বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এখন প্রযুক্তি শিল্পেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় প্রযুক্তি পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী দিনে স্মার্টফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের দাম বাড়তে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দাম বাড়ার প্রভাব এরই মধ্যে প্রযুক্তি শিল্পে পড়তে শুরু করেছে। স্যামসাং ডিসপ্লের প্রেসিডেন্ট ও সিইও চং ইয়ি জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রযুক্তি পণ্য তৈরির খরচ ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষ করে চিপ উৎপাদনের খরচ এরই মধ্যে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ফোন, কম্পিউটার এবং অন্যান্য ডিভাইসের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম বাড়লে শুধু জ্বালানির খরচই বাড়ে না, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাঁচামালের দামও বেড়ে যায়। প্রযুক্তি পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত কিছু উপাদান, যেমন বিশেষ ধরনের ফিল্ম ও রাসায়নিক উপকরণ তেলের উপাদান থেকেই তৈরি হয়। তাই জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি হলে সেই কাঁচামাল উৎপাদনের খরচও স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে।
এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। ফলে কোম্পানিগুলোকে হয় নিজেদের মুনাফা কমাতে হবে, না হয় পণ্যের দাম বাড়াতে হবে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়েই গিয়ে পড়বে এবং বাজারে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের দাম বাড়তে পারে।
শুধু নতুন মডেলের ডিভাইস নয়, বর্তমানে বাজারে থাকা পণ্যের ক্ষেত্রেও মূল্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাদের মূল্য কাঠামো নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে।
তবে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিকল্প উপাদান ব্যবহারের পথ খুঁজছে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় খরচ কমানোর উপায় নিয়ে কাজ করছে। তবুও যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি তেলের দাম যদি আরও বাড়তে থাকে, তাহলে শিগগিরই স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেখা যেতে পারে।