক ইন্টারনেট বলতে এমন নেটওয়ার্ককে বোঝায়, যা একসঙ্গে অনেক মানুষ ব্যবহার করতে পারে এবং যেখানে শক্ত নিরাপত্তা যাচাই-ব্যবস্থা সাধারণত থাকে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব নেটওয়ার্কে প্রবেশের জন্য কোনো ব্যক্তিগত ইউজারনেম বা আলাদা পাসওয়ার্ড লাগে না, কিংবা একই পাসওয়ার্ড সবাই ব্যবহার করেন। এই উন্মুক্ত ব্যবস্থাই পাবলিক ইন্টারনেটকে যেমন জনপ্রিয় করেছে, তেমনি করেছে ঝুঁকিপূর্ণ।

কেন ঝুঁকিপূর্ণ

পাবলিক ওয়াইফাইয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানে ব্যবহারকারীর ডেটা সুরক্ষার নিশ্চয়তা কম। একই নেটওয়ার্কে থাকা কেউ চাইলে অন্য ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারে। দক্ষ সাইবার অপরাধীদের জন্য এটি খুব কঠিন কাজ নয়।

প্রধান ঝুঁকিগুলো

১. অনেক পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে ডেটা এনক্রিপশন দুর্বল বা একেবারেই থাকে না। ফলে আপনি যখন কোনো ওয়েবসাইটে ঢোকেন, ইমেইল পাঠান বা মেসেজ করেন, সেই তথ্য মাঝপথেই অন্য কেউ দেখে ফেলতে পারে। এর মাধ্যমে চুরি হতে পারে ইমেইল ও সোশ্যাল মিডিয়ার লগইন তথ্য, ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি ও ডকুমেন্ট।

২. ম্যান ইন দ্য মিডল (MITM) আক্রমণ। এ ধরনের আক্রমণে হ্যাকার ব্যবহারকারী ও ওয়েবসাইটের মাঝখানে অবস্থান নেয়। ব্যবহারকারী ভাবেন তিনি নিরাপদ ওয়েবসাইটে তথ্য পাঠাচ্ছেন; কিন্তু বাস্তবে সেই তথ্য আগে চলে যাচ্ছে হ্যাকারের হাতে। এটি পাবলিক ইন্টারনেটের সবচেয়ে সাধারণ ও বিপজ্জনক ঝুঁকি একটি।

৩. ভুয়া বা নকল ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক। অনেক সময় হ্যাকাররা আসল নেটওয়ার্কের মতো নাম ব্যবহার করে ভুয়া ওয়াইফাই চালু করে। যেমন : Free-WiFi , Restaurant-WiFi Airport-Free-Net নাম দেখে ব্যবহারকারী সহজেই বিভ্রান্ত হন। একবার সংযুক্ত হলেই ডিভাইসের তথ্য সংগ্রহ করা শুরু হয়ে যায়।

৪. সোশ্যাল মিডিয়া ও ইমেইল হ্যাক-পাবলিক ইন্টারনেটে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইমেইলে লগইন করলে পাসওয়ার্ড ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে হ্যাকাররা লগইন সেশন কপি করে নেয়, যাকে বলা হয় সেশন হাইজ্যাকিং। ফল হতে পারে অ্যাকাউন্ট দখল, ভুয়া পোস্ট বা মেসেজ, পরিচিতদের সঙ্গে প্রতারণা।

৫. আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা। পাবলিক ইন্টারনেটে মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন কেনাকাটা বা কার্ডের তথ্য ব্যবহার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। একবার যদি আর্থিক তথ্য ফাঁস হয়ে যায়, তাহলে সরাসরি টাকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষজ্ঞরা পাবলিক ওয়াইফাইতে কখনোই ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার, কার্ড নম্বর দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ পেমেন্ট করতে পরামর্শ দেন না।

৬. ম্যালওয়্যার ও স্পাইওয়্যার সংক্রমণ। অনিরাপদ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ফোন বা ল্যাপটপে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ঢুকে পড়তে পারে। এসব সফটওয়্যার গোপনে ডেটা পাঠায়, ফোন ধীর করে দেয়, ব্যবহারকারীর ওপর নজরদারি করে। অনেক সময় ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না যে তার ডিভাইস আক্রান্ত।

৭. ডিভাইসের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঝুঁকিÑকিছু ক্ষেত্রে হ্যাকাররা পাবলিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অন্যের ডিভাইসে আংশিক নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এতে ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ব্যবহার, ফাইল অ্যাক্সেস, লোকেশন ট্র্যাক সম্ভব হয়ে ওঠে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য মারাত্মক হুমকি।

শিশু ও কিশোরদের জন্য ঝুঁকি বেশি

শিশু ও কিশোররা সাধারণত নিরাপত্তা বিষয়ে কম সচেতন। পাবলিক ইন্টারনেটে তারা সহজেই-অনিরাপদ লিংকে ক্লিক করে অযাচিত কনটেন্টের শিকার হয় এবং অনলাইন প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ে। এ কারণে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।

বাংলাদেশে ঝুঁকি বেশি কেন?

বাংলাদেশে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা এখনো পর্যাপ্ত নয়। অনেক ব্যবহারকারী অটোকানেক্ট চালু রাখেন, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন না, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বন্ধ রাখেন। ফলে সাইবার অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি হয়। পাবলিক ইন্টারনেট পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব না। তবে কিছু সতর্কতা ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে, পাবলিক ওয়াইফাইতে ব্যাংকিং ও সংবেদনশীল কাজ এড়িয়ে চলুন। অজানা বা সন্দেহজনক নেটওয়ার্কে যুক্ত হবেন না, HTTPS ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন, কাজ শেষে লগআউট করুন, অটোকানেক্ট অপশন বন্ধ রাখুন, প্রয়োজনে VPN ব্যবহার করুন, ডিভাইস ও অ্যাপ নিয়মিত আপডেট রাখুন।

ব্লকচেইন প্রযুক্তি

সাইবার নিরাপত্তায় প্রযুক্তির চেয়ে সচেতনতাই বড় হাতিয়ার

ফেসবুকের জন্মকথা

ইনস্টাগ্রামের নতুন ফিচারে ‘ক্লোজ ফ্রেন্ডসদের’ যেসব বার্তা

ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা উন্নয়নে এটুআই ও গাম্বিয়ার সমঝোতা স্মারক সই

উপজেলা থেকেই ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি গড়তে হবে: ফয়েজ

আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারে থাকবে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব

মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের সতর্কবার্তা বিটিআরসির

ফ্রিল্যান্সাররা পাচ্ছেন ডিজিটাল কার্ড, যেসব সুবিধা থাকছে

ক্যাবল বনাম ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট