হোম > সাহিত্য সাময়িকী > প্রবন্ধ

ভিক্টর হুগোর লেখায় আধ্যাত্মিকতা কীভাবে এলো

বাসেম আল বাক্কুর

ভিক্টর হুগো (২৬.২. ১৮০২Ñ২২. ৫.১৮৮৫)

পশ্চিমা সাহিত্যে ইসলামকে ভয়, ভুল ধারণা, বিকৃতি কিংবা অগভীর দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে ইউরোপীয়দের সমাজে ও মন-মগজে ইসলাম ও মুসলমান সম্পর্কে কিছু স্টেরিওটাইপ বা পূর্বধারণা দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে। এসব ধারণায় ইসলাম ও মুসলমানকে কখনো ‘অপর’ বা ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ হিসেবে ব্যঙ্গ-উপহাস করা হয়েছে, আবার কখনো ‘সাংস্কৃতিক শত্রু’ হিসেবে সন্দেহ ও ভয়ের চোখে দেখা হয়েছে।

কিন্তু এই বুদ্ধিবৃত্তিক হুলস্থুলের মধ্যেও কয়েকটি কণ্ঠস্বর উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, যারা অহেতুক বিচার করার বদলে মনোযোগ দিয়ে দেখেছেন-শুনেছেন এবং কাছে এসে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে ফ্রেঞ্চ কবি ও ঔপন্যাসিক ভিক্টর হুগো (২৬.২. ১৮০২—২২. ৫.১৮৮৫)।

তিনি ইসলামে গভীর মানবিক ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করেছিলেন, যা তার কাব্যিক ও বৌদ্ধিক অভিযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি জীবন ও মৃত্যু, আত্মা ও মুক্তির মহাজাগতিক তাৎপর্য অনুসন্ধান করেছিলেন।

‘লে মিজারেবল (Les Misérables)’ ও ‘দ্য হাঞ্চব্যাক অব নটর ডেম (Notre-Dame de Paris)’ গ্রন্থের রচয়িতা ইসলাম সম্পর্কে কোনো সরাসরি গ্রন্থ রচনা করেননি, কিংবা কোনো ধর্মতাত্ত্বিক তত্ত্ব বা বিশ্বাসের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেননি। কিন্তু তিনি যা করেছেন তা আরো গভীর; তিনি এই ধর্মকে কবিতায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন এক মহান নৈতিক শক্তি হিসাবে, এমন এক সভ্যতা হিসাবে, যা মানবচেতনা গঠনে অবদান রেখেছে এবং ইতিহাসে যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী।

তার রচনায় ইসলাম কোনো অচেনা ‘আগন্তুক’ হিসেবে আবির্ভূত হয়নি, বরং এমন এক উৎস হিসেবে দেখা দিয়েছে, যেখান থেকে কবির সারাজীবনের ভাবনার উত্তর মেলে—অস্তিত্ব, ন্যায়বিচার এবং মানবিক দায়িত্বের অর্থ পাওয়া যায়।

যে সময় ইউরোপ প্রাচ্যের দিকে তাকাত সন্দেহের চোখে বা শ্রেষ্ঠত্ববোধ নিয়ে, সে সময় ভিক্টর হুগো ইসলামে দেখেছিলেন একত্ববাদ ও মহান মর্যাদার প্রতীক। আর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছিলেন এমন এক মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে, যিনি তার প্রতিপালকের দিকে ডাকার দায়িত্ব বহন করেছেন। এ দৃষ্টিভঙ্গিই ছিল পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসলাম সম্পর্ক ঘিরে আঠারো ও ঊনিশ শতকে গড়ে ওঠা নীরবতা ও ভুল বোঝাবুঝির প্রাচীরে এক প্রাথমিক ভাঙন।

এখান থেকে বোঝা যায়, ভিক্টর হুগোর রচনায় ইসলামের অধ্যয়ন কেবল ইতিহাসঘেঁষা কৌতূহল নয়; বরং এমন এক অন্বেষণ বা গবেষণা, যা দেখায় সাহিত্য কীভাবে অন্য এক সভ্যতার আত্মার জানালা খুলে দিতে পারে। সময় ও স্থানের সীমানা অতিক্রম করে মানুষের মধ্যে এক অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারে।

আর এটিই করেছেন ফরাসি গবেষক লুই ব্লাঙ্ক (২৯.১০.১৮১১— ৬.১২.১৮৮২) তার ‘ভিক্টর হুগো ও ইসলাম (Victor Hugo et l’Islam)’ বইয়ে। লুই ব্লাঙ্ক দেখিয়েছেন— ভিক্টর হুগোর ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহ কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস গ্রহণের কারণে নয়। যেহেতু তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের পক্ষে কোনো রচনা লেখেননি, বরং ইসলামই তার কবিতা ও চিন্তায় গভীর সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক প্রভাব ফেলেছিল। এটি তাকে সমৃদ্ধ বৌদ্ধিক ও সাহিত্যিক সম্পদ প্রদান করেছিল, যা জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে তার সঙ্গে থাকা বড় বড় প্রশ্নগুলোর উত্তর তালাশে সাহায্য করেছিল।

ভিক্টর মারি হুগো প্যারিসে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যে পরিবার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি তেমন মনোযোগ দিত না। তার জন্ম এমন এক সময়ে হয়েছিল যখন ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯) পর ফরাসি সমাজ আপাদমস্তক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।

তিনি ক্যাথলিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন, কিন্তু তার ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি দ্রুত বিকশিত হয়ে এক গভীর আধ্যাত্মিকতায় রূপ নেয়, যা জীবনের অর্থ ও অস্তিত্বের মহাজাগতিক প্রশ্নের সন্ধানে উন্মুখ ছিল। তিনি প্রচলিত মতবাদ থেকে ক্রমান্বয়ে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন এবং সংকীর্ণ তাত্ত্বিক ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে গিয়ে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ধারণার সন্ধান করেন, যা তাকে তার সমসাময়িক লেখকদের থেকে স্বতন্ত্র ও আলাদা করে তোলে।

তবে হুগোর ধর্মীয় যাত্রায় মূল মোড়টি আসে ৪৪ বছর বয়সে, যখন তিনি কোরআনের অনুবাদ পাঠ করেন। এটি তার জন্য এক বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাহিত্যিক ধাক্কা হিসেবে কাজ করে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকচিহ্নের মতো হয়ে ওঠে। তার মানবিক বোধকে গভীরতর করে এবং সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করে।

তিনি কোরআনকে কেবল ধর্মীয় গ্রন্থ হিসেবে দেখেননি, বরং এটিকে এক অনন্য ভাষাগত ও আধ্যাত্মিক রচনা হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন, যা তার চিত্রায়ন, গভীর অর্থ ও নৈতিক বক্তব্যের শক্তিতে বিস্ময়কর।

কোরআনের সমৃদ্ধ ভাষা, আধ্যাত্মিক উচ্চতা এবং কবিতাসুলভ বাগ্মিতাকে তাকে মুগ্ধ করেছিল। তিনি এতে মানুষ ও বিশ্বসংক্রান্ত সম্পর্ক বোঝার একটি নতুন দৃষ্টান্ত খুঁজে পেয়েছিলেন। কোরআনের সঙ্গে এই প্রাথমিক সাক্ষাৎ হুগোর পরবর্তী রচনায় স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছিল, বিশেষ করে দুঃখী ও নিপীড়িতদের প্রতি তার সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে এবং স্রষ্টার করুণা ও ন্যায়ের ধারণা নিয়ে গভীর আগ্রহে।

হুগোর ইসলামবিষয়ক সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতাগুলো তার ‘দ্য লেজেন্ড অব দ্য সেঞ্চুরিজ’ (La Légende des siècles)’ সংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে। বিশেষত তার ‘দ্য নাইন্থ ইয়ার অব দ্য হিজরা (L’An neuf de l’Hégire)’ কবিতায় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শেষ দিনগুলোর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে এমন একজন মানুষ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে যার দুটি গুণ ছিল—বিশ্বাসের দৃঢ়তা এবং ধর্মপ্রচারের ক্ষেত্রে মানবিকতা।

এই কাব্যসংকলনে আরো কিছু কবিতাও রয়েছে, যেমন—‘মুহাম্মদ’ এবং ‘শাজারাতুল-সদর’, যা হুগোর কোরআনের আধ্যাত্মিক দিক, আরবি ভাষার সৌন্দর্য এবং কোরআন পাঠের সুরের প্রতি তার গভীর আগ্রহের সাক্ষ্য বহন করে।

এই রচনাগুলোতে আমরা সেই ব্যঙ্গাত্মক ভাষা পাই না, যা হুগোর অনেক সমসাময়িক লেখকের লেখায় দেখা যায়। দেখতে পাই এমন রচনা, যা মহাজাগতিক চিত্রে পূর্ণ—মরুভূমি, আকাশ, নূর, সুকুন ও ওহি। যেন বিখ্যাত ফরাসি সাহিত্যিকের কল্পনায় ইসলাম কেবল ভূগোল বা ইতিহাস না, একটি অস্তিত্বমূলক অবস্থা, যা মানুষের স্বভাব ও জীবনের গন্তব্যের মৌলিক প্রশ্নগুলোর সঙ্গে মিলে যায়।

সাংস্কৃতিক সেতু

হুগোর রচনায় সবচেয়ে শক্তিশালী দিকগুলোর একটি হলো তার আন্তরিক প্রশংসা এবং স্পষ্টতা। তিনি কখনো এমন ইঙ্গিত দেননি যে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং তার প্রশংসাকে কোনো ধর্মীয় সাক্ষ্য তৈরি করার চেষ্টা করেননি। এখানে প্রশংসা মূলত সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক; পঠন ও মনন থেকে উদ্ভূত, কোনো ধর্মীয় রূপান্তর থেকে নয়।

এটাই তার লেখা সত্যনিষ্ঠ করে তোলে: হুগো ইসলামের ‘অভ্যন্তরীণ’ ভাষায় কথা বলেননি, বরং তিনি একজন স্বাধীন বুদ্ধিজীবীর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন, যিনি এই ধর্মকে এক মহান মূল্যবান মানবিক উপাদান হিসেবে দেখেন, যা শ্রদ্ধা এবং মনোনিবেশের যোগ্য।

হুগোর সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক বোঝার জন্য অবশ্যই ১৯শ শতকের ইউরোপীয় ওরিয়েন্টালিজমের প্রেক্ষাপটকে সামনে রাখা প্রয়োজন। তখন দুটি প্রবণতা ছিল—একদিকে ইসলাম নিয়ে সমালোচনা ও পক্ষপাত, অন্যদিকে আগের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি কৌতূহল।

হুগো সমালোচনার ক্ষেত্রে এমন সচেতনতা ধারণ করতেন, যা তাকে অন্য সংস্কৃতির প্রতি সরল ও অগভীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করেছিল। এ কারণেই তিনি অনন্য অবস্থানে দাঁড়ান। ইসলামের বিষয়ে তিনি মানবিক ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্মান ও গভীরতার সঙ্গে লিখেছেন।

এছাড়া হুগোর ওপর ইসলামের প্রভাব কেবল এককভাবে ইসলামিক রচনা বা গ্রন্থ থেকে এসেছে তা নয়; সমকালীন ফরাসি সাহিত্যের প্রভাব থেকেও এসেছে, যা কখনো কখনো ইসলামকে আধ্যাত্মিক বা নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিশ্লেষণ করেছে। তার সমসাময়িক লেখক, যেমন—আলফঁস দ্য লামার্তিন এবং আলেক্সান্ডার দ্যুমা, নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং ইসলামি ইতিহাস নিয়ে লিখেছেন। এগুলো এমন একটি সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক পটভূমি তৈরিতে অবদান রেখেছিল, যা হুগোকে সতর্কতা, বিবেচনা এবং ব্যাপক অন্তর্দৃষ্টির সঙ্গে ইসলামের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম করেছিল।

সভ্যতার সংলাপে সাক্ষী

পশ্চিমা সাহিত্যে ইসলামের পাঠ কেবল তুলনামূলক সংস্কৃতির অনুশীলন নয়। মানুষে-মানুষে সম্পর্কের সেতু নির্মাণ করার নতুন ধারণা। এই প্রেক্ষাপটে, হুগোর কবিতা ভিন্ন একটি সংস্কৃতির প্রতি একধরনের জানালা খোলে—যা সব ধরনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, ভয় বা স্টেরিওটাইপ এবং সভ্যতাগত দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে গিয়ে সংলাপের সুযোগ করে দেয়।

এই প্রসঙ্গে হুগো তার কবিতা ও চিন্তা ব্যবহার করেছেন মুসলিম সংস্কৃতিকে পশ্চিমা পাঠকের কাছাকাছি করার জন্য, যেখানে বিভাজনের বদলে মানবতা ও নৈতিকতা ওপর, ধর্মীয় দ্বন্দ্বের পরিবর্তে কমন মূল্যবোধের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে।

হুগোর ওপর ইসলামের প্রভাব ছিল সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক এবং বৌদ্ধিক; এই ফরাসি সাহিত্যিক তার রচনায় এমন অস্তিত্বমূলক প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন, যা তিনি প্রচলিত খ্রিষ্টধর্মে খুঁজে পাননি। ফলে এই দৃষ্টিভঙ্গি তার কবিতা ও সাহিত্যিক রচনায় গভীর প্রভাব ফেলেছে।

নবিজির প্রতি তার শ্রদ্ধা এবং কবিতায় নবিজির মানবিক চিত্রায়ন পশ্চিমা সাহিত্যে একটি বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। কারণ খুব কম অমুসলিম কবি নবীর প্রতি এমন কোমলতা ও গভীরতা নিয়ে লিখেছেন।

প্যারিস থেকে মক্কা, ইউরোপীয় ‘এনলাইটমেন্ট’ থেকে প্রাচ্যের আধ্যাত্মিকতা, ভিক্টর হুগোর লেখায় সভ্যতার সংঘাতের চেয়ে সংলাপ ও বোঝাপড়ার সম্ভাবনাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তার কাছে ইসলাম হলো মানবিকতা, আধ্যাত্মিকতা, অনুপ্রেরণা ও চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তার সাহিত্য আমাদের দেখায়, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যেও শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া সম্ভব।

বাংলা : সিয়াম আন নুফাইস

সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নেপালে ১০ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

‘বিদ্যুৎ নিয়ে বারবার কারিগরি ত্রুটি নাশকতা নাকি ষড়যন্ত্র—ভাবতে হবে’

চট্টগ্রাম নগরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

মুকসুদপুরে হোটেলে বাকি না দেওয়ায় ভাঙচুর

বাসাইলে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নারী নিহত

পুঠিয়ায় অবৈধভাবে মজুত করা ৩৩০ বস্তা সার জব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নবীনবরণে কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি শিক্ষার্থীদের

নিলামের জিরার ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি, দুই সহযোগীসহ আটক ছাত্রদল নেতা

শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ১৫ অনুশাসন বাস্তবায়নে মাঠে শিক্ষা প্রশাসন

‘পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট না হলেও বেতন দ্বিগুণের খবরে বেড়েছে দ্রব্যমূল’