হোম > ফিচার > তথ্য-প্রযুক্তি

ইউটিউব–ফেসবুক: অ্যালগরিদমের কীভাবে কাজ করে

আরিফ বিন নজরুল

একই সময়ে দুটি ভিডিও আপলোড করা হলো। একটিতে লাখ লাখ ভিউ, অন্যটি পড়ে রইল কয়েকশতে। প্রশ্নটা তখনই মাথায় আসে কেন? এখানে কি ভাগ্যের হাত আছে, নাকি গোপনে কেউ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কোন ভিডিও সামনে যাবে, আর কোনটি আড়ালেই থেকে যাবে? উত্তরটা লুকিয়ে আছে একটি অদৃশ্য শক্তির হাতে, যার নাম অ্যালগরিদম। ইউটিউব ও ফেসবুকের এই অ্যালগরিদমই ঠিক করে দেয়—কোন কনটেন্ট পৌঁছাবে মানুষের স্ক্রিনে, আর কোনটি হারিয়ে যাবে ডিজিটাল ভিড়ে।

অ্যালগরিদম আসলে কোনো মানুষ নয়, বরং জটিল গাণিতিক নিয়মের সমষ্টি। এর একমাত্র লক্ষ্য দর্শককে যত বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে রাখা যায়। আপনি যতক্ষণ ভিডিও দেখছেন, ততক্ষণই প্ল্যাটফর্মের লাভ। তাই ইউটিউব বা ফেসবুক এমন ভিডিওকেই এগিয়ে দেয়, যেগুলো মানুষকে থামিয়ে রাখে, স্ক্রল বন্ধ করায় এবং শেষ পর্যন্ত দেখায়।

এই জায়গাতেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে Watch Time। একটি ভিডিও কতজন দেখল, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলোÑকতক্ষণ দেখল। পাঁচ মিনিটের ভিডিও যদি কেউ মাত্র ৩০ সেকেন্ড দেখে ছেড়ে দেয়, তাহলে অ্যালগরিদম ধরে নেয় ভিডিওটি আকর্ষণীয় নয়। অন্যদিকে কম ভিউ হলেও যদি দর্শক ভিডিওর বড় অংশ দেখে ফেলে, অ্যালগরিদম সেটিকে ‘ভালো কনটেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে। তাই বলা হয়—‘ভিউ নয়, ওয়াচ টাইমই রাজা।’

এরপর আসে CTR (Click Through Rate)—মানে থাম্বনেইল ও শিরোনাম দেখে কতজন মানুষ ভিডিওতে ক্লিক করল। ধরুন, আপনার ভিডিওটি এক হাজার মানুষের সামনে দেখানো হলো, কিন্তু ক্লিক করল মাত্র ২০ জন। এতে অ্যালগরিদম বুঝে নেয়, ভিডিওর শিরোনাম বা থাম্বনেইল আকর্ষণীয় নয়। আবার যদি ১ হাজারে ১৫০ জন ক্লিক করে, অ্যালগরিদম ভিডিওটিকে আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। এখানেই থাম্বনেইল আর টাইটেলের খেলাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কিন্তু শুধু ক্লিক পেলেই চলবে না, ক্লিকের পর দর্শক যদি দ্রুত ভিডিও ছেড়ে দেয়, তাহলে সব হিসাব উল্টো হয়ে যায়। তাই CTR আর Watch Time দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি। অতিরিক্ত ‘ক্লিকবেইট’ শিরোনাম সাময়িক ভিউ আনলেও দীর্ঘ মেয়াদে অ্যালগরিদমের কাছে ভিডিওকে দুর্বল করে দেয়।

এরপর আসে Engagement—মানে দর্শকের অংশগ্রহণ। লাইক, কমেন্ট, শেয়ার, সেভÑএই প্রতিটি কাজ অ্যালগরিদমকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়, যে ভিডিওটি মানুষকে ভাবাচ্ছে বা প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে কমেন্টকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়; কারণ কমেন্ট মানে দর্শক শুধু দেখেনি, বরং সময় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাই অনেক সময় দেখা যায়, কম ভিউ হলেও বেশি কমেন্ট থাকা ভিডিও ধীরে ধীরে সামনে উঠে আসে।

ফেসবুক ও ইউটিউব শর্ট ভিডিওর ক্ষেত্রে আরো একটি বিষয় লক্ষ্য করে Retention Rate। মানে ভিডিওর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কত শতাংশ দর্শক টিকে থাকে। শর্ট ভিডিওতে প্রথম তিন থেকে পাঁচ সেকেন্ড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই দর্শক থেমে গেলে ভিডিও এগোয়, না হলে হারিয়ে যায়। তাই আজকের দিনে কনটেন্ট নির্মাতাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলোÑশুরুর কয়েক সেকেন্ডেই দর্শককে আটকে ফেলা।

অ্যালগরিদম ব্যক্তিগত পছন্দকেও গুরুত্ব দেয়। আপনি আগে কী দেখেছেন, কতক্ষণ দেখেছেন, কোন ধরনের ভিডিওতে লাইক বা কমেন্ট করেছেন এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে অ্যালগরিদম আপনার জন্য আলাদা ফিড তৈরি করে। তাই একই ভিডিও একজনের কাছে বারবার দেখা গেলেও আরেকজনের কাছে একবারও নাও আসতে পারে। ভাইরাল হওয়া মানে তাই সবার কাছে পৌঁছানো নয়, বরং সঠিক দর্শকের কাছে পৌঁছানো।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইউটিউব বা ফেসবুকের অ্যালগরিদম কোনো রহস্যময় শত্রু নয়। এটি নিরপেক্ষভাবে দর্শকের আচরণ অনুসরণ করে। যে ভিডিও মানুষ দেখে, সময় দেয়, প্রতিক্রিয়া জানায়Ñঅ্যালগরিদম সেটাকেই পুরস্কৃত করে। ভাইরাল হওয়া মানে তাই কৌশল জানা, শুধু ভাগ্য নয়। গল্পটা যত ভালো হবে, দর্শক তত বেশি সময় দেবে। আর অ্যালগরিদম তখন নিজেই ভাইরাল হওয়ার দরজা খুলে দেবে।

চ্যাটজিপিটির উত্তরে হতবাক সবাই

আইসিটি বিভাগের শ্বেতপত্র প্রকাশ

শীতকালে ঝুঁকির মুখে ডেস্কটপ ল্যাপটপ

ওয়েব হোস্টিং কেন প্রয়োজন

এনইআইআর বন্ধ হবে কি না, জানাল সরকার

এনইআইআর চালুর পর ক্লোন ফোন নিয়ে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ তথ্য

আনঅফিশিয়াল ফোন কবে বন্ধ হবে, জানাল সরকার

গুগল ডুডলে বর্ষবরণ

ঢাকার প্রেক্ষাপটে ‘এয়ার ট্যাক্সি’

ফাইভার-আপওয়ার্কে সফলতা