রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় আমার দেশ-এর নিজস্ব প্রেসের সামনে বোমা হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। সোমবার সকালে পূর্বনির্ধারিত একটি কর্মসূচিতে যোগদান শেষে দুপুরে তিনি প্রেস পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে মাহমুদুর রহমান বোমা হামলায় আহত নিরাপত্তাকর্মী আকতারকে সান্ত্বনা দেন এবং তার কাছ থেকে রোববার রাতের ঘটনা বিস্তারিত শোনেন।
এ সময় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ঘটনার পর পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে মাহমুদুর রহমানকে অবহিত করেন।
ওসি জানান, ঘটনার পরপরই রোববার রাতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ঘটনার রাতে আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে থানায় যে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে, সেটিকে মামলায় রূপান্তর করা যাবে।
মাহমুদুর রহমানের প্রেস পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, সহযোগী সম্পাদক আলফাজ আনাম এবং প্রেসের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার শহীদুর রহমান খান।
এর আগে রোববার রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে আমার দেশ-এর নিজস্ব প্রেসের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মোটরসাইকেলে দুজন ব্যক্তি এসে প্রেসের সামনে ককটেল দুটি নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এতে একটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। মানুষ ছোটাছুটি শুরু করে। পরে লাল টেপে মোড়ানো অপর একটি অবিস্ফোরিত ককটেল ঘটনাস্থলে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ককটেল বিস্ফোরণে প্রেসের নিরাপত্তাকর্মী আকতার হোসেন ও সামনের পানের দোকানদার রিনা খানম আহত হন। পরে তারা দুজনই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে তেজগাঁও থানার পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা দ্রুত সেখানে পৌঁছান। পুলিশ দুর্বৃত্তদের ধরতে আশপাশের এলাকায় রেকি ও তল্লাশি চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ২০১০ সালেও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং তেজগাঁও সাত রাস্তার মোড়ে হাতুড়ি দিয়ে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছিল।
এনইসির উদ্বেগ ও নিন্দা
আমার দেশ-এর প্রেস লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ এবং রাস্তায় অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)।
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, সহসভাপতি ও যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এবং কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
নেতারা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা বলেন, সংবাদপত্রের অফিস ও প্রেসে বোমা নিক্ষেপের এ ঘটনা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর আঘাত হানার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে এনইসি নেতারা বলেন, ‘আমরা আশা করি, সংবাদমাধ্যমের ওপর এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।’
জামায়াতে ইসলামীর উদ্বেগ ও নিন্দা
আমার দেশ-এর নিজস্ব প্রেসের সামনে বোমা নিক্ষেপ ও দুজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিঞা গোলাম পরওয়ার এই নিন্দা ও উদ্বেগের কথা জানান।
বিবৃতিতে মিঞা গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দৈনিক আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে দুর্বৃত্তদের ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের কার্যালয় ও সংবাদপত্রের ছাপাখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের সহিংস হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ঘটনায় প্রেসের নিরাপত্তাকর্মী আকতার হোসেন ও সামনের পানের দোকানদার রিনা খানম আহত হওয়ার ঘটনায় আমি তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। গণমাধ্যমের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি আমার দেশ-এর প্রেসসহ দেশের সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এনসিপির নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রেসের সামনে ককটেল নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনা এই নিন্দা ও উদ্বেগের কথা জানান।
বিবৃতিতে এনসিপি জানায়, ‘গত ২৫ অক্টোবর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় প্রেসের নিরাপত্তারক্ষী আকতার হোসেন ও স্থানীয় এক দোকানি রিনা খানম আহত হয়েছেন। তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে এনসিপি। গণমাধ্যমের কার্যালয় ও ছাপাখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের সহিংস ঘটনা শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাহীনতাই তুলে ধরে না; দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির চিত্রও তুলে ধরে।
স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশের জন্য এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অপরিহার্য শর্ত। কোনো ধরনের ভয়ভীতি, সহিংসতা কিংবা হামলার মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এনসিপি এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক আমার দেশ-এর প্রেসসহ দেশের সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।’