পাঠকদের আগ্রহ আগের বই
চলতি বছর অমর একুশে বইমেলার প্রথম চারদিনে মোট ১৩৬টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে-মেলার দ্বিতীয় দিন ১৬টি, তৃতীয় দিন ৩৮টি এবং রোববার মেলার চতুর্থদিন ৪২টি নতুন বই প্রকাশিত হয়। বইমেলার প্রথম দিনে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা গণনা করে না বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ।
রোববার বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানায়। বাংলা একাডেমির তথ্যমতে, প্রকাশিত নতুন বইয়ের মধ্যে গল্পের বই রয়েছে ১৫টি, উপন্যাস ১৩টি, প্রবন্ধ পাঁচটি, কবিতা ২৫টি, গবেষণা পাঁচটি, ছড়া একটি, শিশুতোষ আটটি, জীবনী চারটি এবং নাটক একটি। এছাড়া বিজ্ঞান, ভ্রমণ ও ইতিহাসবিষয়ক দুটি করে মোট ছয়টি, একটি করে ভাষা, অনুবাদ ও সায়েন্স ফিকশন এবং অন্যান্য বিষয়ের ১০টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশকরা জানান, রমজান মাসের মধ্যেও পাঠকদের আগ্রহ ধরে রাখতে বিভিন্ন ধরনের নতুন বই প্রকাশ করা হচ্ছে। নতুন বইয়ের আগমনে মেলায় দর্শনার্থী ও পাঠকদের আগ্রহও বাড়ছে।
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সূচীপত্র-এর প্রকাশক সাঈদ বারী আমার দেশকে বলেন, আশা করি, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মেলা সফলভাবে সম্পন্ন হবে। ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই মহোৎসব আবারও পাঠকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। একুশের চেতনায় সমৃদ্ধ এ আয়োজন বইয়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা নতুন করে জাগিয়ে তুলবে এবং প্রকাশনা শিল্পের চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতেও সহায়ক হবে।
মেলায় অনেক নতুন বই এলেও পাঠকদের হাতে দেখা যাচ্ছে পুরোনো নই। গোপীবাগ থেকে মেলায় বই কিনতে আসেন তরুণ পাঠক জান্নাতুল ফেরদৌসি। তিনি জেনেসিস, বেলা শুনছো ও যে ঘাটে কভু তরী ভেড়েনি নামের তিনটি বই কেনেন। তিনি বলেন, বাসা থেকে রিভিউ দেখে এসে এসব বই কিনলাম। শেষ দিকে আবার রিভিউ পেলে তখন নতুন বই কিনব।
রাজধানীর পল্টন থেকে এসেছেন তরিকুল ইসলাম। তিনিও পূর্ব প্রকাশিত বই কিনেছেন। তিনি আমার দেশকে বলেন, আমি মা, মা, মা এবং বাবা বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ড কিনেছি। নতুন বই সম্পর্কে জেনে এরপর কিনব।
বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: হামিদুজ্জামান খান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাসিমুল খবির। লালারুখ সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন আইভি জামান।
আইভি জামান বলেন, শিল্পী হামিদুজ্জামান খান তার কর্মমুখর জীবনে সৃষ্টিশীলতার মাঝেই সব সময় ডুবে থাকতেন। জীবনাবসানের আগ পর্যন্ত তিনি শিল্পসাধনায় নিমগ্ন ছিলেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে তার সৃষ্টিশীলতার স্মারক তিনি রেখে গেছেন। সেসব সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়েই তিনি সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবেন।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত মোহন রায়হানের
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছেন কবি মোহন রায়হান। নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই পুরস্কার গ্রহণ করতে চান তিনি। তবে, পুরস্কারের অর্থ গ্রহণ করতে চান না বলে জানান তিনি।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান মোহন রায়হান।
তিনি বলেন, পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণার পর আমার পুরস্কার গ্রহণ বা বর্জন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক শুরু হয়। আমরা ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহ্বান করি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতÑপুরস্কার গ্রহণের পক্ষে। আবার অনেকে মত দেনÑএই অপমানের প্রতিবাদে পুরস্কার বর্জনই নৈতিক অবস্থান হবে।
তিনি আরো বলেন, আমি গভীরভাবে ভাবলাম। আমি কোনো পদক বা অর্থের কাঙাল নই। জীবনের সায়াহ্নে এসে সামান্য স্বীকৃতি ও সম্মানের প্রত্যাশাই আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল।
পুরস্কারের অর্থ গ্রহণ না করার কথা জানিয়ে মোহন রায়হান বলেন, পুরস্কারের অর্থ আমি ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করব না। সেটি কোনো সামর্থ্যহীন কবি, লেখক বা সাংস্কৃতিক কর্মীর কল্যাণে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।