রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় রোজিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূর পরকীয়া প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
পরকীয়ার খবর যাতে কেউ না জানে, সেজন্য মৃত্যুশয্যায় থাকা রোজিনা ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোজিনার পরকীয়া প্রেমিক টিটু ফোন করে রোজিনা ও তার এক বন্ধুকে জানিয়েছেন, তিনি নিজে ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং কিছুদিন পর মারা যাবেন। যেহেতু তিনি নিজে মারা যাবেন, তাই নিজের প্রেমিকাকেও দুনিয়ায় বাঁচতে দিতে চান না; এজন্যই তিনি ছুরিকাঘাত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে মেরুল বাড্ডার বাসা থেকে বের হন রোজিনা। তার সাথে ছিলেন পরকীয়া প্রেমিক টিটু নামের এক ব্যবসায়ী। রোজিনার সাথে তার প্রায় ৪ বছর ধরে সম্পর্ক চলে আসছিল।
টিটু তাকে নিয়ে মাওয়ার পদ্মা নদীর কাছে যান এবং সেখানে বেশ কিছু সময় কাটান তারা। সেখানে টিটু তাকে জোরপূর্বক হত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে টিটু তাকে রেখে পালিয়ে যান। সেখান থেকে স্পিডবোট চালক তাকে উদ্ধার করে পোস্তগোলা এলাকায় নিয়ে যান। পরে রোজিনা তার পূর্বপরিচিত আনোয়ারকে ফোন করেন। আনোয়ার তাকে বাড্ডার এম জেড হাসপাতালে ভর্তি করেন। রোজিনা আনোয়ারকে জানান, “আমার একটা সংসার আছে, একটা ছেলে আছে। পরকীয়ার বিষয়টি যেন কাউকে না জানানো হয়। জানালে সংসার ভেঙে যাবে।” রোজিনা মুঠোফোনে প্রেমিক টিটুর সাথে কথা বলে জানতে চান, কেন তাকে আঘাত করা হয়েছে। টিটু তাকে জানান যে, তিনি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত এবং বেশি দিন বাঁচবেন না। তাই নিজের প্রেমিকাকেও বাঁচতে দেবেন না। রোজিনা এ কথা তার পরিচিত আনোয়ারকে জানান। টিটু আবার রোজিনার মোবাইলে চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠিয়েছেন। জানা গেছে, রোজিনা প্রথমে তাঁর কাছের লোকজনকে বলেছিলেন যে, অজ্ঞাত ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে।
নিহতের ভাই জিহাদ সাংবাদিকদের জানান, বাসার পাশে টিটু নামে এক ব্যক্তি তার বোনকে বাসার সামনে থেকে নিয়ে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মো. আউয়ালের স্ত্রী রোজিনা। তাদের এক সন্তান আছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া।
এ বিষয়ে বাড্ডা থানার ওসি নেসারুল আমীন রোববার রাতে জানান, রোজিনার সঙ্গে এক যুবকের সম্পর্ক ছিল। সেই যুবক তাকে মেরেছে বলে শুনেছি। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় কোনো মামলা হয়নি; কারণ ঘটনা ঘটেছে মাওয়া এলাকায়।