জুলাই বিপ্লবে আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন কার্যক্রম গতিশীল রাখতে সংসদ সদস্যদের (এমপি) এক মাসের বেতন অনুদান হিসেবে চেয়েছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনটি বর্তমানে তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের অপারেশনাল অ্যাকাউন্টে বর্তমানে এক লাখ টাকারও কম অর্থ অবশিষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য এ আর্থিক সহায়তা চান তিনি।
কামাল আকবর বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের সহায়তার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার তহবিল এবং অন্যান্য উৎস থেকে তারা ১২০ কোটি টাকা পেয়েছিলেন। তবে আহতদের এ, বি, সি, ডি—এই চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে যে অর্থ সহায়তার ম্যান্ডেট তৈরি হয়েছে, তাতে প্রায় ১৪ হাজার আহতের জন্য মোট ৩৩৭ কোটি টাকার প্রয়োজন। ফলে বর্তমানে ২৩৭ কোটি টাকার একটি বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
১২০ কোটি টাকার খরচের হিসেব দিয়ে তিনি বলেন, এই টাকার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮৩২ শহীদ পরিবার ও ছয় হাজার ১২৭ জন জুলাই যোদ্ধাকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১০৫ টি পরিবারকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অনেককে ট্রেনিং দিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব কাজের পর এখন তহবিলে আর মাত্র তিন কোটি ৮০ লাখ টাকা আছে। কিন্তু আমাদের প্রয়োজন অনেক বেশি। কারণ আমরা অর্ধেকের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে এখনও কোনো সহায়তা করতে পারিনি। যখন বেশিরভাগ মানুষ কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সেবা না পান, তখন আস্থা হারিয়ে ফেলে। আমরা আস্থার সংকটেও আছি।
এছাড়া ফাউন্ডেশনের অফিস ভাড়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার প্রয়োজন হয় বলে জানান কামাল আকবর। তিনি বলেন, তবে বর্তমানে অপারেশনাল অ্যাকাউন্টে মাত্র এক লাখ টাকার নিচে অর্থ থাকায় আগামী মাসের বেতন ও অফিস খরচ চালানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এসময় তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্যরা জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজ এই অবস্থানে এসেছেন। তাই শহীদ ও আহতদের প্রতি তাদের একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। স্পিকার যেন সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং সকল দলের সংসদ সদস্যদের এক মাসের বেতন ফাউন্ডেশনে দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন, সেই আহ্বান জানাচ্ছি।
এ সময় দীর্ঘমেয়াদি আয়ের উৎস তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে ফাউন্ডেশন কাজ করছে বলে জানান অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব। তিনি বলেন, আমরা একটি জমি পেয়েছি। প্রাপ্ত জমি কোনো ডেভেলপারের মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে অফিস স্পেস ও ভাড়া থেকে নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আর অনুদানের ওপর নির্ভর করতে না হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সামসি আরা জামান তার সন্তান হারানোর বেদনা তুলে ধরে সাংবাদিকদের প্রতি সঠিক তথ্য প্রচারের অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, আমরা জুলাই নিয়ে বাঁচতে চাই, বাঁচিয়ে রাখতে চাই আমাদের সন্তানদের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই বিপ্লবকে। সেজন্য এই ফাউন্ডেশনকে টিকিয়ে রাখতে হবে।