হোম > সাহিত্য সাময়িকী > গল্প

সাঈদের ফিলিস্তিন : আধিপত্যবাদ ও আগামীর বিশ্ব

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন

এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ তাত্ত্বিক, সাহিত্য-সমালোচক এবং আপসহীন জনবুদ্ধিজীবী। আলোচনার শুরুতেই একটি ঐতিহাসিক ও তথ্যগত ভ্রান্তি নিরসন করা প্রয়োজন; অনেকেই তাকে ইহুদি বংশোদ্ভূত মনে করলেও তিনি মূলত জেরুজালেমের এক ফিলিস্তিনি আরব খ্রিষ্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তবে তার এই ব্যক্তিগত জন্মপরিচয় ছাপিয়ে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠেছে বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষের, বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের অবিসংবাদিত কণ্ঠস্বর হিসেবে। সাঈদ কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতিসত্তার বিরুদ্ধে নন, বরং ইহুদিবাদ ও ইহুদি আধিপত্যবাদের নামে পরিচালিত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে তার সারা জীবনের দার্শনিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন। তার বিখ্যাত তিনটি গ্রন্থ—‘ওরিয়েন্টালিজম’, ‘দ্য কোয়েশ্চান অব প্যালেস্টাইন’ এবং ‘কালচার অ্যান্ড ইম্পেরিয়ালিজম’—মূলত পশ্চিমা আধিপত্যবাদ ও ইসরাইলি দখলদারিত্বের মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত ভিত্তি উন্মোচন করেছে। সাঈদের এই তাত্ত্বিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে ইসরাইলের উপনিবেশবাদী নীতির বিরুদ্ধে দার্শনিক জনমত তৈরি করা এবং একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ আগামীর বিশ্ব নির্মাণ করা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

সাঈদের দার্শনিক চিন্তার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হলো তার প্রাচ্যতত্ত্ব বা ‘ওরিয়েন্টালিজম’ ধারণা, যা তিনি ১৯৭৮ সালে প্রকাশ করেন। ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ক্ষমতা ও জ্ঞানতত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সাঈদ দেখিয়েছেন, কীভাবে পশ্চিমা বিশ্ব প্রাচ্যকে সংজ্ঞায়িত করেছে নিজেদের শাসন ও শোষণের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য। পশ্চিমা জ্ঞানতত্ত্বে প্রাচ্যকে সবসময় অযৌক্তিক, বর্বর, নারীসুলভ ও পশ্চাৎপদ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যার বিপরীতে পশ্চিম নিজেদের যৌক্তিক, সভ্য, পুরুষালি ও প্রগতিশীল হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এই দ্বৈতবাদী বিভাজন কেবল সাহিত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি ভয়ংকর হাতিয়ার।

ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর তাদের চলমান আধিপত্যবাদের মূল শেকড় এই প্রাচ্যতাত্ত্বিক বয়ানের মধ্যেই নিহিত। ইহুদিবাদ বা জায়নবাদ মূলত ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের একটি উপজাত। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে যখন জায়নবাদী আন্দোলনের সূচনা হয়, তখন তারা ফিলিস্তিনকে এমন একটি ভূখণ্ড হিসেবে চিত্রিত করেছিল, যেখানে কোনো সভ্য মানুষের বসবাস নেই। জায়নবাদের একটি বহুল প্রচলিত স্লোগান ছিল—‘ভূমিহীন মানুষের জন্য মানুষহীন একটি ভূমি।’ সাঈদ তার তত্ত্বে দেখিয়েছেন, ফিলিস্তিনে যে শত শত বছর ধরে আরব জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও বসবাস ছিল, তাকে সম্পূর্ণ সুপরিকল্পিতভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। এই অস্বীকার করার প্রক্রিয়াটিই হলো প্রাচ্যতত্ত্বের সবচেয়ে নির্মম প্রয়োগ। পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের সন্ত্রাসী বা বর্বর হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের ওপর চালানো জাতিগত নিধনকে সভ্যতার লড়াই হিসেবে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে। সাঈদের প্রাচ্যতত্ত্ব আমাদের সেই চোখ খুলে দেয়, যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি ইসরাইলের এই আধিপত্যবাদ কোনো দৈব অধিকার নয়, বরং এটি ক্ষমতা ও শোষণের এক সুগভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক ষড়যন্ত্র।

১৯৭৯ সালে প্রকাশিত ‘দ্য কোয়েশ্চান অব প্যালেস্টাইন’ গ্রন্থে এডওয়ার্ড সাঈদ সরাসরি ফিলিস্তিন সংকট এবং জায়নবাদী বয়ানের দার্শনিক বিনির্মাণ করেছেন। এই গ্রন্থে তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন কীভাবে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বকে বিশ্ব মানচিত্র এবং পশ্চিমা চেতনা থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। সাঈদ জায়নবাদকে নিছক একটি ইহুদি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন হিসেবে দেখতে নারাজ ছিলেন; তার মতে, এটি আদ্যোপান্ত একটি বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশবাদ।

ইউরোপে ইহুদিদের ওপর সংঘটিত হলোকাস্ট বা নিধনযজ্ঞ মানব ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায়—সাঈদ কখনোই এই সত্যকে অস্বীকার করেননি। কিন্তু তার দার্শনিক আপত্তি ছিল অন্য জায়গায়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ইউরোপের মাটিতে সংঘটিত একটি ঐতিহাসিক অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত কেন মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিনিদের রক্ত ও ভূমির বিনিময়ে করতে হবে? জায়নবাদীরা হলোকাস্টের ট্রমাটিক স্মৃতিকে ব্যবহার করে একটি ভুক্তভোগীর বয়ান তৈরি করেছে এবং এই বয়ানের আড়ালে তারা নিজেরাই ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ক হয়ে উঠেছে। সাঈদ একে একটি গভীর নৈতিক স্ববিরোধিতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, ইসরাইলের রাষ্ট্রযন্ত্র ফিলিস্তিনিদেরকে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করে এবং তাদের নাগরিক অধিকার হরণ করে যে বর্ণবাদ কায়েম করেছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সাঈদ পশ্চিমা উদারনীতিবাদের দ্বিচারিতাকেও তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন। যেসব পশ্চিমা রাষ্ট্র নিজেদের মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন বলে দাবি করে, তারাই আবার ইসরাইলের নগ্ন আগ্রাসনকে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়ে যায়। সাঈদের মতে, ফিলিস্তিন প্রশ্নটি কেবল একটি ভূখণ্ডের বিরোধ নয়, এটি আধুনিক বিশ্বের নৈতিকতা এবং ন্যায়বিচারের এক চূড়ান্ত পরীক্ষা। ইসরাইলি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার জন্য ফিলিস্তিনিদের আত্মপরিচয় এবং তাদের ঐতিহাসিক বঞ্চনার আখ্যানকে বিশ্বমঞ্চে জোরালোভাবে তুলে ধরার কোনো বিকল্প নেই।

সাঈদের চিন্তার আরেকটি যুগান্তকারী সম্প্রসারণ ঘটে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত ‘কালচার অ্যান্ড ইম্পেরিয়ালিজম’ গ্রন্থে। এই গ্রন্থে তিনি দেখিয়েছেন—কীভাবে সাম্রাজ্যবাদ কেবল সামরিক বা অর্থনৈতিক আগ্রাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি সংস্কৃতির গভীরে প্রোথিত থাকে। উপন্যাস, গণমাধ্যম, শিল্পকলা ও ইতিহাসচর্চার মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তাদের আধিপত্যকে স্বাভাবিক করে তোলে। ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে এই সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট।

পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যম এবং হলিউডের চলচ্চিত্রে আরব ও ফিলিস্তিনিদের নিয়মিতভাবে নেতিবাচক ও হুমকিস্বরূপ উপস্থাপন করা হয়। এর ফলে বিশ্ববাসীর অবচেতনে এমন একটি ধারণা তৈরি হয় যে, ইসরাইল হলো মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা গণতন্ত্র ও প্রগতির একমাত্র প্রদীপ, আর ফিলিস্তিনিরা হলো সেই প্রদীপ নেভানোর চেষ্টায় লিপ্ত অন্ধকার শক্তি। সাঈদ এই সাংস্কৃতিক আধিপত্য ভাঙার জন্য ‘প্রতিস্বরের পঠন’ নামক একটি পদ্ধতির প্রস্তাব করেন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি পাঠককে মূল ভূখণ্ডের বাইরে প্রান্তিক ও উপনিবেশিত মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইতিহাস ও সাহিত্য পাঠ করার আহ্বান জানান।

ইসরাইলের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করার জন্য এই সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরি। সাঈদের মতে, ফিলিস্তিনিদের নিজেদের গল্প নিজেদেরই বলতে হবে। তাদের সাহিত্য, কবিতা, চলচ্চিত্র ও শিল্পের মাধ্যমে যে প্রতিরোধের ভাষ্য তৈরি হবে, তা ইসরাইলের শক্তিশালী সামরিক বয়ানকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম। মাহমুদ দারউইশের কবিতা বা ঘাসান কানাফানির সাহিত্য যেভাবে ফিলিস্তিনিদের বেদনার কথা বলে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেককে জাগ্রত করার মোক্ষম হাতিয়ার। একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়তে হলে সামরিক শক্তির পাশাপাশি এই সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের পতন ঘটানো অপরিহার্য।

এডওয়ার্ড সাঈদ কেবল একজন তাত্ত্বিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন আপসহীন জনবুদ্ধিজীবী। তার মতে, একজন বুদ্ধিজীবীর প্রধান কাজ হলো ক্ষমতার সামনে সত্য কথা বলা। তিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি, তা সে অন্যায় ইসরাইল করুক, পশ্চিমা বিশ্ব করুক অথবা ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব নিজেই করুক। ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তিকে যখন অনেকেই শান্তির পথে বিরাট পদক্ষেপ হিসেবে উদ্‌যাপন করছিল, সাঈদ তখন এর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত দূরদর্শিতার সঙ্গে বুঝতে পেরেছিলেন, অসলো চুক্তি ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র দেবে না, বরং এটি ফিলিস্তিনি নেতৃত্বকে ইসরাইলি দখলদারিত্বের পাহারাদার বা সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে পরিণত করবে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সাঈদের সেই সতর্কবার্তার সত্যতা আমরা ফিলিস্তিনের বর্তমান বাস্তবতায় মর্মান্তিকভাবে দেখতে পাচ্ছি।

ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে সাঈদ শেষ জীবনে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পরিবর্তে এক-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, ইসরাইল যেভাবে ফিলিস্তিনের ভূমিতে অবৈধ বসতি স্থাপন করে পুরো ভূখণ্ডকে বিভক্ত করে ফেলেছে, তাতে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করা ভৌগোলিকভাবে প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া বিভাজন এবং দেয়াল তুলে কখনো স্থায়ী শান্তি আসতে পারে না। তাই তিনি এমন একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলিম—সবাই সমান নাগরিক অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারবে।

সাঈদের এই এক-রাষ্ট্র সমাধানটি কোনো ইউটোপিয়া বা অলীক কল্পনা নয়, বরং এটি ইহুদিবাদী আধিপত্যবাদকে সমূলে উৎপাটন করার একটি দার্শনিক ও রাজনৈতিক রূপরেখা। ইহুদিবাদ একটি নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের জন্য বর্জনশীল রাষ্ট্রের কথা বলে, যা স্বভাবতই বর্ণবাদের জন্ম দেয়। এর বিপরীতে সাঈদের রূপরেখাটি হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক, যা বহুসংস্কৃতিবাদ ও মানবিক সমতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

আজকের দিনে যখন আমরা একটি নিরাপদ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি, তখন এডওয়ার্ড সাঈদের তত্ত্বগুলো আমাদের জন্য একটি বাতিঘর হিসেবে কাজ করে। ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন, গাজায় চলমান অমানবিক অবরোধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে যে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ হচ্ছে, তার তাত্ত্বিক ভিত্তি সাঈদ বহু আগেই রচনা করে গেছেন। ইসরাইলের বিরুদ্ধে দার্শনিক জনমত তৈরি করার অর্থ হলো সমগ্র বিশ্ব থেকে ঔপনিবেশিক মানসিকতা এবং বর্ণবাদের অবসান ঘটানোর দাবি তোলা।

আগামী দিনের নিরাপদ পৃথিবী গড়ার জন্য আমাদের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দার্শনিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। এটিকে বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের একটি জীবন্ত মডেল হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জ্ঞানতাত্ত্বিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে। পশ্চিমা মিডিয়া এবং একাডেমিয়া যেভাবে ইসরাইলকে বৈধতা দেয়, তার বিরুদ্ধে পাল্টা বয়ান তৈরি করতে হবে। সাঈদের ভাষায়, ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজেদের আখ্যানের রচয়িতা হতে হবে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সংহতি গড়ে তুলতে হবে। ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রামকে বিশ্বের অন্যান্য নিপীড়িত জাতিগোষ্ঠীর মুক্তি সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, এডওয়ার্ড সাঈদ আমাদের শিখিয়েছেন, সত্যিকারের মানবতাবাদ কেবল ইউরোপীয় দর্শনের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। সত্যিকারের মানবতাবাদ তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন পৃথিবীর সবচেয়ে প্রান্তিক ও নিপীড়িত মানুষটির, অর্থাৎ একজন ফিলিস্তিনির বাঁচার অধিকার এবং আত্মমর্যাদাকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ইসরাইলি আধিপত্যবাদের পতন ঘটিয়ে ফিলিস্তিন প্রশ্নের একটি ন্যায়সংগত সমাধান ছাড়া একুশ শতকে কোনো নিরাপদ ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সাঈদের চিন্তার উত্তরাধিকার আমাদের সেই লড়াইয়ে সাহস ও তাত্ত্বিক রসদ জোগায়, যাতে আমরা অন্ধকারের বুক চিরে একটি নতুন ও সমতাভিত্তিক আগামীর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতে পারি।

আমাদের জাতীয়তা

শোল মাছের ঝোলের পরে

ঢাকার রঙিন রমজান

বিজ্ঞান, সুফিবাদ ও প্রেমের অলৌকিক তর্জমা

সেই রাতে

রুহিতা নায়িকা হতে চেয়েছিল

প্যারালাল ইউনিভার্স থেকে

যেভাবে বেড়ে উঠি (তৃতীয় পর্ব)

অপেক্ষা ও অশরীরী জ্যামিতি

পতাকা