জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে চট্টগ্রামের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নাম করণ করা হয়েছে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। অভ্যুত্থানের অগ্নিঝরা সময়ে ১৬ জুলাই বেলা ৩টার দিকে শহরের মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের দ্বিমুখী সংঘর্ষে শহীদ হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম।
শুক্রবার উদ্বোধনের পর উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, জুলাই-অগাস্টের শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে তার নামে চট্টগ্রামে একটা উড়াল সেতু নাম করণ করা হলো। চট্টগ্রামে জুলাই স্মৃতি উদ্যান নামে একটি উদ্যানেরও নাম করণ করা হয়েছে।
এই এক্সপ্রেসওয়েতে উঠলেই মনে পড়বে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ও চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়াসিম আকরামের নাম। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে চট্টগ্রামবাসী। এমন ব্যতিক্রম একটি উদ্যোগের সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও। এরপর উদ্বোধন করা হয় জাতিসংঘ পার্ক যা
বর্তমানে জুলাই স্মৃতি উদ্যান।
উপদেষ্টা আদিলুর বলেন, বাংলাদেশে যেন আর কখনোই ফ্যাসিবাদ ফেরত আসতে না পারে, আগামী দিনের প্রজন্ম যেন এ উদ্যানে এসে বা উড়াল সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কথা মনে রাখতে পারেন, তাদের ত্যাগের কথা মনে রাখতে পারেন সেই জন্যই মূলত উড়াল সেতু ও উদ্যানের উদ্বোধন।
ওয়াসিম আকরাম ও জুলাই-আগস্টে আহত নিহতদের স্মরণ করে উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভুত্থানে প্রথম শাহাদাত বরণ করেছিলেন ওয়াসিম আকরাম। তাঁর নামেই এই উড়াল সেতু। সারাদেশে যারা এই জুলাই অভুত্থানে শাহাদাত বরণ করেছেন তাদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় স্মৃতি চিহ্ন তৈরি করছি। শহীদরা শহীদ। শহীদদের তালিকা দেওয়া থাকবে। শহীদদের সম্মান দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।
এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি নিয়ে প্রথম উঠেছেন ব্যবসায়ী মো: শামিম। তিনি বলেন, চারমাসে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। সরকারকে একটু ধীর মনে হলেও, ঠিক পথেই হাঁটছে। জুলাইয়ের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের নাম দেখে ভালো লাগলো। তরতাজা এমন তরুণের জীবনের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন।
উদ্বোধনের সময় ছিলেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। তিনি বলেন, যে চেতনা নিয়ে আমাদের এই জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের নয়জন বীর শহীদ প্রাণ দিয়েছেন, নতুন একটি গণতান্ত্রিক ইতিহাস লিখেছেন তাদের সেই চেতনা আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারি সরকার সেই কাজ করছে। এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। যেসব পার্ক অবৈধ দখলদারদের আওতায় রয়েছে তা উদ্ধার করবো। ইতিমধ্যে ডিসি পার্কের ১৯৪ একর জায়গা মাদকের আস্তানা থেকে রক্ষা করেছি। পতেঙ্গা মাঝখানে জৌলুস হারিয়েছিল। সেই জৌলুস ফিরিয়ে দিতে সিডিএ, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমন্বিত প্রচেষ্টা চলছে।
এমএস