ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জাল ভোট প্রদান, নির্বাচনি কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে গরমিল, আগে থেকেই ব্যালটে সিল মেরে রাখা এবং কেন্দ্র দখলের মতো একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন তার পর্যবেক্ষণের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
জামায়াত প্রার্থীর প্রধান অভিযোগগুলো:
• জাল ভোট ও কর্মী আটক: দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ভোট চলাকালে জাল ভোট দিতে গিয়ে বিএনপির পাঁচ থেকে ছয়জন কর্মী হাতেনাতে ধরা পড়েছেন।
• আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রভাব বিস্তার: বড় খোচাবাড়ী হাটসহ একাধিক কেন্দ্রে ধানের শীষের প্রতীক সংবলিত গেঞ্জি পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে বুথের ভেতরে ঢুকে ভোটদানে প্রভাব বিস্তার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করার পর তাদের কিছু সময় আটক রাখা হলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়, যা প্রশাসনের স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব বলে দাবি করেন তিনি।
• কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে অনিয়ম: কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের অনেকের কাছেই কোনো আইডি কার্ড ছিল না। অনেকের পরিচয়পত্রে ছবি ছিল না। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রকৃত কর্মকর্তাদের বদলে দলীয় লোকজনকে এসব দায়িত্বে বসানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
• ব্যালটে আগাম সিল ও ছিনতাই: অভিযোগ করা হয়, বেশ কিছু কেন্দ্রে ২০ থেকে ২৫টি করে ব্যালট পেপারে আগেই সিল মেরে রাখা হয়েছে। ভোটারদের দুই থেকে চারটি করে ব্যালট সরবরাহ করে জালিয়াতিতে সহায়তা করা হচ্ছে। পৌর এলাকার বুলবুল সেন্টারে সকালে প্রকাশ্যে টেবিলের ওপর ব্যালট ছিনতাই করে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
• অন্য প্রার্থীর এজেন্টের ওপর হামলা ও শিশুদের দিয়ে ভোট: ডাব প্রতীকের প্রার্থীর এজেন্টের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া রাজাগাঁও এলাকায় ছোট শিশুদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ভোট দেওয়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন জামায়াত প্রার্থী।