হোম > ফিচার > ভ্রমণ

বিলাসিতা ও শিল্পের অন্যরকম জগৎ লন্ডনের মাউন্ট স্ট্রিট

আরব নিউজ

লন্ডনের সবচেয়ে বিলাসবহুল এলাকাগুলোর একটি মাউন্ট স্ট্রিট। ব্রিটিশ রাজধানীর অভিজাত মেফেয়ার এলাকায় অবস্থিত এই পাড়া ফ্যাশন, খাবার, শিল্প ও নকশার জন্য সুপরিচিত। তবে নামী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরেও এর সরু রাস্তা, পুরোনো ভবন ও নিচতলার গোপন দরজার আড়ালে রয়েছে নানা ধরনের অভিজ্ঞতা। উপসাগরীয় দেশগুলোর পর্যটকদের কাছেও জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়।

মাউন্ট স্ট্রিটের এলাকা পশ্চিমে পার্ক লেন থেকে পূর্বে ডেভিস স্ট্রিট পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি গ্রসভেনর এস্টেটের অংশ, যার মেফেয়ার ও বেলগ্রাভিয়া এলাকায় প্রায় ৩০০ একর সম্পত্তি রয়েছে। কুইন অ্যান রিভাইভাল স্থাপত্যশৈলীর ভবন, ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান, স্কটস রেস্তোরাঁ ও দ্য কনটসহ নানা আকর্ষণ এ এলাকাকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

গ্রিন পার্ক টিউব স্টেশন থেকে হেঁটেই মাউন্ট স্ট্রিটে যাওয়া যায়। পথের শুরুতে রয়েছে মনোরম মাউন্ট স্ট্রিট গার্ডেনস। এরপর সাউথ অডলি স্ট্রিটে গ্রসভেনর চ্যাপেলের পাশ দিয়ে এগোলে পাওয়া যায় দ্য মেফেয়ার ইনস্টিটিউট। এখানে রয়েছে হাঙ্গেরির বিলাসবহুল স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড ওমোরোভিচার লন্ডন শাখা।

দুই তলা এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে দুটি ট্রিটমেন্ট রুম, বিশ্রামের জন্য বিশেষ জায়গা, ছোট একটি উঠান ও পণ্যের প্রদর্শনীকেন্দ্র। তামা, ট্রাভারটাইন, মাটির প্রলেপ ও টেরাকোটার সমন্বয়ে সাজানো অভ্যন্তরটি তৈরি করেছে ডিজাইনার টিনা ভাইয়া ও ইজেএম স্টুডিওর এড মিল্টন। এখানে বিশেষ আকর্ষণ ‘আন্দ্রাশি ফেসিয়াল’—৯০ মিনিটের একটি সৌন্দর্যচর্চা, যেখানে ব্র্যান্ডটির খনিজসমৃদ্ধ পণ্যের সঙ্গে হাঙ্গেরীয় ফেসিয়াল ম্যাসাজ ব্যবহার করা হয়।

এর মাত্র ৫০ মিটার দূরে সাউথ অডলি স্ট্রিট ও অ্যালডফোর্ড স্ট্রিটের কোণে রয়েছে ফার্ম শপ। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলেই পাওয়া যায় এই ব্যতিক্রমী খাবারের জায়গা। এটি আর্টফার্মের একটি উদ্যোগ। সুইস শিল্প ব্যবসায়ী ইভান ও ম্যানুয়েলা ভির্থ প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ১ হাজার একর ডার্সলেড ফার্ম রয়েছে সমারসেটে। ফার্ম শপ ও এর ওয়াইন বারের অনেক খাবারের উপকরণ সেখান থেকেই আসে।

ফার্ম শপে খাবারের তালিকায় ছিল ব্ল্যাক ট্রাফল সালামি, মূলা ও ট্রাফল মেয়োনেজ। মূল খাবারের মধ্যে ছিল সমারসেটের চার ধরনের চিজ ও লিক দিয়ে তৈরি টোস্টি এবং ফ্রাইসহ লবস্টার রোল। স্থানীয় উৎপাদক ও কৃষকদের কাছ থেকে উপকরণ সংগ্রহের মাধ্যমে মানসম্মত ও টেকসই খাদ্যব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মাউন্ট স্ট্রিটের আরেক আকর্ষণ আর্জেন্টিনার সুগন্ধি প্রতিষ্ঠান ফুয়েগুইয়া ১৮৩৩। এর প্রতিষ্ঠাতা হুলিয়ান বেদেল। গত বছরের শেষ দিকে চালু হওয়া এই গ্যালারিতে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধির পাশাপাশি পুরোনো সুগন্ধি ও এসেন্সও রাখা হয়েছে। বেদেল এটিকে ‘পারফিউম আতেলিয়ে’ হিসেবে তৈরি করেছেন। নিজস্ব নকশার আসবাব, জানালায় রাখা ছয়টি গিটার এবং নিজস্ব সুরের আবহ প্রতিষ্ঠানটিকে সাধারণ সুগন্ধির দোকানের চেয়ে আলাদা করেছে।

এখানে সীমিতসংখ্যক দর্শনার্থীর জন্য বিশেষ সুগন্ধি কর্মশালারও আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধির জগতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকে। লা পাতাগোনিয়া, ডারউইন, এন্ডেভার, কনকুইস্তা ও রিন—প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সুগন্ধি।

সব মিলিয়ে মাউন্ট স্ট্রিট শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়। এখানে অভিজাত স্থাপত্য, ফ্যাশন, শিল্প, খাবার, সৌন্দর্যচর্চা ও সুগন্ধির অভিজ্ঞতা একসঙ্গে পাওয়া যায়। তাই লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী মেফেয়ারকে একটু ভিন্নভাবে দেখতে চাইলে পায়ে হেঁটে মাউন্ট স্ট্রিট ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা হতে পারে বেশ আকর্ষণীয়।

অষ্টগ্রাম, মিঠামইন ও নিকলী হাওর ভ্রমণ

ইডেন কন্যাদের কুমিল্লা সফর

দেশি-বিদেশি পর্যটন সেবার পসরা নিয়ে শুরু বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট

লন্ডনের অপরূপ টাওয়ার ব্রিজ

একাকিত্ব উপভোগ করতে একাই ভ্রমণ

ভুটানে বাংলাদেশের নয়নাভিরাম দূতাবাস

চীন: স্বপ্ন, শিক্ষা ও অনুপ্রেরণার এক অনন্য ঠিকানা

৪০ দেশের জন্য ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ চালু করল শ্রীলঙ্কা

স্বপ্ননগরী সাংহাই

এক স্বপ্ননগরীর নাম সাংহাই