ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের পূর্ব চত্বরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা ও প্রকাশনা খাতের বিরুদ্ধে অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিকর দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অংশগ্রহণকারী প্রকাশকরা। প্রকাশকরা অভিযোগ করেন, গুটিকয়েক বই ও লেখককে কেন্দ্র করে ঢালাওভাবে পুরো ইসলামি বইমেলা, সকল প্রকাশনা ও প্রকাশকদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এ সময় সাংবাদিকদের ইসলামি প্রকাশনা খাতকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানান তারা।
শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের পূর্ব চত্বরে ‘ইসলামী বইমেলা ও প্রকাশনা সেক্টরের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষীদের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান প্রকাশকরা। প্রকাশকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিয়ান পাবলিকেশন্স এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু তাসমিয়া আহমদ রফিক।
আহমদ রফিক বলেন, কোনো নির্দিষ্ট বই নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ অভিযোগ থাকলে বইয়ের নাম, আপত্তিকর অংশ, অধ্যায় ও স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া লেখক বা প্রকাশকের অতীত পরিচয়ের ভিত্তিতে পুরো একটি প্রকাশনা খাতকে অভিযুক্ত করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতি পরিপন্থি।
তিনি আরো বলেন, কোনো বই প্রকাশ বা বিক্রি করা মানেই প্রকাশকের পক্ষ থেকে তার আদর্শিক বা নীতিগত সমর্থন নয়। বাংলাদেশে অ্যাডলফ হিটলারের ‘মাইন কাম্পফ’, মাও সেতুং কিংবা জোসেফ স্টালিনের রাজনৈতিক রচনা ও মার্কসবাদী তাত্ত্বিক বই অনায়াসে বিক্রি হলেও যদি প্রশ্ন না ওঠে, তবে ইসলামি বই বা প্রকাশকদের ক্ষেত্রে কেন ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে সে প্রশ্ন আমরা তুলছি।
মেলার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হাজার হাজার কুরআন, হাদিস, তাফসির, ইতিহাস ও শিশু-কিশোর সাহিত্যের ইতিবাচক বইয়ের বিপরীতে গুটি কয়েক বিতর্কিত বই দিয়ে পুরো মেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা অনুচিত। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কোনো পূর্বনির্ধারিত ধারণা প্রয়োগ না করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পূর্ণ প্রেক্ষাপটে প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।
প্রকাশকরা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে প্রকাশিত প্রতিবেদন পুনরায় যাচাই, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনী প্রকাশের অনুরোধ জানান।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলা ২০২৬ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও রুহামা পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম, সন্দ্বীপন প্রকাশনীর প্রকাশক রোকন উদ্দিন, মাকতাবাতুল খিদমাহ প্রকাশক মাওলানা আবদুল মান্নান রাহনুমা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মাহমুদুল ইসলাম তুষার, মাকতাবাতুল আযহার-এর স্বত্বাধিকারী উবাইতুল্লাহ আযহারী, পেনফিল্ড পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী শিবলী মেহেদি, রাইয়ান প্রকাশনীর প্রকাশক মিথুন, মাকতাবাতুন নূর-এর প্রকাশক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।