নিত্যপণ্যের খাদ্য মান নিয়ন্ত্রণ
পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের খাদ্য মান নিয়ন্ত্রণ ও ভেজাল প্রতিরোধে বিশেষ কার্যক্রম জোরদার করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এছাড়া নিম্নমানের পন্য বাজারজাত করায় ৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও শোকজ করেছে বিএসটিআই।
রোববার (১ মার্চ) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন— বিএসটিআই’র মহাপরিচালক এম. এ. কামাল বিল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তারা।
শিল্প সচিব বলেন, রমজানে ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট, বাজার তদারকি ও নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব ও পুলিশের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ইফতার ও সেহরিতে ব্যবহৃত খাদ্যপণ্য—যেমন ভোজ্যতেল, খেজুর, মুড়ি, সেমাই, নুডুলস, পানীয় ও দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। খোলা বাজার ও উৎপাদনস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বিএসটিআই’র ল্যাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় নিম্নমান প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বাজার থেকে পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
রমজান উপলক্ষে পরিচালিত বিশেষ নজরদারিতে মোট ১,০০৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৭৫০টি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ৭০১টি মানসম্মত এবং ৪৯টি নিম্নমানের পাওয়া গেছে। নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকজ করা হয়েছে।
গত জুলাই ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সাত মাসে বিএসটিআই ১,৫৩৭টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১,৪৭০টি মামলায় প্রায় ৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ সময়ে ১০৩টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয় এবং পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ১,৬২৩টি সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
শিল্প সচিব আরও বলেন, অনলাইনে নকল ও অবৈধ পণ্য বিক্রয় বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক অনলাইন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। ভোক্তাদের বিএসটিআই অনুমোদিত পণ্য ক্রয়ের জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে হটলাইন নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। তবে এ খাতের উন্নয়নে মান নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং রমজানজুড়ে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।