হোম > জাতীয়

৭ জেলায় বজ্রপাতে শিশুসহ ১৪ জনের মৃত্যু

আমার দেশ অনলাইন

বজ্রপাতে দেশের সাত জেলায় রোববার ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়, বগুড়া ও নাটোরে একজন করে মারা গেছেন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে বজ্রপাতে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। একটি গরুও মারা গেছে। বিকেলে দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (৩২), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (২২) এবং নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (১২)।

জানা যায়, বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় ওই দুই তরুণ ও শিশু বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারায়। একই সময়ে পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। আহত শামীমকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দেলুয়াবাড়ি চরের নদীর ঘাট থেকে ঘোড়ার গাড়িতে করে গরুর খাবার খড় বাড়ি নেওয়ার পথে বজ্রপাতে মারাত্মক আহত হন মানিক মিয়া। আত্মীয়-স্বজনরা তাকে চিকিৎসার জন্য সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া সাঘাটায় মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নামবার আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, বিকেল তিনটার দিকে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। চারদিকে অন্ধকার নেমে আসে। এ সময় বাড়ির পাশেই মাঠে ছাগল আনতে গেলে বজ্রপাতের শিকার হয়ে মাটিতে লুটে পড়েন নামবার আলী। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাঘাটা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে গৃহবধূসহ দুজন

ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।

জানা গেছে, বেলা পৌনে দুটার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী। তখন আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে তিনি মারা যান।

অন্যদিকে কোষাডাঙ্গীপাড়ার বৈরামপুর এলাকায় দুপুরে জমিতে ফসল দেখতে যান ইলিয়াস। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

সিরাজগঞ্জে যুবকসহ দুজন

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বজ্রপাতে আব্দুল হামিদ (৪৮) নামে এক কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।

জানা যায়, আব্দুল হামিদ গ্রামের পূর্বদিকের মাঠে কয়েকজনের সঙ্গে ধান কাটতে যান। হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

এদিকে রায়গঞ্জে বজ্রপাতে হাসান শেখ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে বৃষ্টির সময় ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হাসান শেখ আব্দুল হালিম শেখের ছেলে।

জানা যায়, বিকেল পাঁচটার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজ জমিতে কাটা ধান জড়ো করছিলেন হাসান। এ সময় হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে হাসানের মৃত্যু হয়।

জামালপুরে গৃহবধূসহ দুজন

জামালপুরের মেলান্দহে বজ্রপাতে মর্জিনা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন শেফালি বেগম (২৮) নামে আরেক গৃহবধূ। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হাজরাবাড়ী পৌরসভার পশ্চিম কড়ইচড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বিকেলে গৃহবধূ মর্জিনা বাড়ির আঙিনায় খোলা আকাশের নিচে রান্না ও গৃহস্থালির কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতের কবলে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শেফালি বেগম মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়েন।

অপরদিকে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় ফসলের মাঠে কাজ করছিলেন হাসমত আলী। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হয়। এতে হাসমত আলী, আনোয়ার হোসেন ও মো. শাওন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসমত আলীর মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে চর যথার্থপুর এলাকায় একটি এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় চারটি গরু মারা গেছে।

পঞ্চগড়ে চা শ্রমিক

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে চা বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে চা শ্রমিক সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো দুই চা শ্রমিক।

বগুড়ায় যুবক

বগুড়ার গাবতলীতে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সুমন মো. আবদুল করিমের ছেলে।

জানা গেছে, বিকেল পৌনে চারটার দিকে এলাকায় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বাড়ির পাশের জমিতে থাকা নিজের ছাগল আনতে যান সুমন। জমিতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

নাটোরে ধানকাটা শ্রমিক

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বোরো ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সম্রাট (২৬) নামে এক ধান কাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেঙ্গাপাকুড়িয়া গ্রামের একটি ফসলি মাঠে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

সম্রাট সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে। তিনি সম্প্রতি ১৫-২০ জনের একটি শ্রমিক দলের সঙ্গে সিংড়া এলাকায় মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে ধান কাটতে এসেছিলেন।

জানা গেছে, সম্রাট ঠেঙ্গাপাকুড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আউয়ালের জমিতে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে ধান কাটার কাজ করছিলেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে মাঠের পাশের একটি ঘরে আশ্রয় নেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আকস্মিক বজ্রপাত হলে সম্রাট গুরুতর আহত হন। সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এমই

টানা তাপপ্রবাহের পর স্বস্তির মধ্যেও অস্বস্তি, কাল থেকে বাড়বে বৃষ্টি

এপ্রিলের ২৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৫৮ কোটি ডলার

শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি ‘জুলাই ঐক্যের’

দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে: সংসদে সেতুমন্ত্রী

জাতিসংঘে সরকারের ভিশন তুলে ধরছেন বাংলাদেশের কূটনীতিকরা

মেধাসম্পদ সুরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আবার ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে

সংসদে নিরাপত্তা চাইলেন নেত্রকোনা ৫ আসনের জামায়াত এমপি

সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হলেন সৈয়দ আবদাল আহমদ

পুলিশসহ জরুরি সেবা তেল রেশনিংয়ের বাইরে রাখা হয়েছে