হোম > ফিচার > তথ্য-প্রযুক্তি

মানুষ ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠছে এআই

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

প্রতীকী ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এর সক্ষমতা যেমন বাড়ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নতুন ঝুঁকি। চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বড় এআই প্রতিষ্ঠান একদিকে গণিতে অগ্রগতির কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে এআই মানবজাতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে ‘এআই এজেন্ট’ ফাইল সম্পাদনা, ই-মেইল পাঠানো, টিকিট বুক করা এবং কম্পিউটার কোড লেখার মতো কাজ করতে পারে। তবে এগুলো এখনো মানুষের নির্দেশের ওপর নির্ভরশীল। ভবিষ্যতে এআইকে ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ গ্রিড, শেয়ারবাজার বা সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হলে অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এসব পরিস্থিতি এখনো অনেকটাই অনুমাননির্ভর।

ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান এআইয়ের ওপর নিরাপত্তাব্যবস্থা বা ‘গার্ডরেল’ দিয়েছে। ক্ষতিকর নির্দেশনা পেলে চ্যাটবট সাধারণত তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা নিখুঁত নয়। গবেষকেরা কবিতার মতো কাব্যিক ভাষা ব্যবহার করেও ৩১টি এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ পাশ কাটাতে সক্ষম হয়েছেন।

এআই নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন প্রস্তাবও এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি বাজারে ছাড়ার আগে নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সরকারি পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। জুনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরকারি পর্যালোচনার একটি স্বেচ্ছামূলক কাঠামো তৈরির নির্বাহী আদেশ দেন। এআই ব্যবস্থাকে জরুরি প্রয়োজনে বন্ধ করার জন্য ‘কিল সুইচ’ তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এ ধরনের ব্যবস্থা দিয়ে সব ঝুঁকি ঠেকানো সম্ভব নয়।

এআইকে ‘সুপারইনটেলিজেন্স’-এ পৌঁছানো নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এর কিছু সক্ষমতা ইতোমধ্যে মানুষের চেয়ে বেশি। গণিত ও কম্পিউটার কোড লেখার মতো কাজে এটি দ্রুত এগোচ্ছে। তবে সাধারণ বোধ ও বাস্তব জগত বোঝার ক্ষেত্রে এআই এখনো সীমাবদ্ধ।

এআই দিয়ে ক্যানসার নিরাময়, বিশ্ব ক্ষুধা দূর করা বা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও এসব এখনো মূলত সম্ভাবনার কথা। এআই ওষুধ আবিষ্কারের গতি বাড়াতে পারে, কিন্তু চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়ায় এটি কেবল একটি অংশ।

চাকরির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। একসময় মনে করা হয়েছিল, এআই প্রথমে শারীরিক শ্রমের কাজ কেড়ে নেবে। কিন্তু বর্তমান এআই বরং লেখক, গ্রাফিক ডিজাইনার, হিসাবরক্ষক, ব্যক্তিগত সহকারী ও সফটওয়্যার প্রোগ্রামারদের কাজকে বেশি প্রভাবিত করছে। সিলিকন ভ্যালির কিছু স্টার্টআপ ইতোমধ্যে কম কর্মী নিয়ে এআই দিয়ে এসব কাজ করছে।

এআই চালাতে বিপুল অর্থ ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো শত শত কোটি ডলার ব্যয় করছে এবং ডেটা সেন্টার তৈরিতে বড় অঙ্কের ঋণও নেওয়া হচ্ছে। এসব ডেটা সেন্টারে সার্ভার ঠান্ডা রাখতেও প্রচুর পানি লাগে। আইওয়ার কাউন্সিল ব্লাফসের একটি ডেটা সেন্টার ২০২৪ সালে নিজস্ব স্থাপনায় ১০০ কোটি গ্যালনের বেশি পানি ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।

চ্যাটজিপিটি সাধারণভাবে ফোন বা আইপ্যাডের ফোল্ডার থেকে নিজে থেকে ব্যাংক হিসাব বা পাসওয়ার্ড নিতে পারে না। তবে ‘এআই এজেন্ট’কে ব্যবহারকারীরা ফোল্ডার, ই-মেইল এমনকি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারেন। এমনটি করা নিরাপদ নয়। এসব এজেন্টের হঠাৎ ফাইল মুছে ফেলা বা অপ্রত্যাশিতভাবে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করার ঘটনাও ঘটেছে।

এআই দ্রুত উত্তর দিতে পারে কারণ নিউরাল নেটওয়ার্ক বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও শব্দের সম্পর্ক শেখে। তবে এআই ভুল তথ্যও তৈরি করতে পারে, যাকে ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়। ফলে এআই যতই দ্রুত ও বিস্তৃতভাবে উত্তর দিক, এর তথ্য সব সময় নির্ভুল—এমন নিশ্চয়তা নেই।

এএম

চাঁদের বুকে নতুন বিশাল গর্তের সন্ধান

নিয়ন্ত্রণের বাইরে এআই, বাড়ছে উদ্বেগ

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের অদৃশ্য মেশিন

এআইয়ের ঢেউয়ের মুখোমুখি চীনা কর্মীরা

কবে শেষ হবে পৃথিবী, হিসাব দিলেন বিজ্ঞানীরা

এআইয়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় রোবটদের বিক্ষোভ

ব্যয়বহুল ফোল্ডেবল আইফোন এনে বড় জুয়া খেলছে অ্যাপল

স্মার্টফোন সুরক্ষায় পাসওয়ার্ড নাকি পিন

এআই সার্চ বনাম গুগল সার্চ

অনলাইনে নাগরিকের তথ্য বিক্রি