হোম > ফিচার > তথ্য-প্রযুক্তি

আলোড়ন সৃষ্টি করেছে নাইকির মানসিক চাপ কমানোর জুতা

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: ‍সিএনএন

এত দিন ধরে নাইকি ক্রেতাদের কাছে জুতা বিক্রি করেছে দ্রুত দৌড়ানো, উঁচুতে লাফানো বা স্রেফ ফ্যাশনেবল দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে। তবে চলতি বছরে স্পোর্টসওয়্যার জায়ান্ট কোম্পানিটি সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর তা হলো মানুষের মন বা মানসিক অবস্থা পরিবর্তন করা।

গত জানুয়ারি মাসে বাজারে আসার পর থেকেই নাইকির ‘মাইন্ড’ জুতো বিশ্বজুড়ে মানুষের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নাইকির প্রথম ‘নিউরোলজি বা স্নায়ুবিজ্ঞান-ভিত্তিক জুতা’ কিনতে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। ফলে বিশ্বজুড়ে একের পর এক রিলিজের পর দ্রুতই এর স্টক শেষ হয়ে যাচ্ছে।

স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ট্র্যাকারের মতো পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির যুগে এটি একটি নতুন ক্যাটাগরি তৈরি করেছে। এই পণ্যগুলো কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ছাড়াই কেবল পোশাক বা জুতার মাধ্যমেই ভালো বসার ভঙ্গি থেকে শুরু করে মসৃণ ত্বকের মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

যেমন সেন্সরি প্রযুক্তি কোম্পানি ‘নাবোসো’ তাদের ইনসোল ও মোজায় বিশেষ টেক্সচার ব্যবহার করছে। এটি পায়ের স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে শরীরের ভারসাম্য, রক্ত সঞ্চালন এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

২০২৫ সালে ‘সিন’ নামের একটি ব্র্যান্ড ‘ওয়্যারেবল লিম্ফ্যাটিক ম্যাসাজ’ হিসেবে কাজ করার জন্য বিশেষ ফেব্রিক বা কাপড় চালু করেছে।

ফরাসি ব্র্যান্ড ‘কোপার্নি’ এমন পোশাক এনেছে যা ত্বকে প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক সরবরাহ করে স্কিনকেয়ারের সুবিধা দেয়।

তবে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তার দৌড়ে নাইকির ‘মাইন্ড’ জুতা অনেক এগিয়ে রয়েছে। মিউল বা পেছন খোলা জুতা এবং স্নিকার উভয় আকৃতিতেই পুরুষ ও নারীদের জন্য এই জুতো তৈরি করা হয়েছে।

নাইকির দাবি, এটি মানুষের মানসিক বিভ্রান্তি দূর করতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

এই জুতা ব্যায়াম বা খেলার সময় পরার জন্য নয়, বরং খেলার আগে ও পরে পরার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই বিষয়টিও ক্রেতাদের দমাতে পারেনি। মিউল ও স্নিকার স্টাইলের এই জুতা দুটির দাম যথাক্রমে ৯৫ ডলার এবং ১৪৫ ডলার।

নাইকি জানিয়েছে, বাজারে আসার পর মিউল স্টাইলের জুতাটি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এরপর কোম্পানির অনলাইন শপে স্টক রি-স্টকের নোটিফিকেশনের জন্য ২০ লাখেরও বেশি মানুষ সাইন-আপ করেছেন।

এমনকি সেকেন্ডারি বা পুনর্বিক্রয়ের অনলাইন মার্কেটপ্লেস ‘স্টকএক্স’-এ এই জুতাটি অনেক বেশি দামে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ‘লাইট স্মোক গ্রে’ রঙের মিউল জুতাটি ২০১৬ সালে স্টকএক্স চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নাইকির এক নম্বর জুতা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

শিথিল সতর্কতা

নাইকির মন পরিবর্তন করার এই দাবির মূল রহস্য লুকিয়ে আছে জুতার নিচের অংশে। প্রতিটি জুতার নিচে ২২টি ফোম নোড (এক ধরণের গুটি) ছড়ানো রয়েছে। ব্যবহারকারী যখন হাঁটেন, তখন এই নোডগুলো পিস্টনের মতো স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করে। এগুলো পায়ের চাপ ও টেক্সচার সনাক্তকারী স্নায়ুকোষ উদ্দীপিত করে।

নাইকি স্পোর্ট রিসার্চ ল্যাব জানিয়েছে, ১০ বছরের গবেষণায় নিউরোলজিস্ট বা স্নায়ুবিজ্ঞানীরা ট্রেডমিলে এই জুতা পরে হাঁটা অ্যাথলেটদের মস্তিষ্কের তরঙ্গ পরিমাপ করেছেন।

ফলাফলে দেখা গেছে, এটি মস্তিষ্কের ‘সেন্সরিমোটর নেটওয়ার্ক’ (এসএমএন)-এ বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ বাড়িয়ে দেয়। এই নেটওয়ার্কটি মূলত চলাচল এবং স্পর্শের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে মস্তিষ্কের ‘ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক’ (ডিএমএন) শান্ত হয়ে যায়। এই ডিএমএন মূলত মানুষের আজেবাজে চিন্তা এবং মনের খেয়ালখুশিমতো ঘুরে বেড়ানোর জন্য দায়ী।

এর ফলে ব্যবহারকারীরা নেতিবাচক চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে এক ধরণের ‘শিথিল সতর্কতা’ বা শান্ত মনে মনোযোগী হওয়ার অবস্থায় পৌঁছাতে পারেন। তবে নাইকি এখনো এই বিজ্ঞানের পেছনে কোনো পিয়ার-রিভিউড বা সহকর্মী গবেষক দ্বারা যাচাইকৃত গবেষণা প্রকাশ করেনি।

নাইকি স্পোর্ট রিসার্চ ল্যাবের প্রধান গবেষক গ্রায়েম মফাত বলেন, ‘নাইকি মাইন্ড জুতা স্নায়ু-অপ্টিমাইজড ফুটওয়্যারের একটি নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।’

পুরোনো ধারণা, নতুন প্রবণতা

যুক্তরাজ্যের লফবরো ইউনিভার্সিটির স্মার্ট টেক্সটাইল এবং ওয়্যারেবল টেকনোলজির অধ্যাপক ড. ইশারা ধর্মসেনা মনে করেন, এই বিজ্ঞান অবাস্তব নয়।

শ্রীলঙ্কায় জন্ম নেওয়া এই অধ্যাপক নাইকির এই জুতাকে তার নিজ দেশের হাজার বছরের পুরোনো আয়ুর্বেদিক এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসার বা পা ম্যাসাজ একটি বৈজ্ঞানিক রূপ হিসেবে দেখছেন। ওই চিকিৎসায় পায়ের নির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্য করে ম্যাসাজের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো হতো।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ফোম নোডের মাধ্যমে স্নায়ু উদ্দীপিত করার এই তত্ত্বটি মেডিটেশন বা ধ্যানের মতোই। এটি মানুষকে নিজের শরীরের ভেতরের অনুভূতি নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে।

ড. ধর্মসেন বলেন, ‘এটি আপনাকে অন্যদিকে মন চলে যাওয়া থেকে আটকায়। ফলে এটি বৈজ্ঞানিকভাবে যুক্তিযুক্ত।’

তবে তিনি কিছু সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তার মতে, দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পর ব্যবহারকারীরা এই অনুভূতির সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। কারণ মস্তিষ্ক সুরক্ষার স্বার্থে নতুন অন্য অনুভূতিতে মনোযোগ দিতে পুরোনো অনুভূতিকে স্বাভাবিক করে নেয়। এছাড়া অনুভূতি পাওয়ার অর্থই কগনিটিভ বা জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা বেড়ে যাওয়া নয়।

তিনি এই জুতাকে ‘প্যাসিভ নিউরো-ওয়্যারেবল’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন। এটি স্মার্টওয়াচের মতো ব্যাটারিচালিত ডিভাইসের বিপরীত এক ধারা, যা কোনো ডেটা ট্র্যাক না করে মানুষকে রিল্যাক্স বা শান্ত হতে সাহায্য করে।

গত বছর প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী স্মার্ট টেক্সটাইলের বাজার ৫.৫৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

ড. ধর্মসেনা এই জুতাকে একটি ‘অ্যান্টি-ট্রেন্ড’ বা বিপরীত ধারা বলে মনে করেন।

সূত্র: সিএনএন

এএম

কম দামে নতুন এআই স্মার্ট চশমা আসছে বাজারে

এআই প্রযুক্তির প্রভাব, এক বছরে ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করলো ওরাকল

হোয়াটসঅ্যাপে বাড়ছে সাইবার হামলা, সুরক্ষিত রাখার উপায় কী

সড়ক থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন

বিশ্বকাপের বলের ভেতর বিস্ময়কর প্রযুক্তি

বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল ক্যামেরা

ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি

বাবা দিবসে যেসব গ্যাজেট হতে পারে সেরা উপহার

সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে: প্রযুক্তিমন্ত্রী

ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস