ফেসবুক পোস্টে রফিকুল ইসলাম মাদানী
মারকাযু শাহাবুদ্দিন আল ইসলামি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেছেন, আমিও আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? শুক্রবার এক পোস্টে তিনি এ মন্ত্রব্য করেন।
রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, ‘হেফাজত মহাসচিবের স্ত্রী মারা গেছেন। উনার সন্তানেরাই বৃদ্ধ বয়সে সহযোগিতার জন্য উনাকে বিয়ে করিয়েছেন। আজ সেটা নিয়েও কিছু জাহেল উল্টাপাল্টা বলছে। আমাকে তো এমন কোনো খারাপ ভাষা নেই যা প্রয়োগ করেনি!
আসলে দ্বিতীয় বিয়ে করলেই উল্টাপাল্টা বলার মানসিকতা কেন? ইসলামের এই বিধানটা আজ এদেশে এই পর্যায়ে যাওয়ার পিছনে কি আমাদের আলেম সমাজের দায় নেই?
এদেশে অসংখ্য আলেমের নাম বলা যাবে, যারা একাধিক বিয়ে করেছেন কিন্তু গোপন রেখেছেন। এদেশের অনেক বড় বড় আলেম, বড় পীর সাহেব—অনেকেই তাঁদের বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। আমিও আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। তাহলে সমস্যাটা কোথায়?
আসলে আজ যারা দ্বিতীয় বিয়ে করলেই গালাগালি করছে, এরা বড় হয়েছে হিন্দি সিরিয়াল দেখে দেখে—সতীনদের মধ্যে কূটনামি, সংসারে অশান্তি দেখে। তাই এদের মানসিকতা এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক। এরা কখনও নবী (আ.) কিংবা সাহাবিদের জীবনে তালাশ করবে না। এদের মাথায় কখনও এটা আসবে না যে, প্রথম স্ত্রীর প্রেগন্যান্সিকালীন সময়ে দ্বিতীয় স্ত্রী সহযোগিতা করতে পারে, কিংবা বাচ্চা হওয়ার পরও দ্বিতীয়জন প্রথমজনের সহযোগী হতে পারে।
এদের কাছে পার্কে, হোটেলে কিংবা পতিতালয়ে গিয়ে যৌন খাহেশাত পূরণ করে ডাস্টবিনে বাচ্চা ফেলে আসা নৈতিকতা; আর দ্বিতীয় বিয়ে করা অনৈতিকতা!
আজ কিছু মডারেট মোল্লা দ্বিতীয় বিয়ে না করে ইস্তিগফার পড়তে বলছে। তাদের বলি, তাহলে তো প্রথম স্ত্রীর কাছেও না গিয়েও শুধু ইস্তিগফার পড়া যায়! এরা আসলে মদিনার ইসলাম বুঝেনি; এরা এই নষ্ট সমাজের কাছে মাথানত করেছে।
হে মডারেট মোল্লারা, আপনারা ইসলামের বিধান নিয়ে কাদের কাছে মাথানত করছেন? যাদের কাছে আল্লাহর ফরজ বিধান জিহাদ মানেই সন্ত্রাস, গরু কুরবানি করা অমানবিকতা!
রাসুলুল্লাহ ﷺ একদিন একজন নারীর দিকে নজর যাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর একজন স্ত্রীর কাছে চলে যান এবং হাজত পূরণ করেন। হে মডারেট মোল্লা, তাহলে কি রাসুল ﷺ তোমার চেয়ে কম ইস্তিগফার জানতেন?
এই একাধিক বিয়েকে ঘৃণার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পিছনে আলেম সমাজও দায় এড়াতে পারে না। অতএব, এই সমাজ থেকে জিনা, পরকীয়া ও ব্যভিচার কমাতে হলে একাধিক বিয়ের এই ট্যাবু অবশ্যই ভাঙতে হবে।
আমি ওদের নিন্দা, হিংসা বা ট্রলের পরোয়া করি না। ।
“এবং তারা কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করে না
আমার জন্য আমার আল্লাহ তাআলাই যথেষ্ট।’