মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট অস্থিরতার ফলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের কাছে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে যে ১৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়। এর বাইরে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ করতে ভারত সরকারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, আপদকালীন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট সামাল দিতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত জ্বালানি চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা জানান, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো চিঠি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি ভারতের সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে।
এর আগে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে। আমরা তা গ্রহণ করেছি এবং দ্রুত ভারতের সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
ভারতের কাছে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ চাওয়ার প্রসঙ্গে প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানির জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছি। আমি এটি গ্রহণ করেছি এবং দ্রুত বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব।
তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভারত ও বাংলাদেশের অত্যন্ত শক্তিশালী সংযোগ রয়েছে। এটি আমাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং পাইপলাইন চালু রয়েছে। এই সহযোগিতা কীভাবে আরো জোরদার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশে ভারত থেকে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো মৈত্রী পাইপলাইন। ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩১ কিলোমিটার। এই আন্তঃদেশীয় পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি বাংলাদেশে ডিজেল পরিবহন করা হয়।
বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে সরবরাহের কথা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এর বাইরে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।