হোম > ফিচার > তথ্য-প্রযুক্তি

রোবট বনাম মানুষ : বিকল্প নাকি সহযাত্রী

আশিকুর রহমান তালহা

বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের। বিজ্ঞানের দ্রুতগতির সাফল্য আজ আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। চ্যাটজিপিটি থেকে শুরু করে কলকারখানার স্বয়ংক্রিয় রোবটÑসবকিছুই আমাদের মনে একটি প্রশ্ন জাগিয়ে দিচ্ছে, রোবট কি তবে মানুষের বিকল্প হয়ে দাঁড়াচ্ছে? লেখাটি এই ধোঁয়াশা নিয়েই।

শিল্পবিপ্লব থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

১৭৬০ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে প্রথম শিল্পবিপ্লবের সময় থেকেই মানুষ যন্ত্রের মাধ্যমে কায়িক শ্রম কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব’-এর চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছি। বর্তমানে উৎপাদন খাত, সেবা খাত, তথ্যপ্রযুক্তি, হাসপাতাল, ব্যাংকিংÑএমনকি শিক্ষা ক্ষেত্রেও রোবোটিকস ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। যান্ত্রিক সমস্যা সমাধান এবং নিখুঁত কর্মসম্পাদনে রোবট এখন সবার প্রথম পছন্দ।

রোবট মানুষের সহায়ক

ক্লান্তিহীন কর্মক্ষমতা, বিরতিহীন কাজ এবং কাজের নির্ভুলতাÑএই তিন কারণে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে মানুষের বিকল্প হয়ে উঠেছে রোবট। এর ফলে সময়, শ্রম ও খরচ যেমন কমছে, তেমনি বাড়ছে উৎপাদনশীলতা। বিশেষ করেÑ

* কারখানায় উৎপাদন।

* গুদাম ব্যবস্থাপনা।

* ডেটা প্রসেসিং : পুনরাবৃত্তিমূলক (Repetitive) কাজগুলো দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা।

রোবট কিন্তু স্বাধীন নয়, একে পরিচালনা করা, ডেটা ইনপুট দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার চাবিকাঠি এখনো মানুষের হাতেই।

মানুষ যেখানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী

প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, মানুষের কিছু সহজাত ও মৌলিক ক্ষমতা রয়েছে, যা অর্জন করা রোবটের পক্ষে অসম্ভব। মহান আল্লাহ তার পবিত্র গ্রন্থে মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে ঘোষণা করেছেন। মানুষের এই শ্রেষ্ঠত্বের মূলে রয়েছেÑ

* সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি।

* আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা (EQ)।

* নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের শক্তি।

একজন শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী বা সমাজকর্মীর কাজ শুধু যান্ত্রিক তথ্য আদান-প্রদান নয়, বরং এটি গভীর মানবিক গুণাবলির ওপর নির্ভরশীল, যা কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পক্ষে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি

অনেকে মনে করেন রোবট মানুষের কাজ কেড়ে নিচ্ছে; কিন্তু বাস্তবতা হলোÑপ্রযুক্তির কল্যাণে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। ২০ বছর আগে ‘ডেটা সায়েন্টিস্ট’ বা ‘এআই প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার’ নামে কোনো পেশার অস্তিত্বই ছিল না। আজ বাজারে সফটওয়্যার ডেভেলপার, ওয়েব ডেভেলপার, ডেটা অ্যানালিস্ট এবং এআই বিশেষজ্ঞদের ব্যাপক চাহিদা। প্রযুক্তি কিছু পুরোনো কাজ সরিয়ে দিলেও তৈরি করছে, তার চেয়েও বেশি আধুনিক ও সম্মানজনক কাজের ক্ষেত্র।

আমাদের করণীয়

ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানের বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আমাদের কাজের ধরন ও মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু গতানুগতিক শিক্ষা নয়, পাশাপাশিÑ

. নতুন দক্ষতা অর্জন : কোডিং, ডেটা অ্যানালাইসিস এবং রোবট পরিচালনায় প্রাথমিক জ্ঞান রাখা।

. মানবিক দক্ষতা : যোগাযোগ দক্ষতা (Communication Skills), নেতৃত্ব এবং দলগত কাজের ক্ষমতা বাড়ানো।

. *সৃজনশীলতা :* যান্ত্রিক কাজের বাইরে ইন্টেলেকচুয়াল বা বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাভাবনার প্রসার ঘটানো।

পরিশেষে বলব, রোবট মানুষের কাজ পুরোপুরি কেড়ে নিচ্ছে না, বরং কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। রোবট আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং এক শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।

কেন হঠাৎ রিচ কমে যায়

বাংলাদেশে পেপ্যাল: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

দেশের মোবাইল গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর

তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

গুগল ম্যাপে নতুন সার্চ পরিষেবা আসছে আপনার ভাষায়

প্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞানচর্চাই হবে ভবিষ্যৎ সভ্যতার কৌশলগত শক্তি: তথ্যমন্ত্রী

বিএসসিপিএলসির ৯ মাসে মুনাফা বেড়ে ২১৯ কোটি টাকা

অনলাইনে ডাটা সুরক্ষিত রাখার যেসব উপায়

সাইবার হামলা রুখতে নতুন অস্ত্র ওপেনএআই

ফোনের অ্যাপে হজের পুরো গাইডলাইন এবার বাংলায়