উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, নিম্নচাপটি বর্তমানে ২১.৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৭.৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে। এটি পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরসমূহে ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা ৬টার আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতায় দেশজুড়ে বয়ে চলা তাপপ্রবাহ প্রশমিত হয়েছে। রোববার কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ১০১ মিলিমিটার এবং একই সময়ে রাজধানীতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে এদিন সিলেটে সর্বোচ্চ ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কোথায় কতটা বৃষ্টি হবে
রোববার দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই সময়ে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। দেশের কোথাও ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে ভারী এবং তারও বেশি অর্থাৎ ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে তাকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ধরা হয়।
রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের ঝুঁকি
টানা ভারী বর্ষণের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর নিচু এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া, চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিম্নচাপের প্রভাবে সারাদেশে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির প্রবণতা থাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতি উত্তাল রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি সংস্থাকে জরুরি প্রস্তুতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।