দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকায় তিন জেলার সাতটি নদীর আটটি পয়েন্টে পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র।
সংস্থাটি বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুরে ৬৫ মিলিমিটার, জারিয়াঝাঞ্জাইলে ৪৫ মিলিমিটার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আজ সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর বেসিনের ৩টি জেলার ৭টি নদীর ৮টি স্টেশনে পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আরও বলা হয়, সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদী ২ সেন্টিমিটার বেড়ে ৫১ সেন্টিমিটার ওপর (জগন্নাথপুর) দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নেত্রকোনা জেলার ধনু-বাউলাই নদী ২ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ১০ সেন্টিমিটার ওপরে (খালিয়াজুরি), সোমেশ্বরী নদী ৪ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ৩০ সেন্টিমিটার ওপরে (কলমাকান্দা), ভোগাই-কংশ ৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ৩২ সেন্টিমিটার ওপরে (জারিয়াঝাঞ্জাইল) এবং মগরা নদী ২ সেন্টিমিটার বেড়ে ৮৫ সেন্টিমিটার ওপরে (নেত্রকোনা) অবস্থান করছে। এছাড়া মগরা নদী ১ সেন্টিমিটার কমে আটপাড়া পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
হবিগঞ্জ জেলার কালনী নদী ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে ২৯ সেন্টিমিটার ওপরে (আজমিরীগঞ্জ) এবং সুতাং নদী ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে (সুতাং রেল ব্রিজ) বয়ে যাচ্ছে।
তবে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের নদীসমূহের পানি সমতল ঘণ্টায় শূন্য থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে ধীরগতিতে কমছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। ভারতের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আজ বৃহস্পতিবার সকালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হলেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা নেই। তবে এরপর থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।